.
তিন না চার
এই যে চার দফে ইরান থেকে বাংলাদেশের নিত্যদিনের পরিবর্তনে অপরিবর্তনীয় ঘটনার ফিরিস্তি দিলুম, তার সঙ্গে যোগ দিতে হয়, তিন মহাশক্তির বহুরূপী কার্যকলাপ চীন, রুশ আর মার্কিন দেশের নয়া নয়া খেল। বিশেষ করে তৃতীয়টির। কারণ বহু বৎসর ধরে মার্কিনরা জাপানকে বার বার বলেছে, আমরা প্রাচ্যের পুলিশম্যান, আর তোমরা স্বভাবতই, অর্থাৎ নৈসর্গিক পদ্ধতিতেই আমাদের পয়লা নম্বরি দোস্ত। অবশ্য এই মার্কিনি পুলিশম্যানের টহল মারার কায়দা বড়ই আজব! আর পাঁচটা দেশে গেরস্তজন ট্যাকসো দেয়, সে টাকায় লাঠি সড়কি, দরকার হলে বন্দুক, পিস্তল কিনে পুলিশকে দেওয়া হয়। মার্কিন পুলিশ কিন্তু উলটো গেরস্ত ইরান, পাকিস্তান গয়রহতে হুদো হুদো বন্দুক-কামান দেয়, বেয়াড়া। পাড়া-পড়শিকে ঠ্যাঙাবার জন্য। নিজের শরীরটা যতখানি পারে বাঁচিয়ে রাখে। তাই-না মৌলানা সাদির পূর্ববঙ্গীয় ভ্রাতা গেয়েছেন :
কত কেরামতি জানোরে বান্দা
কত কেরামতি জানো,
শুকনায় বইস্যারে বান্দা
পানির মাছ টানো
.
‘সব ইহুদি হো জায়গা’
এই তিন শক্তির বাইরে আরেকটি শক্তি লোকচক্ষুর আড়ালে বহু বহু বৎসর ধরে সরাসরি এবং প্রয়োজন হলে মার্কিন সরকারকে দিয়ে আপন কাজ গুছিয়ে নিয়েছে এবং জানেন জিহোভা আরও কত যুগ ধরে তাদের বিচরণভূমিতে দাবড়ে বেড়াবে তারা, কিন্তু অতিশয় সঙ্গোপনে। পাঠকের স্মরণে আসতে পারে, ১৯৭১ বসন্তে যখন শেখ (ইয়েহিয়া)-ভুট্টোতে আলাপ-আলোচনা হচ্ছিল তখন মি. ভুট্টো ম্যাজিশিয়ানের মতো আচানক তার হ্যাট থেকে একটি তিসরা চিড়িয়া বের করেছিলেন। তার পূর্বে তিনি সুবো-শ্যাম জপতেন আমি আছি ভুট্টো, আর তুমি আছ শেখ। হঠাৎ বলে বসলেন, আর আছে ওই তিরসা চিড়িয়া, দি আর্মি। যারা জুন্তার কেচ্ছা জানত না, তারা পড়ল আসমান থেকে। … আমার বক্তব্য– অকস্মাৎ এই যে চতুর্থ শক্তি আমদানি করলুম সেটা কিন্তু ওই আপস্টার্ট অপদার্থ গুলাম মুহম্মদ ইসকান্দার মির্জার গাফিলির ছাওয়াল মিলিটারি জুন্টা নয়। এর ইতিহাস অতি দীর্ঘ, ইনি বিশ্ব-ইহুদি শক্তি, কিন্তু আসলে এনার তাগদ বাড়ল যেমন যেমন নিগ্রো দাসদের রক্ত শুষে, রেড-ইন্ডিয়ানদের কতল করে, মার্কিন-ইয়াংকির ন্যাজ মোটা হতে লাগল, ব্লাংকো খুলিটা বদবো-দার গ্যাসে ভর্তি হতে লাগল। মার্কিনি-ইহুদিদের লুক্কায়িত শক্তির বয়ান দেবার মতো শক্তি ইহ-সংসারে কারও নেই। ইজরায়েল রাষ্ট্র নির্মাণের সময় থেকে দু পাঁচজন লোক এদের সম্বন্ধে সচেতন হয়েছেন, কিন্তু আজ পর্যন্ত নাম-করার মতো কোনও আমেরিকান তাদের গোপন বিষ নিয়ে কথা পেড়ে সেটা ফাঁস করে দেবার মতো হিম্মত দেখাতে পারেননি। সত্যি-মিথ্যে