ইয়েলো বাট শহরের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা বব ম্যাকলেননের। কিন্তু ব্যাপারটাকে কখনোই গুরুত্বের সঙ্গে নেয় নি। অস্ত্র চালনায় মোটামুটি দক্ষ হলেও কোনওকালেই সৈনিক বা ইন্ডিয়ান ফাইটার ছিল না বব। তা ছাড়া শহর বাঁচানোর জন্যে পুরোদস্তুর লড়াইতে নামতে হবে, তেমন আশঙ্কাও ওর মাথায় আসে নি। সে যাই হোক একটা মারাত্মক ভুল করে গেছে ও। গিরিখাদের ধারের ঝোঁপ আর বোল্ডারের স্তূপ চমৎকার কাভারের কাজ করছে, এই তুপের আড়াল থেকে শহরের যে-কোনও জায়গা লক্ষ্য করে গুলি চালানো সম্ভব। শহরের একমাত্র রাস্তা এবং ঘরবাড়ি গুলির আওতার মধ্যে পড়েছে।
অতীতে শহরে আসার সুবাদে জায়গাটা দেখে গেছে লরেন কীথ। সতর্কতার সঙ্গে প্ল্যান নিয়েছে সে, যাতে মূল শক্তি পৌঁছুনোর আগেই পয়েটে আর ক্রকেট এখানে পৌঁছতে পারে। এখন পর্যন্ত তার পরিকল্পনায় কোনও গলদ দেখা যায় নি।
সিগারেট শেষ করে রাইফেল তুলে নিল পয়েন্সেট। সতর্কতার সঙ্গে সামনে নজর রাখতে শুরু করল। খানিক পর পর ঘড়ি দেখছে। নির্দিষ্ট করে কি করতে হবে বলে দেয়া হয়েছে ওকে, দ্ব্যর্থহীন নির্দেশ। ঠিক আড়াইটায় যাকে সামনে পাবে তাকেই গুলি করতে হবে। এক গুলিতেই যেন মারা যায় সে।
শ্যাড আর কেড্রিক আবার স্যালুনে ফিরে গেছে। বাইরে পায়চারি করছে পিট লেইন। রাস্তার উল্টো দিকে গেছে ডাই রীড। লেইন যদিও পয়েন্সেটের আওতার বাইরে আছে, মুহূর্তের জন্যে চমৎকার টার্গেটে পরিণত হয়েছিল ডাই রীড; রীডের সৌভাগ্য, পয়েন্সেট গুলি করার আগেই অদৃশ্য হতে পেরেছে। কিন্তু মুহূর্ত পরেই সুযোগ ধরা দিল পয়েন্সেটের হাতে।
কাছের একটা ঘরের দরজা খুলে গেল, একটা লোক বেরিয়ে এল। চওড়া কিনারাঅলা একটা ছেড়া ধূসর টুপি তার মাথায়, গায়ে বড় বড় চেকের শার্ট, সাসপেন্ডার লাগানো প্যান্টে গুঁজে রেখেছে। দরজার দিকে ঘুরে দাড়াল সে, চুমু খেলো স্ত্রীকে। প্রচুর সময় নিয়ে পয়েন্ট ফাইভ-সিক্স-এ লক্ষ্যস্থির করল পয়েন্সেট, লোকটার সাসপেন্ডারের বাঁ দিকের বাকলস্-এ। লম্বা করে দম নিল, তারপর টিপ দিল ট্রিগারে।
প্রচণ্ড শব্দে ছুটে গেল ভারি বুলেট। আঘাত করল লোকটার বুকে। একদিকে ছিটকে গেল সে, সোজা হয়ে দাড়ানোর চেষ্টা করল, পরমহর্তে হুড়মুড় করে লুটিয়ে পড়ল ধুলোয়। আর্তনাদ করে ছুটে এল তার স্ত্রী। সামনের একটা ঘরের দরজা সশব্দে খুলে গেল। রাস্তায় বেরিয়ে এল দুজন লোক, এদিক-ওদিক তাকাল। ক্রকেটের প্রথম গুলি একজনের হাতের রাইফেল ফেলে দিল, গুড়ো হয়ে গেল রাইফেলটার কুঁদো। অন্যজনকে ধরাশায়ী করল। পয়েন্সেট। পা টেনে সরে যাওয়ার চেষ্টা করল লোকটা। এত দূর থেকেও তার হাঁটুর কাছে রক্তের গাঢ় দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
পয়েনসেটের মনে, দয়ামায়ার বালাই নেই। ঠাণ্ডা মাথায়, সাবধানে আবার গুলি করল সে। থেমে গেল লোকটা, একটু কেঁপে উঠল, তারপর স্থির পড়ে রইল।
আমারটা ফসকে গেল, ক্ষমা প্রার্থনার সুরে বলল আলফ্রেড ক্রকেট। অবশ্য ব্যাটার রাইফেলের বারটা বেজে গেছে!
