তুমি দেখি হারমিওনের মত কথা বলছ। হ্যারি হেসে বলে।
হ্যারি, আমি তোমার ভালোর জন্যই কথাটা বলছি। আজ তুমি ওখানে যেওনা।
আয়নার কাছে যাবার জন্য হ্যারি অস্থির হয়ে পড়ল। রন তাকে ফেরাতে পারল না। তৃতীয় রাতে হ্যারি আরো তাড়াতাড়ি তার গন্তব্যে পৌঁছল। সে দ্রুতগতিতে দৌড়াচ্ছিল বলে শব্দ হচ্ছিল। এত জোরে শব্দ করা ঠিক নয় জেনেও হ্যারি নিজেকে সংযুক্ত রাখতে পারেনি। তবে সে আশেপাশে কাউকেই দেখে নি।
এবারও হ্যারি আয়নায় তার বাবা–মার স্মিত হাসি দেখল। শুধু তাই নয়, তার একজন দাদাও তাকে সম্বোধন করল। হ্যারি আয়নার সামনে মেঝেতে বসে পড়ল। তার মনে হল, সে সারারাত এখানে কাটিয়ে দিতে পারে। এমন সময় পেছন থেকে শব্দ শোনা গেল–হ্যারি তুমি আবার এখানে এসেছ?
হ্যারির অন্তরাত্না বরফের মত ঠাণ্ডা হয়ে গেল। হ্যারি পেছনে তাকিয়ে অবাক হয়ে দেখে যে, তার ঠিক পেছনেই ডেস্কে বসে আছেন অধ্যাপক ডাম্বলডোর। হাঁটার সময় তাকে অতিক্রম করলেও তাড়াহুড়ার কারণে সে তাকে লক্ষ্য করেনি।
আত্নপক্ষ সমর্থন করে হ্যারি আমতা আমতা করে বলল–স্যার, আমি আপনাকে দেখতে পাইনি।
আশ্চর্য। অদৃশ্য হতে গিয়ে তুমি যে চোখে কম দেখছো–তা বুঝতে পারনি। ডাম্বলডোর বললেন। ডাম্বলডোরকে মুচকি হাসতে দেখে হ্যারি অনেকটা আশ্বস্ত হলো। না, ভয়ের কারণ নেই।
তাহলে ডেস্ক থেকে নেমে অধ্যাপক ডাম্বলডোর হ্যারির পাশে মেঝেতে বসে বললেন–তোমার আগে বহুলোক এরিসেডের আয়নার আনন্দ উপভোগ করেছে।
স্যার আমি এটার নাম জানতাম না। হ্যারি বলল।
এটা কি কাজ করে–তা নিশ্চয়ই তুমি বুঝতে পেরেছ। অধ্যাপক ডাম্বলডোর বললেন।
এটা–হা স্যার আমার পরিবারকে দেখিয়েছে।
এবং তোমার বন্ধু রনকে হেডবয় হিসেবে দেখিয়েছে।
কি করে জানলেন?
অদৃশ্য হবার জন্য আমার কোন পোশাক লাগে না। তুমি কি এখন বলতে পার এরিসেডের আয়না আমাদেরকে কি দেখায়।
হ্যারি মাথা নেড়ে না বলল।
অধ্যাপক ডাম্বলডোর বললেন–ঠিক আছে। আমি বলছি। পৃথিবীতে যিনি সবচে সুখী ব্যক্তি তিনিই এ আয়নাটি স্বাভাবিক আয়না হিসাবে ব্যবহার করতে পারবেন। তিনি ঠিক যেমন–আয়নাতে ঠিক তেমনি দেখতে পাবেন। এতে কি কোন লাভ হয়?
