.
কভু গোপনে!
কিন্তু এটা বাহ্য। আসল গরদিশে পড়েছেন বাবাজি কিসিংগার। মার্কিনদের হনুকরণ করে (এপিং করে) নাম পর্যন্ত বদলালেন, হাইনরি কিসিংগার থেকে হেনরি কিসিংগারে! আরও কত কী না করলেন, কেরেস্তানদের সঙ্গে একদম লাইলি মজনুনের মতো দুই দেহে এক প্রাণ, হরিহরায়া হয়ে যেতে। ওদিকে ধাপ্পা দিলেন বিশ্বসুদ্ধ সবাইকে ইহুদিদের অবশ্যই বাদ দিয়ে তিনি প্রভু নিক্সনের উপদেষ্টারূপে চারটি বৃহৎ বিশ্বশক্তির সঙ্গে ফতো-গো করেন মাত্র : তারা রুশ, চীন, জাপান আর পশ্চিম ইউরোপের রাষ্ট্রপুঞ্জ (ফ্রান্স, ইংল্যান্ড, জর্মনি গয়রহ)। মধ্যপ্রাচ্যে? আজ্ঞে না। ওটা ডিল করছেন স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিজ একসেলেনসি রজার্স। ভাবখানা এই, আমি ইহুদির বেটা। আরব-ইজরায়েলের ফ্যাসাদে আমার নাক গলানোটা কি নিরপেক্ষ, সুবিবেচনার কর্ম হবে?
তাই দেখা গেল, কিসিংগার যখন ক্ষুদ্র-অসাধুতা (পেটি অ্যান্ড ডিজনেস্ট–ফরেন আপিসের একাধিক উচ্চ কর্মচারীর মতে) পদ্ধতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রিত্ব ছিনিয়ে নিলেন (এ্যাবড) তখন মিসরের জনৈক সম্পাদক, অস-সঈদ ইহসান আবদুল কুদ্দুস বললেন, আশা ছাড়ব কেন? ভেবে দেখুন, ফিল আখির- আফটার অল–বছরের পর বছর ধরে আমরা মি. রজার্সের সঙ্গে লেনদেন করার পর আখেরে আবিষ্কার করলুম, তিনি ক্লীব– শক্তিধর তার পিছনে গদাধর কিসিংগার! বিগলিতাৰ্থ তা হলে দাঁড়াল এই, আর বুদু। কিসিংগারই কলকাঠি নাড়িয়েছেন ইজরায়েলের হয়ে, শিখণ্ডী ছিলেন রজার্স। এটাকে যদি ধাপ্পা, প্রতারণা না বলে তবে বঙ্গজন দয়া করে শব্দদুটোর সংজ্ঞা জানাবেন কি?
.
কভু হাটের মধ্যিখানে!
এই কি তার শেষ? কিসিংগার রুশের সঙ্গে দোস্তি জমালেন স্বয়ং খোলাখুলিভাবে। হঠাৎ দেখি, ইয়াল্লা, হুড়হুড়িয়ে বানের জলের মতো ইজরায়েলের পানে রাশ করেছে রুশের ইহুদি-পাল! এরা যে ননী-মাখনে পোষা ইজরায়েলিদের চেয়ে হাজার গুণে সখৎ মোকাবিলা করতে পারবে আরবদের, সেটা স্বীকার করেছেন ঝাণ্ডু ঝাণ্ডুজঁদরেলগণ। চীন তো চটে গিয়ে রুশকে করেছে এর জন্যে দায়ী। কিসিংগারকে ছেড়ে দিয়ে কথা কইল কেন, সে আমি জানিনে।
.