থুতু ফেলল পয়েন্সেট। দৃষ্টিতে শীতল ভাব। ও কিছু না, বলল সে, তবে ওই ব্যাটাও খামোশ খেয়ে গৈছে।
স্যালুনের ভেতরে, হুইস্কির গ্লাস ঠোঁটে ছোঁয়াতে যাচ্ছিল কেড্রিক, এই সময় প্রথম গুলির শব্দ হলো, তারপরই উপর্যুপরি দুদুবার গুলির শব্দ হলো।
হায়াল্লা! চরকির মতো ঘুরল লরেছো শ্যাড। ওরা তো এখনও পৌঁছে নি!
না, আগেই এসে গেছে ওরা, বলল কেড্রিক। মুহূর্তে ব্যাপারটা পরিষ্কার হয়ে গেছে ওর কাছে। চট করে দরজার কাছে গিয়ে রাস্তার দিকে তাকাল ও। চোখের সামনে তৃতীয়জনকে মাটিতে পড়তে দেখল। গলা, বাড়াতেই আরও একজনকে দেখতে পেল। পরস্পর চেপে বসল ওর ঠোঁটজোড়া। স্থির পড়ে আছে লোকগুলো, নড়ছে না।
ওই খাদে কেউ লুকিয়ে আছে, দ্রুত ব্যাখ্যা করল কেড্রিক, পুরো রাস্তা কাভার করছে সে। পেছনে কোনও পথ আছে?
বারটেন্ডার বেরুনোর রাস্তা দেখিয়ে দিলে উইনচেস্টার তুলে নিয়ে এগিয়ে গেল পল কেড্রিক, পকেটে আগেই গুলি ভরে নিয়েছে ও। অন্যরা ওর পিছু নিল। দরজায় পৌঁছে থমকে দাঁড়াল কেড্রিক। দেয়ালের সঙ্গে মিশে গিয়ে গিরিখাদের দিকে তাকাল। এখান থেকে চিবিটার প্রান্ত দেখা যাচ্ছে। গুলিগুলো ওখান থেকেই এসেছে ধরে নিল পল। আটকা পড়ে গেছি আমরা, বলল ও, ওই ওখানে আছে ওরা।
নড়ল না কেউ। এলাকা সম্পর্কে কেড্রিকের স্পষ্ট ধারণা এই বিপদের মুহূর্তে কাজ দিচ্ছে।
মনে মনে গিরিখাদের চেহারা উল্টেপাল্টে দেখতেই মনে পড়ল, ঢিবির ওপাশটা শহর থেকে নিচু। কিন্তু বোল্ডার থাকায় গুলি করার জন্যে চমৎকারর আড়াল পাওয়া যাচ্ছে। খাদ থেকে এলোপাতাড়ি গুলি ছুটে আসছে। নীরব হয়ে আছে সবাই। আর কিছুক্ষণ পর অন্যরাও এসে যোগ দেবে হামলায়। এই হামলা বেশিক্ষণ ঠেকিয়ে রাখা যাবে না!
১২. দ্রুত সিদ্ধান্ত নিল পল কেড্রিক
দ্রুত সিদ্ধান্ত নিল পল কেড্রিক। এখন আর শহর বাঁচানো সম্ভব নয়। এখানে থাকলে ওদের নিশ্চিহ্ন কর দেবে প্রতিপক্ষ, জ্যান্ত পুড়িয়ে মারবে।
শ্যাড, তাড়াতাড়ি বলল ও, রাস্তা পেরিয়ে ডাই রীড আর পিটের কাছে যাও। চেঁচিয়ে সবাইকে বলো, যত ঝুঁকিই থাক, পরোয়া না করে ইয়েলো বাট এর গোড়ার ক্যানিয়নে চলে যেতে।
