এক কদম পিছিয়ে মাথার ওপর ট্র্যাপডোরের দিকে তাকাল কেড্রিক। ও কী করতে যাচ্ছে বুঝে ফেলল বারটেন্ডার, প্রবল বেগে মাথা নাড়তে শুরু করল সে। পাগলামি করো না। ঝাঁঝরা হয়ে যাবে।
উপায় নেই; ঝুঁকিটা নিতেই হবে। বড় দলটা এখনও বেশ দূরে আছে। আমি কাভার দিলে তোমরা সহজেই ক্যানিয়নে পৌঁছে যেতে পারবে।
আর তুমি? জানতে চাইল শ্যাড।
আমি পৌঁছে যাব। যাও তো, সময় নষ্ট করো না!
স্যাৎ করে ঘুরল লরেডো শ্যাড। বাইরে পা রেখে মুহূর্তের জন্য থামল, তারপর এক দৌড়ে পার হলো রাস্তা। এক লহমার জন্যে ইতস্তত করল বারটেন্ডার, বিড়বিড় করে বলল কী যেন, তারপর অনুসরণ করল ওকে। এক বোতল হুইস্কি নিয়ে শার্টের ভেতর ঢোকাল পল কেড্রিক। লাফ দিয়ে ট্রাপডোরের কিনারা ধরে ঝাঁকি দিয়ে ক্ষুদে চিলেকোঠায়, সেখান থেকে ছাদে
উঠে এল। সযত্নে পর্যবেক্ষণ করল চারদিক।
ক্রিক থেকে প্রচণ্ড গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসছে। বোঝা যাচ্ছে, খুনীর দল কিছুক্ষণের জন্যে যাত্রা বিরতি করেছে ওখানে। ছাদের চূড়ায় উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ল কেড্রিক। ঈষৎ মাথা জাগিয়ে বোল্ডারের স্তূপের দিকে সতর্ক দৃষ্টিতে তাকাল। হঠাৎ মৃদু নড়াচড়া ধরা পড়ল ওর চোখে। প্রথম দেখায় যেটাকে ধূসর পাথর মনে হয়েছিল, বুঝতে পারল, ওটা আসলে একটা শার্ট। উইনচেস্টার তুলে যত্নের সঙ্গে লক্ষ্যস্থির করল পল, টিপ দিল ট্রিগারে।
লাফিয়ে উঠল ধূসর শার্ট, শূন্যে উঠে এল একটা হাত, পরমুহূর্তে এলিয়ে পড়ল। সঙ্গে সঙ্গে গর্জে উঠল একটা স্পেন্সার। মাথার অদূরে ছাদ ফুটো হয়ে গেল। স্প্রিন্টারের ছিটে লাগল চোখেমুখে। পিছলে খানিকটা নীচে নেমে এল কেড্রিক। তারপর রাস্তার উল্টোদিকের একটা জানালা থেকে সঙ্কেত পেয়ে চট করে রাইফেল তুলে নিল ও, মাথা উঁচিয়ে দ্রুত চারবার গুলি করল; একমুহূর্ত বিরতি, তারপর আবার ট্রিগার টিপল দুবার। নুয়ে পড়ে উইনচেস্টার রিলোড করে নিল ও। শত্রুপক্ষের একটা বুলেট খালা বসাল ছাদে। তারপর শুরু হলো এলোপাতাড়ি গুলি, ভারি ক্যালিবারের একেকটা বুলেট ছাদের চূড়ার অল্প কয়েক ইঞ্চি নীচে অসংখ্য ফুটো সৃষ্টি করল।
পিছলে আরও খানিকটা নামল পল, কেড্রিক। ট্র্যাপডোরের মুখে মুহূর্তের জন্যে থামল, বহু দূরে, একলোক ওঅশের লোকগুলোর পেছনে যাবার জন্যে। ঘুর পথে এগোনোর চেষ্টা করছে। দেখার সঙ্গে সঙ্গে রাইফেল তুলে তাক করল ও। টিপ দিল ট্রিগারে। প্রায় পাঁচশো গজ দূরে ছিল লক্ষ্যবস্তু, স্রেফ কালো একটা বিন্দু। ফসকে গেল গুলিটা, কালো বিন্দুর ফুট দুয়েক দর বালি ছিটকে উঠল। ব্যর্থ হলেও কেড্রিক জানে সম্ভাব্য আততায়ী, আর আগে বাড়ার সাহস করবে না; লুকিয়ে পড়েছে। ট্রাপভোর গলে ফের স্যালুনে, নামল কেড্রিক। বিষণ্ণ চেহারায় তাকাল বারের ওপর সাজানো হুইস্কির বোতলগুলোর দিকে। আরও দুটো বোতল তুলে পকেটে ঢোকাল।
