চুপ! তোমরা দুজনেই চুপ কর। হ্যারি বলল–আমি যেন কিসের আওয়াজ পাচ্ছি।
শ্বাস–প্রশ্বাস নেয়ার শব্দ।
মিসেস নরিস? বিস্ময়ের সাথে রন উচ্চারণ করল।
আসলে এটা মিসেস নরিস নন। নেভিল। সে মেঝেতে ঘুমিয়ে ছিল। তার কাছে গেলেই সে ঘুম থেকে উঠে পড়ল।
হায় ঈশ্বর। তোমরা এখানে। আমি কয়েক ঘণ্টা ধরে এখানে আটকে আছি। বিছানায় যাবার নতুন পাসওয়ার্ডটি এখন মনে করতে পারছি না।
তোমার স্বর নিচুতে রাখো, নেভিল। নতুন পাসওয়ার্ড হল–পিগ আউট। তবে এতে এখন কোন কাজ হবে না, কারণ মোটা মহিলাটা কোথায় যেন গেছে।
তোমার হাতের অবস্থা এখন কেমন। হ্যারি জিজ্ঞেস করল।
ভাল। হাত দেখিয়ে নেভিল বলল–মাদাম পমফ্রে এক মিনিটের ভেতরই সব সারিয়ে দিয়েছেন।
ভালো কথা। হ্যারি বলল–নেভিল, আমাদের এক জায়গায় যেতে হবে। তোমার সাথে পরে দেখা হবে। নেভিল বলল–আমাকে তোমরা একা ফেলে যেও না। আমার এখানে একা থাকতে ভাল লাগছে না।
রন ঘড়ির দিকে তাকাল। তারপর ক্রুদ্ধভাবে নেভিল ও হারমিওন দুজনের দিকেই তাকাল।
রন বলল–তোমাদের দুজনের যে কেউ একজন যদি আমাদের ধরিয়ে দাও তাহলে তোমাদের খবর আছে। বোগিস কুইরেল আমাদের যে অভিশাপ শিখিয়েছেন আমি তোমাদের ওপর সেই অভিশাপ দেব।
হারমিওন তার মুখ খুলল। কীভাবে অভিশাপ দিতে হয়-এটাই বোধ হয় সে রনকে বলতে চাচ্ছিল। হ্যারি তাকে ফিস ফিস করে চুপ করতে বলল। তারপর সবাইকে নিয়ে সামনে অগ্রসর হলো।
তারা করিডোর ধরে এগোতে লাগলো। জানালা দিয়ে চাঁদের আলো আসছে। প্রতি মুহূর্তেই হ্যারি আশঙ্কা করছে ফিলচ অথবা মিসেস নরিসের সাথে দেখা হয়ে যাবে। তার ভাগ্য ভালো–তার আশঙ্কা সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি। তারা চার তলায় যাবার সিঁড়িতে এল। এবার পায়ের আঙুলে ভর দিয়ে কোন শব্দ না করে তারা আগে বাড়তে লাগল। তাদের লক্ষ্য ট্রফি হাউজ।
ম্যালফয় আর ক্রেব তখনও এসে পৌঁছায়নি। ট্রফি হাউজের শোকেসের স্ফটিক স্বচ্ছ কাঁচের ওপর চাঁদের আলো প্রতিফলিত হচ্ছে। ট্রফি হাউজের রূপা বা সোনার কাপ, শিলড, প্লেট ও মূর্তি অন্ধকারেও চক চক করছে। ওরা দেয়াল ঘেঁষে এগুতে লাগল। তাদের চোখ দুটি দরোজারই ওপরে। পাছে ম্যালফয় এসে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পরে সেই আশঙ্কায় হ্যারি তার জাদুদণ্ড বের করলো। সময় বয়ে চলল। কিন্তু ম্যালফয়ের দেখা নেই। হয়ত এমনও হতে পারে সে ভয় পেয়ে গেছে।
একটু পরে পাশের কক্ষে একটা শব্দ শোনা গেল। তারা সতর্ক হলো। হ্যারি যখন তার জাদুদণ্ড ঘোরাল তখন কয়েকটা শব্দ তার কানে ভেসে এল। না এটা মালফয়ের কণ্ঠস্বর নয়।
