তার হাতে কাঠের একটা বড় বাক্স। হ্যারি উডের পাশে দাঁড়াল।
চমৎকার। ঊড মন্তব্য করল। হ্যারি, আমি দেখতে পাচ্ছি অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল যা বলেছিলেন… একেবারে খাঁটি। আজ আমি তোমাকে কিডিচ খেলার নিয়মকানুন সম্পর্কে কিছু বলব। তারপর তুমি সপ্তাহে তিনদিন খেলা অনুশীলন করবে। উড বাক্সটা খুলল। বাক্সের ভেতর বিভিন্ন আকারের চারটা বল। অলিভার ঊড় এবার তাকে খেলাটা বোঝালেন। বললেন–খেলাটা একটু কঠিন। প্রত্যেক দলে সাতজন খেলোয়াড় থাকবে। তাদের মধ্যে তিনজন হবে চেজার বা ধাওয়াকারী।
তিনজন চেজার? হ্যারি প্রশ্ন করল।
উড এবার ফুটবল আকৃতির একটা উজ্জ্বল লাল বল বের করল।
উড এবার ব্যাখ্যা করল-এই বলটার নাম কুয়াফল।
চেজারগণ কুয়াফল পরস্পরের মাঝে হস্তান্তর করে এবং গর্তে ফেলে গোল করার চেষ্টা করে।
উড আরো ব্যাখ্যা করল–প্রতিটা দলে একজন খেলোয়াড় থাকে যার নাম কীপার। কীপারের দায়িত্ব হলো গোল ঠেকালো। আমি গ্রিফিল্ডর হাউজের কিপার।
এ খেলায় তাহলে তিনজন চেজার ও একজন কীপার থাকে। তারা কুয়াল নিয়ে খেলা করে। হ্যারি খেলার বিস্তারিত নিয়মকানুন আগ্রহের সাথে জানার চেষ্টা করলো।
এবার আমি তোমাকে দেখাবো কীভাবে খেলতে হয়। উড বলল এটা হাতে নাও।
উড হ্যারিকে তিনটা ছোট ব্যাট ও একই রকম দুটো বল দিলেন। বল দুটো কালো রঙের এবং কুয়াফলে থেকে একটু ছোট। বল দুটোর নাম ব্লুজার। এবার দাঁড়িয়ে থাকো। উড হ্যারিকে নির্দেশ দিল।
হঠাৎ করে কালো ব্লুজারটা ওপরে উঠে হ্যারির মুখের কাছে চলে এলো। হ্যারি ব্যাট দিয়ে সরিয়ে দিল যাতে বলটি তার মাকে আঘাত না করে। এটা ওপর দিয়ে উড়ে গিয়ে উডের কাছে চলে গেল। উড ব্লুজারটা ঠেকিয়ে গর্তে পাঠিয়ে দিল।
খেলা নিয়ে হ্যারিকে উড কয়েকটা প্রশ্ন করল। হ্যারি প্রত্যেকটা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিল।
চমৎকার। উড মন্তব্য করল।
হ্যারি উডকে প্রশ্ন করল–আচ্ছা ব্লুজারদের হাতে কখনও কি কেউ মারা গেছে?