সরল প্রশ্ন
কিন্তু আজ যে উদ্দেশ্য নিয়ে আপনাদের সেবক, এ মূর্খ, লেখাটি আরম্ভ করেছে সেটি ভিন্ন, কিন্তু উপরের বক্তব্যের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী-বিজড়িত। আমি নাদান, কিঞ্চিৎ এলেম সঞ্চয় করতে চাই আপনাদের কাছ থেকে।
(১) আশা করি সবাই স্বীকার করবেন, বাংলাদেশ বিশ্বসংসারে অসাধারণ শক্তিশালী এমন একটা রাষ্ট্র নয় যেখানে কোনও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেকে এ দেশের প্যারা করতে চাইবেন। আমার প্রশ্নটা পরে আসছে।
(২) কত রাজা, কত প্রেসিডেন্ট, কত প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ পদ গ্রহণ করার সময় নিত্যি নিত্যি শপথ নেন। তার কটা ফটো এই গরিব ঢাকার দৈনিকে বেরোয়, বুকে হাত দিয়ে বলুন তো।
(৩) তা হলে প্রশ্ন, হঠাৎ করে মি. কিসিংগার– রাজা না, প্রেসিডেন্ট না, এমনকি প্রধানমন্ত্রী না– ফরেন মিনিস্টারি নেবার সময় যে শপথ গ্রহণ করেন তার ছবি ঢাকার কাগজে কাগজে বেরুল কেন? নিশ্চয়ই ছবিটি মি. কিসিংগার যে ফরেন আপিসের বড় সাহেব হলেন, সে আপিসের ঢাকাসহ শাখা-প্রশাখা দ্বারা বিতরণ করা হয়েছে। তা হোক, কিন্তু প্রশ্ন, এই ছবিটাই বিশেষ করে কেন?
(৪) উপরের প্রশ্নটি যত না গুরুত্বব্যঞ্জক, তার চেয়ে মোস্ট ইম্পরটেন্ট, মি. কিসিংগারের সম্মানিতা মাতা যে বাইবেল হাতে করে শপথের সময় দাঁড়িয়ে আছেন, সেটা কে, কারা, কোন উদ্দেশ্য নিয়ে আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছেন? কত লোক কত ধর্মগ্রন্থ নিয়ে, বা কোনও ধর্মগ্রন্থ না নিয়ে শপথ করে, কই, সেটা তো আজ অবধি কোনও খবরের এজেন্সি বা ইনফরমেশন সার্ভিস চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখায়নি। বিশেষ করে বাংলাদেশের লোকই বাইবেলের নামে গদগদ একথাও তো কখনও শুনিনি।
(৫) মি. কিসিংগার ইহুদি। বাইবেলের প্রথম অংশ, যার নাম ওল্ড টেস্টামেন্ট সেটা ইহুদিদের সম্মানিত ধর্মগ্রন্থ– খ্রিস্টানদেরও। কিন্তু তার দ্বিতীয়াংশই আসলে খ্রিস্টানদের পরমপূজ্য নিউ টেস্টামেন্ট– যাতে আছে প্রভু যিশুর জীবনী, তার খ্রিস্টধর্ম প্রচারের বিবরণ, এবং আছে তাকে যে ইহুদিরা ক্রুশে চড়িয়ে খুন করে তার করুণ কাহিনী। মি, কিসিংগার (এবং তার মাতা) কি এই কাহিনীর পবিত্রতায় বিশ্বাস করেন যে এটিকে স্পর্শ করে তিনি শপথ নিলেন? আমি যতদূর জানি, ইহুদিরা এই নিউ টেস্টামেন্টে বিশ্বাস করেন না। অতি অবশ্যই ইহুদিদের ধর্মগ্রন্থ তোওরাতে (তওরিতে) নিউ টেস্টামেন্টের স্থান নেই।
(৬) তবে কি ফটোর বাইবেল খাস ইহুদি-বাইবেল? আমাদের জানা মতে, সে গ্রন্থে থাকে শুধু ওলড টেস্টামেন্ট। তাই যদি হয়, তবে বাইবেল, বাইবেল বলে সেটা অতখানি প্রচার করা হল কেন? ঢাকা-কলকাতার জনসাধারণ তো বাইবেল বলতে ওলড এবং নিউ, দুইয়ে গড়া বাইবেলই বোঝে, সেই কেতাবদ্বয়ের সম্মিলিত গ্রন্থই দেখেছে। যারা ফটোর সঙ্গে ক্যাপশনটি বিতরণ করেছেন তারা ব্যাপারটি বুঝিয়ে বললে ভালো হত না? বাইবেল শব্দটিও মূলত গ্রিক বলে ইহুদিরা ব্যবহার করেন বলে শুনিনি। তারা তোওরা, তালমুদ ইত্যাদি বলে থাকেন। হয়তো নিতান্ত গয়দের উপকারার্থে মাঝে মাঝে বাইবেল বলেন।