আরে এ যে ফিলচ। তিনি নরিসের সাথে কথা বলছেন। ওরা একটু এগিয়ে দেখল পোশাকের গ্যালারি। দৌড় দিতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যেতে যেতে নেভিল রনের কোমর জড়িয়ে ধরে উঠে দাঁড়ালো। নেভিল দেখল–ফিলচ ট্রফি রুমে প্রবেশ করেছেন।
হ্যারি আর রন শুনতে পেল ফিলচ বলছে–তারা কাছাকাছি কোথাও আছে। হয়ত তারা লুকিয়ে।
এই দিকে। হ্যারি উল্টোদিকে ছুটলো এবং ভীত–সন্ত্রস্ত হয়ে তারা একটি লম্বা গ্যালারি নিঃশব্দে পার হতে লাগল। গ্যালারিতে ছিল অসংখ্য অস্ত্রশস্ত্র। তারা বুঝতে পারল, ফিলচ নেভিলের কাছাকাছি চলে গেছেন।
বিভিন্ন ধরনের আওয়াজে দুর্গের সবাই জেগে গেছে।
পালাও বলে হ্যারি দৌড় দিল। তারা চারজন নিচের দিকে দৌড়াতে লাগল। মি. ফিলচ ওদের পেছনে আসছেন কিনা–পেছন ফিরে সেটা দেখার অবকাশ তাদের নেই। একটা দরোজা দিয়ে বেরিয়ে তারা একের পর এক করিডোর পার হল। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছে হ্যারি। তারা কোথায় যাচ্ছে–কেউই জানে না। এরপর ওরা পেল দেয়াল ঢাকা একটি বড় পর্দা এবং ওটা সরিয়ে ওরা পেল একটি গুপ্তপথ। এই পথ দিয়ে তারা বশীকরণ ক্লাসরুমের কাছে এলো। তাদের পরিচিত বশীকরণ ক্লাসরুম থেকে ট্রফি রুমের ব্যবধান কয়েক মাইল।
মনে হচ্ছে তার নাগালের বাইরে চলে এসেছি–ক্লান্ত–শ্রান্ত হ্যারি ঠাপ্তা দেয়ালে হেলান দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে বলল। নেভিল কুঁজো হয়ে দুহাঁটুতে হাত রেখে জোরে জোরে শ্বাস নিচ্ছিল ও তার মুখ থেকে লালা গড়িয়ে পড়ছিলো।
হারমিওন বলল–আমি তো তোমাদের আগেই বলেছিলাম।
আমাদেরকে খুব দ্রুতই গ্রিফিল্ডর টাওয়ারে পৌঁছতে হবে। রন শান্ত কণ্ঠে বলল।
হারমিওন–তুমি কি এখন বুঝতে পেরেছে যে, এটা ম্যালফয়ের চালাকি। সে কখনোই মল্লযুদ্ধ করার জন্য তোমার কাছে আসবে না। যেভাবেই হোক ফিল খবর পেয়েছেন ট্রফি রুমে কেউ আসবে। হয়ত ম্যালফয়ই তাকে সব বলে দিয়েছে।
হ্যারি ভাবল, হারমিওনই বোধহয় ঠিক। তবে তার কাছে হ্যারি নিজের ভুলের কথা স্বীকার করবে না।
চলো, যাওয়া যাক। হ্যারি বলল।
তখন তারা দশ–বারো পাও অতিক্রম করেনি, একটা দরোজা খোলার আওয়াজ পেল। দৃশ্য দেখে তারা অবাক। পিভিস বেরিয়ে আসছেন ক্লাস রুম থেকে।
তোমাদের তো ডরমিটরিতে থাকার কথা। এই মধ্যরাতে তোমরা বাইরে কেন। পিভস প্রশ্ন করল।
পিভস দয়া করে চুপ কর। তুমি দেখছি আমাদের বিপদে ফেলবে।
পিভস হো হো করে হেসে উঠলো। মধ্যরাতে ঘুরে বেড়ানো? তু, তু, তু। নটি, নটি, ইউ উইল গেট কটি
না ধরা পড়বো না দয়া করে পথ ছাড় পিভস।
আমি ফিলচকে বলব। আমার বলা উচিত। পিস বলল। তার চোখে দুষ্টুমির হাসি। তোমাদের মঙ্গলের জন্যই এটা বলা উচিত।