হোগার্টসে কখনও এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি। সর্বোচ্চ যেটা হয়েছে সেটা হলো কারো কারো দাঁত ভেঙেছে। এর চেয়ে খারাপ কিছু ঘটেনি। এবার শোন, এই দলের সর্বশেষ ব্যক্তি হলো সিকার–সেটা হচ্ছো তুমি। অবশ্য কুয়াফল বা ব্লুজার নিয়ে তোমাকে ভাবতে হবে না।
যতক্ষণ না তারা আমার মাথা ফাটিয়ে দেয়।
তোমার দুশ্চিন্তার কোন কারণ নেই। উড বলল–ব্লুজারদের ঠেকাতে দুই উইসলি যমজ ভাই–ই যথেষ্ট। তারা নিজেরাই একটা ব্লুজার জুটি। এরপর উড বাক্স থেকে চতুর্থ এবং শেষ বলটা বের করল। কুয়াফল এবং ব্লুজারের তুলনায় এটা ছিল আরো ছোট এবং বড় একটা কাঠবাদামের সমান। এটা ছিল উজ্জ্বল সোনালী রঙের, ছোট একটু গোলাপী পাখা।
বলগুলো হাতে নিয়ে উড বলল-এটাই সবচে গুরুত্বপূর্ণ। এ বলটার গতি এত বেশি যে এটা ধরাই মুশকিল। আর সিকারের দায়িত্ব হল বলগুলো ধা। সিকার যদি এ বলটা ধরতে পারে তাহলে তার দল অতিরিক্ত ১৫০ পয়েন্ট পাবে।
আর কোন প্রশ্ন আছে? উড হ্যারির কাছে জানতে চায়।
হ্যারি মাথা নাড়ল। তার কী করণীয় এটা সে বুঝতে পেরেছে।
আমরা এখনও স্নিচ বল নিয়ে খেলিনি। বলগুলো বাক্সে রাখতে রাখতে উড বলল-এত অন্ধকারে বল হারিয়ে যেতে পারে।
উড তার পকেট থেকে গলফ বলের একটা সাধারণ ব্যাগ বের করল। কয়েক মিনিট পর দেখা গেল উড চারদিকে জোরে জোরে বলগুলো ছুঁড়ে মারছে আর হ্যারি তা লুফে নিচ্ছে।
হ্যারি প্রতিটা বল লুফে নিল। উড খুব খুশি। আধঘণ্টা পর যখন সত্যি সত্যিই অন্ধকার নেমে এল, তখন তারা অনুশীলন বন্ধ করল।
এবার কিডিচ কাপ আমরা পাব। খুশি মনে উড মন্তব্য করল। দুর্গে ফেরার পথে উড বলল–তুমি যদি চার্লস উইসলির চেয়ে ভালো খেল, আমি অবাক হব না। সে হয়ত ইংল্যান্ডের পক্ষ হয়েই খেলতে পারত যদি সে ড্রাগনের পেছনে না ছুটত।
হ্যারি এখন খুবই ব্যস্ত। একদিকে কিন্ডিচ খেলার জন্য সপ্তাহে তিনবার অনুশীলন। অন্যদিকে হোমওয়ার্ক তো আছেই। হ্যারি ভাবতে লাগল সে হোগার্টসে এসেছে মাত্র দুমাস হলো। এর ভেতরই সে এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রিভেটড্রাইভের তুলনায় দুর্গটি তার কাছে অনেক আপন মনে হচ্ছে। লেখাপড়া গোড়াতে কঠিন মনে হলেও এখন খুব উৎসাই বোধ করছে।
ঘুম ভাঙলো সুস্বাদু খাবারের গন্ধে। হ্যারির মনে হলো, হ্যালোইন ব্যাপারটা বোঝা দরকার। অধ্যাপক ফ্লিটউইক ঘোষণা দিলেন, এখন ছাত্ররা জিনিসপত্র আকাশে ওড়াতে পারবে। এজন্য তিনি ছাত্রদের জোড়ায় জোড়ায় বসিয়ে দিলেন। হ্যারির জুটি হলো সিমাস ফিনিগান। নেভিলের ব্যাঙ একটি ক্লাসরুমে ঢুকে পড়েছিল। রানের জুটি হলো হারমিওল গ্রেপ্পার। রন অথবা হারমিওন কেউ এতে অখুশি কিনা তা বোঝা যাচ্ছিল না। যেদিন থেকে হ্যারি ডাকে ঝাড়ু পেল সেদিন থেকেই হারমিওন হ্যারি ও ব্রনের সাথে কথা বলে না।
অধ্যাপক ফিটউইক ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বললেন-একটা কথা মনে রেখো। কথাটি হলো–সুইশ অ্যান্ড ফ্লিক, মনে রেখো সুইশ অ্যান্ড ফ্লিক। এ মন্ত্র উচ্চারণ করো। কখনো ভুল করে উচ্চারণ করবে না। মনে রেখো–ভুল করে জাদুকর বারুফিয়ে একবার স এর বদলে ফ উচ্চারণ করেছিল, তারপর সে নিজেকে আবিষ্কার করলো মেঝেতে। তার বুকের ওপর একটা মহিষ।
এটা ছিল বেশ কঠিন! হ্যারি ও সিমাস বার কয়েক সুইশ এন্ড ফ্লিক করলো একটা পালক আকাশের দিকে পাঠানোর জন্য। কিন্তু এটা টেবিলের ওপর থেকে আর আকাশের দিকে উঠলো না। সিমাস ধৈর্য হারিয়ে জাদু কাঠি দিয়ে খোঁচা দিয়ে পালকটাতে আগুন ধরিয়ে দিল আর হ্যারিকে তার টুপি দিয়ে সেই আগুন নিভাতে হলো।
