পাশের টেবিলে রন তেমন সুবিধে করতে পারছিল না। রন তার লম্বা হাত ঘোরাতে ঘোরাতে হঠাৎ চিৎকার করে উঠল–উইংগার্ডিয়াম লেভিওসা।
হারমিওন বলল–ভুল হলো। তুমি ভুল উচ্চারণ করেছ।
এতই যদি জানো তাহলে তুমি নিজেই উচ্চারণ কর। হারমিওনের উদ্দেশ্যে রন বলল।
হারমিওন তার গাউনের আস্তিন গুটালো, এবং জাদুর দণ্ডটা ঘোরাল। তারপর উচ্চারণ করল–উইং–গার–ডিয়াম লেভি–ও–সা। এরপর পালকটা টেবিল থেকে ওপরদিকে উঠতে লাগলো এবং তাদের মাথারও চার ফুট ওপরে উঠলো। অধ্যাপক ফ্লিটউইক করতালি দিয়ে উঠলেন এবং হারমিওনের প্রশংসা করলেন।
ক্লাসশেষে রনের মেজাজ খুব খারাপ।
জনাকীর্ণ করিডোর অতিক্রম করতে করতে রন হ্যারিকে বলল-এটা কোন আশ্চর্যের ব্যাপার নয় যে কেউই হারমিওনকে সহ্য করতে পারে না। সত্যি বলতে কী সে সবার জন্য একটা দুঃস্বপ্ন।
মনে হলো কেউ যেন হ্যারির পিঠ ছুঁয়েছে। হ্যারি তাকিয়ে দেখে হারমিওন। হারমিওনের চোখে অশ্রু দেখে হ্যারি সত্যিই অবাক হলো।
মনে হয় সে তোমার কথা শুনতে পেয়েছে। হ্যারি রনকে বলল।
তাতে কী হয়েছে? রন একথা বললেও খুব অস্বস্তিবোধ করছিল। একটু থেমে বলল–সে এখন বুঝতে পেরেছে তার কোন বন্ধু নেই।
পরবর্তী ক্লাসে হারমিওন এল না। বিকেলেও কোথাও তাকে দেখা গেল না। হ্যালোইন ভোজে যোগদানের জন্যে গ্রেট হলে যাবার পথে হ্যারি আর রন শুনতে পেল যে পার্বতী পাতিল তার বন্ধু ল্যাভেঞ্জারকে বলছে, হারমিওন মেয়েদের টয়লেটে গিয়ে কাঁদছে এবং সে চাইছে কেউ যেন তাকে বিরক্ত না করে। একথা শুনে রনের খুব খারাপ লাগতে লাগল। পরে যখন তারা গ্রেট হলে প্রবেশ করলো, সেখানকার চোখ ধাঁধানে সাজসজ্জায় ও হইচইয়ে তারা হারমিওনের কথা একেবারেই ভুলে গেল।
হাজার খানেক জীবন্ত বাদুর সিলিং ও দেয়াল ধরে এদিক–ওদিক ঊড়ছিল। আরো হাজার খানেক বার টেবিলের সামান্য ওপর দিয়ে উড়ে উড়ে মোমবাতিগুলো কুমড়োর খোলে বসিয়ে দিল। ছাত্রদের টার্মের প্রথম দিকের ভোজসভা বলে সোনালী থালায় খাদ্য পরিবেশিত হলো।
হ্যারি যখন তার প্লেটে আলু তুলে নিচ্ছিল ঠিক তখন প্রায় দৌড়ে অধ্যাপক কুইরেল গ্রেট হলে প্রবেশ করলেন। তার পাগড়ি বিপর্যস্ত। সবাই অবাক হয়ে দেখল তিনি ডাম্বলডোরের চেয়ারের দিকে যাচ্ছেন। টেবিলের কাছে গিয়ে তিনি দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বললেন–ট্রল, সেই বিরাট জল্পটা… বন্দিশালা… আমার ধারণা ছিল আপনি সব জানেন। তারপর তিনি মুৰ্ছা খেয়ে মরার মত মেঝের ওপর পড়ে গেলেন।
চারদিকে শোরগোল পরে গেল, কোণ থেকে অধ্যাপক ডাম্বলডোর তার জাদুদণ্ড ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলেন।
প্রিফেক্টগণ। ডাম্বলডোর নির্দেশ দিলেন, এখনই তোমরা হাউজের সকলকে নিয়ে ডর্মিটরিতে ফিরে যাও।
পার্সি কাছেই ছিল।
পার্সি বলল–তোমরা সবাই আমাকে অনুসরণ কর। প্রথম বর্ষের সব ছাত্র আমার পেছনে এসো। আমার পেছন পেছন এলে তোমাদের ভয়ের কোন কারণ নেই। ট্রল তোমাদের কিছু করতে পারবে না। প্রথম বর্ষের ছাত্ররা একাট্টা হয়ে আমার পেছনে পেছনে এসো। সরে দাঁড়ান, প্রথম বর্ষের ছাত্ররা আসছে। আমি একজন প্রিফেক্ট।
হ্যারি সিঁড়ি দিয়ে উঠতে উঠতে জিজ্ঞেস করলো, ট্রল এলো কি করে?
