আমার অস্বস্তি লাগছে, পল, নিচু কণ্ঠে বলল লরেডো, যেভাবেই হোক র্যানসামের কথা বারউইক জানবেই। এবং তারপর সামান্থা আর ওর সাথে সাথে আমাদেরও কতল করার জন্যে খেপে উঠবে সে।
মাথা ঝাঁকাল কেড্রিক, ও-ও একই কথা ভাবছিল। কোম্পানির সামনে এখন একটা পথই খোলা, তদন্ত কমিটির সামনে দাঁড়ানো-অবশ্য সাক্ষী প্রমাণের ভিত্তিতে র্যানসাম যদি তার ব্যবস্থা করতে পারে। কমিটির কাছে প্রকৃত সত্য ঠিকই ধরা পড়বে, এবং তা যাতে না পড়ে সে চেষ্টা করবে বারউইক।
বারউইক একটা কেউটে সাপ, মন্তব্য করল লরেডো শ্যাড, হার মানার বান্দা নয়। এ-ব্যাপারটায় পুরো ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে, বিনা যুদ্ধে হাল ছাড়বে না!
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরের শব্দ ভেসে এল। ওরা তাকাতেই দেখল ডাই রীড আর পিট লেইন ঘোড়ার পিঠ থেকে নেমে ভেতরে ঢুকছে। কেড্রিকের দিকে একবার তাকাল লেইন, তারপর বারের দিকে এগিয়ে এল। ডাই রাডকে উদ্বিগ্ন মনে হচ্ছে, কিন্তু কিছু বলল না সে। খানিক পরেই হঠাৎ ঘুরে দাঁড়াল লেইন, বেরিয়ে গেল।
ব্যাপারটা কী? জিজ্ঞেস করল কেড্রিক।
বড় চিন্তায় আছে ছেলেটা বলল ডাই রীড, একটু লজ্জিতও। ওর বোনের জন্যেই এই অবস্থা। মেয়েটা এ কাণ্ড করবে কে জানত? শেষ পর্যন্ত কোম্পানির সঙ্গে গিয়ে হাত মেলাল। লজ্জায় মাটিতে মিশে যাচ্ছে ছেলেটা। বিশ্বাস করতে পারছে না। কেউ ওর দিকে তাকালেই ধরে নিচ্ছে, বোনের কার্যকলাপের জন্যে ওকে দায়ী করা হচ্ছে।
কাঁধ ঝাঁকাল কেড্রিক। উচ্চাভিলাষ আর টাকা অনেক বিচিত্র ঘটনা ঘটায় এই পৃথিবীতে। তা ছাড়া কোনও কোনও মেয়ে অমন হয়েই থাকে।
দরজা খুলল লেইন। জলদি বেরিয়ে এসো! বলল সে, বিপদে পড়তে যাচ্ছি আমরা।
একসঙ্গে বাইরে এল ওরা। পড়িমরি করে, যার যার ঘরের দিকে ছুটে যাচ্ছে লোকজন, ভয়ার্ত চেহারা।
কী ব্যাপার? দ্রুত জানতে চাইল কেড্রিক।
মেসার চূড়া থেকে সঙ্কেত দিচ্ছে বার্ট উইলিয়ামস। মাস্ট্যাংয়ের দিক থেকে একদল অশ্বারোহী আসছে!
ওরা মেসাধু চূড়ার দিকে তাকাতেই ছোটখাট একটা মানুষের আকৃতি দেখা দিল। একবারদুবারতিনবারহাত নেডে মাস্ট্যাংয়ের দিক থেকে ছজন অশ্বারোহী আসার সঙ্কেত দিল সে। একই ভাবে দক্ষিণ-পুব থেকেও চারজন ঘোড়সওয়ার আসার সংবাদ জানাল।
মোট দশজন, থুতু ফেলে বলল লেইন, ঠিক আছে, ওদের চেয়ে আমাদের দল অনেক ভারি। তবে আমার লোকেরা ওদের মতো ভয়ঙ্কর নয়, এই যা।
ভাঙা হাত বাঁচিয়ে ইয়েলো বাট মেসার মাথায় একটা ঝোঁপের আড়ালে হাঁটু গেড়ে বসল বার্ট উইলিয়ামস। দূরবীন দিয়ে অগ্রসরমান অশ্বারোহীদলকে জরিপ করল। পরিচয় না থাকলেও ওদের সবার চেহারা চেনা। একে একে নামগুলো উচ্চারণ করল বার্ট উইলিয়ামস: কীথ, ডরনি, শ’, ফেসেনডেন, লী গফ, পয়েন্সেট, ভুরু কোঁচকাল সে, নাহ্, পয়েন্সেট নয়, মিক্সাসদের একজন। হ্যাঁ, আর ওই তো আরেকটা!
