এসিজি শ্রাবণীকে বললেন, ‘ম্যাডাম, যদি মনে করেন, তা হলে এই বুড়ো লোকটার একটা পরামর্শ নিতে পারেন।’ নিজের মাথার চুলে হাত দিলেন এসিজি : ‘রমেশ শর্মাকে আপনি বিয়ে করবেন না। মিস্টার শর্মা খুব লোভী, অ্যামবিশাস এবং ধূর্ত বটে। উনি ঠিক মানুষ নন, মানুষের চেয়ে একটু কম…।’
এমনসময় কুমারমঙ্গলম এসে দাঁড়াল ক্যাপ্টেন সুখানির কাছে। নিচু গলায় বলল, স্যার, ভাইজাগ এসে গেছে—প্লেন এখন ল্যান্ড করবে।’
ক্যাপ্টেন সুখানি সকলের মুখের ওপরে একবার নজর বুলিয়ে বললেন, ‘আমরা আর কয়েকমিনিটের মধ্যেই ভাইজাগে ল্যান্ড করছি। পুলিশের কাছে এখনই রেডিয়ো মেসেজ পাঠিয়ে দিচ্ছি। আপনারা যার-যার সিটে বসে সিট-বেল্ট বেঁধে নিন। প্লিজ, মেক ইট কুইক।’
সবাই যখন চলে যাচ্ছে তখন অর্জন সুখানি এসিজিকে আর-একবার ধন্যবাদ জানিয়ে বললেন, ‘ডক্টর গুপ্ত, আই থ্যাংক য়ু এগেইন অন বিহাফ অফ ”আকাশ এয়ারলাইনস”। আমি চেয়ারম্যান সাহেবকে রেডিয়ো মেসেজে সব জানাচ্ছি।’
ক্যাপ্টেন চলে যাওয়ার পর রঙ্গলাল গোস্বামী গুটিগুটি পায়ে এসিজির কাছে এসে দাঁড়ালেন, চাপা গলায় বললেন, ‘এসিজি স্যার, দেখা গেল আপনার প্রতিভার লাইটনিং/ আকাশপথে খুনির সঙ্গে আপনার ফাইটনিং।’
এসিজি ভুরু কুঁচকে তাকালেন কবিবরের দিকে : ‘লাইটনিং না হয় বুঝলাম, রঙ্গলালবাবু, কিন্তু ফাইটনিংটা কী কেস?’
হাত কচলে বিনয়ে মাথা নোয়ালেন রঙ্গলাল, বললেন, ‘ওটা কবিতার আবেগ—মানে, ভেলোসিটি, এসিজি স্যার। ফাইট শব্দটাকে নিপাতনে সিদ্ধ করে ফাইটনিং করে দিয়েছি। স্বভাব-কবিতার এটাই তো বিউটি, স্যার…।’