জানিনে, আমাকে এক মার্কিনই বলেন, এ শতাব্দীতে কোনও মহাপ্রভুই ইহুদিদের চটিয়ে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। কিন্তু এ সত্যটা জানি, ক্ষুদ্র মাইনরিটি ইহুদিদের দাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও কোনও রাষ্ট্রে মার্চেন্ট অব ভেনিস প্রকাশ্যে মঞ্চস্থ করলে সেটা বে-আইনি কর্ম, ফলং– শীঘরবাস! অবশ্য ইহুদি শাইলক চরিত্র বাদ দিয়ে নাটকটি অভিনয় করলে হয়তো-বা আপনি ইহুদি সম্প্রদায়ের কাছ থেকে সুপপ্লেট সাইজের একটি সোনার মেডেল পেয়ে যেতে পারেন। তবে কি না, সেটা পাকা স্যাকরাকে দিয়ে যাচাই করে নিতে ভুলবেন না।
ইহুদি কিসিংগার এখন পারলোয়ান যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন মিনিস্টার। তিনি কর্মভার গ্রহণ করে সর্বপ্রথমে যে কার্যে হস্তক্ষেপ করেছেন, সেটি ইহুদি ও আরবদের মধ্যে দোস্তি স্থাপন করার। ওয়াহ! ওয়াহ!! তবে কি না, আরবরা হয়তো তাদের পক্ষ থেকে আইষমানের যমজ ভাই থাকলে তাকে পাঠাতে পারে! অবশ্য তিনিও কিসিংগারের মতো নিরপেক্ষ মধ্যস্থতা করবেন মাত্র! তাজ্জব ইহুদি মিনিস্টারের তর সইল না, গদিতে বসতে না বসতেই দেলেন ছুট ইজরায়েলে জাতভাইয়ের কটা এটম বোম দরকার তার তত্ত্বতাবাশ করতে। ইয়া, মালিক!
রুশদেশ কবে কোন আদিমযুগে ১৯১৭-এ কমুনিষ্ট হয়ে যায়। সেই থেকে আজ পর্যন্ত সাতিশয় কালে-ভদ্রে কানে এসেছে, কিছুসংখ্যক রুশদেশীয় ইহুদি প্যালেস্টাইন, পরবর্তীকালে ইজরায়েলে, চিরতরে যেতে চায়, আর জেদি বলশিরা তাদের যেতে দিচ্ছে না। তার পর বছর পাঁচ সাত আর কেউ রা কাড়ত না।
ওমা! হঠাৎ দেখি, মার্কিন কংগ্রেস, না সিনেট, না কী যেন, গোঁ ধরেছেন, রুশ যদি ইহুদিদের ছেড়ে না দেয় তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করার ব্যাপারে পয়লা সুযোগ পাবে না। এই ব্ল্যাকমেলের হুমকির পিছনে কে? মার্কিন ইহুদিরা যে অষ্টপ্রহর তওরিত তিলাওৎ করে এ দুনিয়ার মুসাফিরি খতম করে, এ সব নশ্বর ফানি বখেড়া নিয়ে দাড়ি ঘামায় না, এই নবীন তত্ত্বটি আয়ত্ত করে বড়ই উল্লাস বোধ করলুম। কিন্তু হায়, সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা খবর মনে পড়ে যাওয়াতে আমার উল্লাসটা বরবাদ হয়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন মিনিস্টার যে এখন এক ইহুদি মহারাজ। যার কাছে একদা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ছিল নিতান্তই ঘরোয়া ব্যাপার, আজ রুশদেশের কোথায় কোন গোপন কোণে ক গণ্ডা ইহুদি বাস করে, তাদের খাসিস হয়ে গেল অকৃত্রিম আন্তর্জাতিক গুরুতর সমস্যা।