দোনোমনো করল এক মুহূর্ত, তারপর রাস্তার উল্টোদিকের একটা বাড়ির আশ্রয়ের দিকে খিচে দৌড় লাগাল। গর্জে উঠল স্পেন্সার। অদৃশ্য আততায়ী এই সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল। বুলেটের ধাক্কা অনুভব করল পল। টলে উঠল, কিন্তু থামল না।
রাস্তা পেরিয়ে আড়ালে চলে এল ও। পেটের চামড়ায় শীতল ছোঁয়া লাগছে। মাথা নামিয়ে তাকাল। শার্টের ভেতরে রাখা হুইস্কির বোতলটা চুর্ণ বিচূর্ণ হয়ে গেছে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে হুইস্কির, মিষ্টি সৌরভ। শার্টের ভেতর থেকে ভাঙা কাঁচের টুকরো বের করে ফেলে দিল কেড্রিক। প্রায় ঝাঁপ দিয়ে ঢুকল লিভারিস্ট্যাবলে। অ্যাপলুসার পিঠে দ্রুত স্যাডল চাপিয়ে উঠে বসল।
রাস্তায় বেরোতেই অবিরাম গুলিবর্ষণ শুরু করল স্পেন্সার। তুফান তুলে ছুটল, পল কেড্রিক। শত্রুর গুলি এড়িয়ে পৌঁছে গেল গন্তব্যে। ও ক্যানিয়নে ঢুকতেই উল্লাস প্রকাশ করল সবাই। স্যাডল থেকে নামল পল।
কাজটা কিন্তু ভালো হলো না, কেড্রিকের উদ্দেশে বলল পিট লেইন, রিজের ওপর উঠে অনায়াসে আমাদের পেছনে চলে আসবে ওরা।
বোল্ডারে বোল্ডারে পা রেখে খোঁড়াতে খোঁড়াতে ড্র থেকে বেরিয়ে এল দুজন লোক। ঘাড় ফিরিয়ে তাকাল কেড্রিক। নারী-পুরুষ মিলিয়ে চোদ্দজ দাঁড়িয়ে আছে চারপাশে। দুজন আহত। একজনের হাত ভেঙে গেছে। এর হাত থেকে রাইফেল ছিটকে পড়েছিল তখন। অন্যজন সামান্য চোট পেয়েছে। মোট কথা লড়তে সক্ষম, এরকম মাত্র সাত জনকে পাওয়া গেল।
সময় নষ্ট না করে কোথায় লুকোতে হবে সবাইকে জানিয়ে দিল কেড্রিক। তারপর ডাই রীড আর লরেডো শ্যাডকে পাহারায় রেখে ভেতরের দিকে এগোল ওরা।
চিন্তিত চেহারায় দলীয় লোকদের ক্ষমতা পর্যালোচনা করল কেড্রিক। লরেডো, ভাই আর পিট লেইনকে নিয়ে ওর মনে সংশয় নেই। কিন্তু অন্যদের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে পারছে না। ওদের মাঝে নিরীহ গোবেচারা ধরনের লোকও রয়েছে, স্পষ্টতই ভীতু হয়ে পড়েছে দুএকজন, যদিও মুখে বলছে না কেউ কিছু। রক্তশূন্য ফ্যাকাসে চেহারার এক লোক আহত একজনের রাইফেল নিজের হাতে তুলে নিয়েছে, হাটতে সাহায্য করছে তাকে। পথ দেখিয়ে
সবাইকে সেই খাদের মুখে নিয়ে এল পল। ঢুকে পড়ল ওরা গহ্বরে।
বিস্মিত চেহারায়, সবাই দেখতে লাগল খাদটা। একটা কথা জানো? থুতু ফেলে বলল বারটেন্ডার। সাত বছর ধরে এখানে আছি, কিন্তু খাদটা এই প্রথম দেখলাম!
