কিন্তু ওরা কেউই এখন বেঁচে নেই। নেতা হতে পারত এমন আরেকজন, স্টীলম্যান, তাকেও খুন করা হয়েছে। ওরা জানে ম্যাকলেননদের কে বা কারা হত্যা করেছে সেটা এখনও গোপনই আছে। আমার ওপর আর নির্ভর করা। যাবে না বুঝতে পেরেই আমাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বারউইক। ওরা। এখনও জানে আমি মারা গেছি। এ ব্যবসার টাকা সরবরাহ করেছিল জন গুন্টার, সে খুন হওয়ায় এখন আর টাকা ফেরত দেয়ার চিন্তা করতে হবে না। বারউইক আর কীথকে।
আর মাত্র কটা দিন, বিক্রির কাজ শেষ হলেই জমির মালিকানা পেয়ে যাবে ওরা। এই মুহূর্তে ওদের বাধা দেয়ার মতো কোনও শক্তি নেই। পিট লেইনসহ সবাইকে আউট-ল ঘোষণা করবে ওরা। প্যসি পাঠানো হবে ওদের। পাকড়াও করার জন্যে। জমি কেনা শেষ করেই দেখো, খুনীর দল নিয়ে বেরিয়ে পড়বে লরেন কীথ।
হ্যাঁ, ধীর লয়ে বলল লরেটে শ্যাড, মনে হচ্ছে সব দিক সামাল দিয়ে ফেলেছে ব্যাটারা। কিন্তু তুমি একটা জিনিস বাদ দিচ্ছ, ভুলে যাচ্ছ সামান্থা ফক্সের কথা।
তার কথা আসছে কেন?
শোনো, সিগারেট ঠোঁটে ঝুলিয়ে বলল লরেডো শ্যাড। ম্যাকলেনন খুন হওয়ার পরপরই শহর থেকে চলে এসেছে ও। ওরা জানে তোমার সঙ্গে ওর। পরিচয় আছে। তোমার সামনেই অফিসে ওদের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছে সামান্থা, টাকা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়েছে। ধরো টাকা ফেরত চাইল সামান্থা এবং ওরা রাজি হলো না, তখন? মনে করো, আবার বলল লরেডো, এই অবস্থায় মুখ খুলল সামান্থা, যা জানে ফাঁস করে দিল। ও অনেক কিছু জানে এটাই ধরে নেবে, ওরা। মেয়েটা গুন্টারের ভাগ্নী, গুন্টার ওকে অনেক কথা বলেছে অনুমান করাই স্বাভাবিক, তাই না?
ওরা সামান্থাকে ধরার চেষ্টা করবে?
তোমার কী ধারণা? ধরার চেষ্টা করবে কিংবা হত্যা করবে।
তীক্ষ্ণ হলো পল কেড্রিকের দৃষ্টি। লেইনের কাছে নিরাপদেই থাকবে সামান্থা, বলল ও, কিন্তু সন্দেহ প্রকাশ পেল কণ্ঠস্বরে। ওদেরকে বেশ ভালো লেগেছে আমার।
কাঁধ ঝাঁকাল লরেডো শ্যাড। তা লাগতে পারে। কিন্তু ভুলে যেয়ো না, সিঙ্গার ওঁদেরই একজন। স্লোয়ানকে হত্যার কাজে সাহায্য করতে ইতস্তত করে নি সে, অ্যাবি মিক্সাসের সঙ্গে ছিল। টাকা দিয়ে ওকে কিনে নিয়েছিল বারউইক। আরও কেউ বিক্রি হয় নি জানছ কীভাবে?
.