আমাকে এ প্রশ্ন করো না। মনে হয় তারা সবাই বুন্ধু। রন বলল। হয়ত হ্যালোইন ভোজসভায় মজা করার জন্য পিভস এটা করেছে।
তারা বিভিন্ন গ্রুপের ছাত্রদের পার হয়ে গেল যারা ঊর্ধ্বশ্বাসে বিভিন্ন দিকে ছুটছে। তারা যখন হাফলপাফ হাউজের উদভ্রান্ত ছাত্রদের ভিড় অতিম করছিল তখন হ্যারি হঠাৎ করেই রনের হাত চেপে ধরলো।
আমি কিন্তু ভাবছি হারমিওনের কথা। হ্যারি বলল।
তার সম্পর্কে কী ভাবছো? রন জানতে চাইল।
ট্রলের বিষয়ে সে জানে না।
রন ঠোঁটে কামড় দিল।
ঠিক আছে। রন বলল–পার্সি আমাদেরকে না দেখে ফেললেই হলো।
তারা হাফল পাফ হাউজের ছাত্রদের দলের ভেতরে মিশে গেল। সেখান থেকে সটকে পড়ে একটি নির্জন করিডোরের দিকে অগ্রসর হলো। আরেকটু এগিয়েই তারা মহিলা টয়লেটের কাছাকাছি এলো। পেছন দিকে তারা দ্রুত পায়ের শব্দ শুনতে পেল।
পার্সি। নিচু কণ্ঠে রন উচ্চারণ করল।
তারা ভালো করে লক্ষ্য করে দেখল–পার্সি নয়, স্নেইপ।
স্নেইপ করিডোরে তৃতীয় তলার দিকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।
হ্যারির নাকে এক ধরনের বাজে গন্ধ এলো। অনেকটা ভেজা, স্যাঁতসেতে অপরিচ্ছন্ন টয়লেটের গন্ধ। একটু পরেই মনে হলো কে যেন আসছে। পদশব্দ, দৈত্যের পদশব্দের মত। অতিকায় জীবটি ঘরে ঢুকল। বারো ফুট লম্বা। গায়ের চামড়া অন্যরকম। গ্রানাইট পাথরের মতো গায়ের রঙ। মাথায় টাক। অনেকটা নারকেলের মত। হাতে একটা বিশাল কাঠের ডাণ্ডা। দরোজা ফাঁক করে ভেতরে ঢুকলো ট্রল।
হ্যারি বলল চাবিটা তালার মধ্যেই আছে। আমরা তো ট্রলকে আটকে রাখতে পারি।
চমৎকার। রন মন্তব্য করল–চলো তাই করি। তারা দুজন আগে বাড়ল। তারা মনে মনে প্রার্থনা করছিল যেন ট্রল তাদের দিকে অগ্রসর না হয়। তাদের প্রার্থনায় কাজ হলো। হ্যারি লাফ দিয়ে কোনমতে তালা ও চাবি হাতের নাগালে পেল। তারপর তালা লাগিয়ে ট্রলকে বন্দি করে ফেলল।
সাফল্যের আনন্দে তারা যখন ফিরে আসছিল ঠিক তখনই তারা শুনলো একটা বিকট আর্তনাদ। যে ঘরে তারা ট্রলকে বন্দি করেছে, সেখান থেকেই শব্দটা আসছে।
