পিভসের চেয়ে আরো বেশি খারাপ হলো কেয়ারটেকার আরগুস ফিলচ। প্রথম দিন সকালে হ্যারি ও রন ওর ধারে–কাছে না গিয়ে ভিন্ন পথে গেল। তারা দুর্ভাগ্যক্রমে ভুল করে তৃতীয় তলার নিষিদ্ধ করিডোরের প্রবেশ পথ দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ফিলচের বিশ্বাসই হয়নি যে ওরা পদ্ধ হারিয়ে ওই পথে যাওয়ার চেষ্টা করছে। সে ভাবল ওরা ইচ্ছে করেই এটা করছে এবং এখানে তাদের আটকে রাখার ভয় দেখাল।
প্রফেসর কুইরেল সে সময় যদি ওই পথ দিয়ে না যেতেন তা হলে নিশ্চয়ই তাদের ফিলচের হাতে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হতো।
ফিলচের একটা বিড়াল ছিল। বিড়ালটার নাম মিসেস নরিস। ধূলো রঙের গোঁফধারী বিড়ালটা ছিল অনেকটা মনিব ফিচের মত। বিড়ালটা যেন এখানকার নিয়মরক্ষক। একটু এদিক–ওদিক হলেই বিড়ালটা ফিলচকে ডেকে আনে। যারা ভুল করে তাদের কঠোর শাস্তি পেতে হয়। সকলে তাকে এত ঘৃণা করে যে সুযোগ পেলেই নরিসকে লাথি লাগায়।
বুধবার মাঝ রাতে দুরবী এর সাহায্যে নানা গ্রহ–নক্ষত্রের আসা–যাওয়া দেখানো হলো। অধ্যাপক স্পাউট সপ্তাহে তিনবার অদ্ভুত সব উদ্ভিদের কিভাবে যত্ন নিতে হয় তা পড়াতেন।
সবচে বিরক্তিকর ক্লাস ছিল জাদুর ইতিহাস। এটাই একমাত্র ক্লাস যা নিতেন এক ভূত–শিক্ষক। বৃদ্ধ প্রফেসর বিনস শিক্ষকদের স্টাফ রুমের ফায়ার স্পেস-এর সামনে অনেক সময় ঘুমিয়ে পড়তেন আবার পরদিন সকালে তার শরীরটা সেখানে রেখেই ক্লাস নিতে চলে যেতেন।
অধ্যাপক ফ্লিটউহক ছিলেন বশীকরণ বিদ্যার শিক্ষক। তিনি ক্লাসে অদ্ভুত অদ্ভুত বিষয় নিয়ে মনোমুগ্ধকর গল্প শোনাতেন। আকারে ছোটখাটো, একগাদা বই এর ওপর দাঁড়িয়ে তাকে টেবিল থেকে উঁচু হতে হতো। হাজিরা খাতায় হ্যারির নাম ডাকতে গিয়ে অদ্ভুত শব্দ করে নিজেই হাওয়ায় মিলিয়ে যেতেন তিনি।
অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল একটু অন্য ধরনের। মেজাজ কড়া হলেও তিনি মানুষ হিসেবে ভালো। ছাত্ররা তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে। তিনি বলেন যে শরীর বদল অথবা অন্যরূপ ধারণ করা সবচে জটিল জাদুবিদ্যা।
তিনি আরও বলতেন, আমার ক্লাসে কোন উল্টা–পাল্টা করবে না। করলে অদৃশ্য হয়ে যাবে। আর ফিরে আসতে পারবে না।
একটু পরে তিনি তার টেবিলটাকে বাচ্চা শূকরে রূপান্তরিত করলেন। কিছুক্ষণ পর আবার তা টেবিল হয়ে গেল। সকল আসবাবপত্রই মাঝে মাঝে একদল পণ্ড হয়ে যায়। একদিন ছাত্রদের দেশলাই দিয়ে বলা হল–কাঠিকে সূচ বানাও। একমাত্র হারমিওন গ্রেঞ্জারই সফল হয়। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ওদের দেখালেন কিভাবে কাঠিটি ধাতব পদার্থে পরিণত হলো এবং সূচালো হলো।
যে ক্লাসটা তাদের সবচে ভালো লাগতো সেটা ছিল কালো জাদু টোনার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। মাঝে মাঝে হাসি–ঠাট্টা হয়। সারা ক্লাসে রসুনের গন্ধ। রোমানিয়া থেকে রক্তচোষা এসেছে এবং তার পাগড়ির ভেতর থেকে এই গন্ধ আসে। পাগড়ির ভেতরের রসুন নাকি অধ্যাপক কুইরেলকে নানা রকম বিপদ–আপদ থেকে রক্ষা করে। তাকে এই পাগড়িটা দিয়েছে আফ্রিকার কোন এক রাজপুত্র।
হ্যারি এই ভেবে আশ্বস্ত যে সে পড়াশোনায় খুব একটা পেছনে পড়ে নেই। মাগল পরিবার থেকেও অনেক ছেলে এখানে এসেছে। তারই মত। ডাইনি জাদুকর সম্পর্কে তাদের অনেকেরই সামান্যতম ধারণা নেই। এমন কি রনের মাথাতেও অনেক কিছু আসে না।
শুক্রবার দিনটা কারি ও রনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ওইদিন তারা সঠিক পথে গ্রেট হলে এসে নাশতা করত।
পিরিজে চিনি ঢালতে ঢালতে হ্যারি রনকে জিজ্ঞেস করল–আজ আমাদের কি কাজ?