ঠিক ওই সময়ে, ধূসর পাথুরে ভবনের অফিসরুমে অ্যাল্টন বারউইকের মুখোমুখি এমনি একজন লোক বসে আছে। দেয়াল ঘেঁষে একটা চেয়ারে বসেছে কর্নেল লরেন কীথ। বারউইকের সামনে বসা লোকটার নাম ওয়ালেস, তার পাণ্ডুর চেহারায় আত্মবিশ্বাসের ছাপ। সত্যি বলছি! বলো ওয়ারেস। চুরি করে, সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে, অন্ধকারে সারা রাত ঘোড়া হাঁকিয়ে মিথ্যে কথা বলতে আসি নি নিশ্চয়ই! সামান্থা ফক্স, গানম্যান লরেডে শ্যাড আর কেড্রিক পিট লেইনের ক্যাম্পে এসেছিল।
কেড্রিক? কেড্রিক বেঁচে আছে? তীব্র উত্তেজনায় সামনে ঝুঁকে এল কীথ।
হ্যাঁ, তোমার আমার মতোই তরতাজা। মাথার একপাশে চুল চেছে ফেলেছে দেখলাম, গভীর একটা দাগ খুলিতে। শরীরের এক দিকেও গুলি খেয়েছে। ওহ, জায়গা মতোই লেগেছিল গুলিটা! কিন্তু, বিশ্বাস করো, এখন আবার ঘোড়া হাঁকিয়ে বেড়াচ্ছে! আসল খবর এখনও চেপে রেখেছে ওয়ালেস। চোখ বড় করে বারউইকের দিকে তাকিয়ে হাসল সে। কিছু টাকা দিতে পারলে ভালো হত, মিস্টার বারউইক। আরও একটা খবর ছিল। কঠিন দৃষ্টিতে ওয়ালেসের দিকে তাকাল বারউইক। ড্রয়ার খুলে দুটো স্বর্ণ-ঈগল বের করে ছুঁড়ে দিল ডেস্কর উপর। ঠিক আছে? এবার বলো, কী খবর?
ওয়াশিংটনে র্যানসাম নামে এক লোকের কাছে খবর পাঠিয়েছে কেড্রিক। পূর্ণ তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত জমি বিক্রি ঠেকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করবে সে।
কী?
ঝট করে দাঁড়িয়ে পড়ল কীথ, ছাইয়ের মতো ফ্যাকাসে হয়ে গেছে মুখ। এমন কিছু হতে পারে ভাবতেও পারে নি সে। প্রথম যখন জমি দখলের বুদ্ধিটা পেল, একেবারে জলবৎ তরলং মনে হয়েছিল, মনে হয়েছিল মুফতে অঢেল টাকা কামানোর একটা মওকা পাওয়া গেছে। সামরিক বাহিনীতে চাকরির সুবাদে ওয়াশিংটনে উঁচু মহলে জানাশোনা ছিল, এদিকটা বারউইক সামাল দিতে পারলে গুন্টারের টাকায় ছককা মেরে দেয়া যাবে ভেবেছিল। ব্যর্থতার সম্ভাবনা মাথায় আসে নি। অনেক টাকা মুনাফা আসবে, নিশ্চিত ছিল কীথ। সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, বারউইক আর গুন্টারের সঙ্গে সম্পর্ক চুকিয়ে পুবে চলে যাবে, লাভের টাকায় আরামসে পায়ের ওপর পা তুলে কাটিয়ে দেবে বাকি জীবন। কাজটা অবৈধ, কিন্তু পরোয়া করে নি সে। এখন যদি পুবের লোকেরা ব্যাপারটা জেনে যায়
র্যানসাম? ভাঙা গলায় বলল কীথ, এত থাকতে র্যানসাম!
যুদ্ধের সময় ওর সঙ্গে কাজ করেছিল ফ্রেডরিক র্যানসাম, দুজনের মধ্যে তেমন সদ্ভাব ছিল না। একটা সেতুর কাছে একটা বিশেষ ঘটনার কথা মনে পড়ে গেল কীথের, গরম হয়ে উঠল কানজোড়া। ঘটনাটার কথা র্যানসাম জানে, এবং তার ভিত্তিতেই এবারের ব্যাপারটা মূল্যায়ন করবে সে। র্যানসামকে বেছে নিয়ে কতখানি বুদ্ধির পরিচয় দিয়েছে, কোনওদিন জানতে পারবে না কেড্রিক!
এইবার হয়েছে! নড়েচড়ে দাঁড়াল কীথ। র্যানসাম মহা আনন্দে আমাদের বারটা বাজিয়ে ছাড়বে!
বারউইক বুঝতে পারছে, আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে কীথ। সেই ময়লা শার্ট গায়েই বসে আছে বিশালদেহী লোকটা, বিরক্তি আর অসন্তোষ-ভরা দৃষ্টিতে দেখছে কীথকে। এবার কি বিগড়ে যাবে লোকটা?