হ্যারি কিছুক্ষণ চিন্তা করে আস্তে আস্তে বলল–আমরা যা চাই বা যা কিছুই চাই–তা এ আয়নায় দেখা যায়।
তুমি যা বলেছ তা সত্যি আবার সত্যিও নয়, ডাম্বলডোর বললেন আমাদের হৃদয়ের পরম ইচ্ছে এই আয়নায় দেখা যায়। এই যে তুমি, এতদিন তোমার পরিবারের কাউকে দেখতে পাওনি। এখন আয়নায় তাদের দেখতে পেয়েছ। তুমি তোমার বাবাকে দেখতে পেয়েছ। তবে কি জান, এই আয়না কোন জ্ঞান দিতে পারে না বা সত্য জানাতে পারে না। এর আগে বহুলোক এই আয়নার দিকে তাকিয়ে তাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে। আয়নায় যা দেখা যাচ্ছে তা বাস্তব বা সম্ভব কিনা–বিষয়টা তার ভেবে দেখেনি।
ডাম্বলডোর আরো বললেন–আগামীকালই আয়নাটি অন্য একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে। আবারও আয়নাটি দেখতে আমি তোমাকে বারণ করব। এরপরও যদি তুমি যাও তোমার ক্ষতি হতে পারে। এ কথাটা মনে রেখো। এই আয়না কোন স্বপ্নের কথা বলে না। এই আয়না কাউকে কিছু ভোলাতে পারে না। বুঝেছ? এখন তোমার অদৃশ্য হওয়ার পোশাক খুলে ঘুমুতে যাও।
হ্যারি উঠে দাঁড়াল।
স্যার, প্রফেসর ডাম্বলডোর, আমি কি আপনাকে একটি প্রশ্ন করতে পারি?
ডাম্বলড়োর বললেন, তুমি তো এই মাত্র আমাকে প্রশ্ন করেছ। ঠিক আছে, কর।
আপনি যখন আয়নার দিকে তাকান তখন আপনি কি দেখতে পান। হ্যারি প্রশ্ন করল।
আমি দেখি আমি এক জোড়া পশশী মোজা হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। অধ্যাপক ডাম্বলডোর জবাব দিলেন। হ্যারি অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে রইল।
অধ্যাপক ডাম্বলডোর বললেন-একজন লোকের অনেক মোজা থাকে। আরেক বড়দিন এসে চলেও গেল। এই বড়দিনেও আমি একজোড়া মোজা উপহার পাইনি। সবাই আমাকে বই উপহার দিয়েছে।
যখন হ্যারি বিছানায় ঘুমোতে গেল তার মনে হল অধ্যাপক ডাম্বলডোর তাকে পুরোপুরি সতা কথা বলেননি। হ্যারি যে প্রশ্নগুলো করেছিল তা অবশ্য ছিল তার একান্ত ব্যক্তিগত।
১৩. নিকোলাস ফ্লামেল
অধ্যাপক ডাম্বলডোরের পরামর্শের পর হ্যারি আর সেই আয়নার কাছে যায়নি। তাই তার অদৃশ্য হওয়ার পোশাক বড়দিনের ছুটিতে তার ট্রাংকের মধ্যে রয়ে গেল। তবু হ্যারি চেষ্টা করেও সেই আয়নার কথা ভুলতে পারে না। প্রতি রাতে সে দুঃস্বপ্ন দেখে। সে স্বপ্নে দেখে তার বাবা মা, কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই তা অদৃশ্য হয়ে যায়। তারপর অট্টহাসির শব্দ।
রন বলল–অধ্যাপক ডাম্বলডোর ঠিকই বলেছেন। এই আয়না মানুষকে পাগল করে দিতে পারে।
ক্লাস শুরু হবার আগে গতকালই হারমিওন ফিরে এসেছে। সে বিষয়টা অন্য দৃষ্টিতে দেখার চেষ্টা করল। হ্যারি পর পর তিন রাত বিছানায় না থেকে আয়না দেখতে গিয়েছে-একথা শুনেই সে শিউরে উঠল। সে শঙ্কিত, যদি কেয়ারটেকার ফিলচ দেখে ফেলত তা হলে কি হত। নিকোলাস ফ্লামেলের ব্যাপারে কোন তথ্য সংগৃহীত না হওয়ায় সেও হতাশ।
ফ্লামেল সম্পর্কে জানার ব্যাপারে হ্যারি এখনও হাল ছাড়েনি। লাইব্রেরিতে অনেক বই খোঁজাখুঁজি করেও তারা ফ্লামেলের ব্যাপারে কিছুই জানতে পারেনি। তবে ব্যারির মনে পড়ছে সে কোথায় যেন ফ্লামেলের নাম পড়েছে।