স্লিদারিনদের সাথে দ্বিগুণ ওষুধের উপাদান মেশানো রন বলল। গেইপ ছিলেন স্লিদারিন হাউজের প্রধান। সবাই বলে তিনি নাকি তাদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব করেন। আমরা দেখবো এটা সত্যি কিনা।
অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল যদি আমাদের পক্ষে থাকতেন। হ্যারি বলল। অধ্যাপক ম্যাকগোনাগল ছিলেন গ্রিফিল্ডর হাউজের প্রধান। তা সত্ত্বেও তিনি ছাত্রদের গাদাগাদা হোমটাস্ক দিতে কার্পণ্য করতেন না।
ডাক আসার সময় একশ পেঁচাকে গ্রেট হলে প্রবেশ করতে দেখে সে হতভম্ব হয়ে পড়েছিল। তারা তাদের মালিকদের খুঁজে নিয়ে চিঠি বিলি করলো। কিছু কিছু পারসেল ছিল।
হেডউইগ এ পর্যন্ত হ্যারির জন্য কোন চিঠি আনেনি। হেডউইগ খুবই অলস। তবে চিঠি আসলে সে নিশ্চয়ই নিয়ে আসবে। তার কাজ একটিই, সেটা হলো ঘুমোবার আগে তার কানের লতি ছুঁয়ে আদর করা ও শুভরাত্রি বলে পেঁচাঁদের থাকার জায়গায় যাওয়া।
অবাক কাণ্ড। আজ সকালে হেডউইগ হ্যারির জন্য একটা চিঠি টেবিলে রাখল। হ্যারি বিস্মিত হয়ে ধীরে ধীরে চিঠিটা খুলে পড়তে থাকে। চিঠিতে লেখা আছে–
প্রিয় হ্যারি,
আমি জানি, তুমি প্রতি শুক্রবার বিকেলে বাইরে যাও। তুমি কি বিকেল তিনটায় আমার সাথে এক কাপ চা পান করতে আসতে পারো? আমি জানতে চাই ডর্মিটরিতে তোমার প্রথম সপ্তাহ কেমন কাটল? অপর পৃষ্ঠায় জবাব লিখে হেডউইগ মারফত পাঠিয়ে দিও।
ইতি
হ্যাগ্রিড
হ্যারি রনের কাছ থেকে পালকের কলম নিয়ে লিখল–হ্যাঁ, নিশ্চয়ই দেখা হবে। সে চিঠিটি হেডউইগের কাছে দিল। হেডউইগ চিঠি নিয়ে শো করে উড়ে চলে গেল।
হ্যারিও হ্যাগ্রিডের সাথে দেখা করার জন্য উৎসুক ছিল। কারণ ওষুধ তৈরির উপকরণের ক্লাস হ্যারির সবচে বিরক্তিকর মনে হত। কোর্সের প্রথম দিকেই হ্যারি বুঝতে পেরেছিল যে, স্নেইপ তাকে অপছন্দ করেন না শুধু, মৃণাও করেন।