দূরবীন ঘোরাল উইলিয়ামস। ছড়িয়ে পড়ে দ্রুত এগিয়ে আসছে অন্য চারজন। প্রথমে কাউকে শনাক্ত করা গেল না। এক এক করে চারজনকেই যথেষ্ট সময় নিয়ে জরিপ করল সে। অবশেষে একজনকে চিনতে পারল। পোর্ট স্টকটন আর ব্ল্যাক জ্যাক, কেচাম আউটফিটের এক কালের সদস্য ডুরাংগোর গুণ্ডা-ব্রকাউ!
নড়েচড়ে দূরবীন ঘুরিয়ে শহরের চারদিকে নজর বোলাল বার্ট উইলিয়ামস, কিন্তু আর কারও দেখা পেল না। আবার ছয় অশ্বারোহীর দিকে দৃষ্টি ফেরাল। কিন্তু একটা নির্দিষ্ট উঁচু ঢিবির ওপর আর এক মুহূর্ত দূরবীন স্থির রাখলে ও দেখতে পেত, ঘোড়া ছাড়াই দুজন লোক উবু হয়ে দৌড়ে ঢিবিটা পেরুচ্ছে, শহরের উত্তর-পুবে বিশাল গিরিখাদে লাফিয়ে পড়ছে।
খানিক আগে দুজনের অশ্বারোহী দলে পয়েন্সেটকে দেখতে পায় নি সে, এবং অপর দলেও নেই লোকটা।
উদ্বিগ্ন চেহারায়, ছোট ছোট করে সূর্যের দিকে তাকাল বার্ট উইলিয়ামস। শহরের লোকদের বিপদ সম্পর্কে কীভাবে সতর্ক করা যায় ভাবছে। পয়েন্সটের অনুপস্থিতি ভীত করে তুলেছে, ওকে। কোম্পানির ভাড়াটে খুনীদের মধ্যে পয়েন্সেটই সবচেয়ে বিপজ্জনক। লোকটা বেপরোয়া, অতীতের কোনও তিক্ত ঘটনা হিংস্র করে তুলেছে ওকে, ভয়াবহ এক চরিত্রে পরিণত হয়েছে।
কিন্তু এই মুহূর্তে পয়েন্সেটকে দেখতে পেলে আরও বেশি উদ্বিগ্ন হয়ে উঠত বার্ট উইলিয়ামস।
.
সবদিকে কড়া নজর রেখে পরিকল্পনা করা হয়েছে। কর্নেল লরেন কীথের ধূর্ত মস্তিষ্ক কাজ করেছে পরিকল্পনার পেছনে। কোথাও কোনও ফাঁক নেই। ওরা কাকে কাকে খুজবে, জানে কীথ। তবে ওয়াচারের চোখে পয়েন্সেটের অনুপস্থিতি ধরা পড়বে না বলেই আশা করেছে সে। ঠিক জায়গায় উপযুক্ত মুহূর্তে পয়েন্সেট যাতে উপস্থিত হতে পারে সেদিকে লক্ষ্য রেখেছে। পয়েনসেটের মতো দক্ষ মার্কসম্যান আর কেউ নেই তার দলে।
এই মুহূর্তে, শহর থেকে বড় জোর দুশো গজ দূরে, পয়েন্সেট আর তার সঙ্গী আলফ্রেড, ক্ৰকেট গিরিখাদের তীরে ঝোঁপ আর বোল্ডারের আড়ালে ঘাপটি মেরে বসে আছে। পয়েন্সেটের হাতে একটা স্পেশার পয়েন্ট ফাইভ-সিক্স, গুলি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পনের টোটার হেনরি পয়েন্ট ফোর-ফোর নিয়ে ছয় গজ দূরে অবস্থান নিয়েছে আলফ্রেড।
বিশাল রূপোর ঘড়ি বের করে সময় মেলাল পয়েন্সেট। আড়াইটার কথা বলে দিয়েছে কীথ। ঠিক আছে, সময় মতোই আওয়াজ পাবে সে। নিরুদ্বিগ্ন চিত্তে একটা সিগারেট তৈরি করতে শুরু করল পয়েন্সেট। আলফ্রেড ক্রকেট তাকিয়ে আছে ওর দিকে। কাগজে তামাক ভরার সময় একটুও কাপল না তার হাত, অবাক চোখে লক্ষ্য করল সে।
