এই বইটি সব ছাপা সংখ্যাই একে অপরের সদৃশ হবে, তার অনুলিপি, তবে অনুলিপিকারক করা। তারা অনুলিপি কারণ তারা একে অপরের অনুলিপি নয়, বরং তারা অনুলিপি কারণ একই প্রিন্টিং প্লেট থেকে তারা সবাই এসেছে। তারা অনুলিপির কোনো বংশধারা তৈরী করে না যে কোনো বই অন্য একটি বইয়ের পূর্বসূরি। অনুলিপির বংশধারার অস্তিত্ব হতে পারে যদি আমরা বইয়ের কোনো একটি পাতার ফটোকপি করি, তারপর সেই ফটোকপির আবার ফটোকপি করি, ফটোকপির ফটোকপির ফটোকপি করে,এভাবে চলতে থাকবে। পৃষ্ঠাদের এই বংশধারায়, সেখানেই আসলেই পূর্বসূরি-উত্তরসূরি সম্পর্ক আমরা দেখবো। কোনো একটি দাগ এই ধারার কোনো একটি জায়গায় উদ্ভব হলে, সেই দাগটি সকল উত্তরসূরিরা উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে, কোনো পূর্বসূরি সেটি পাবে না। একটি পূর্বসূরি/উত্তরসূরি ধারাবাহিক এই ধরনের সম্পর্কের বিবর্তিত হবার সকল সম্ভাবনা আছে।
উপরিভাবে, স্টিক ইনসেক্টদের ধারাবাহিক প্রজন্মগুলোয় আপাতদৃষ্টিতে শরীর অনুলিপিদের একটি বংশধারার রুপ নেয়। কিন্তু যদি আপনি সেই বংশধারায় কোন একটি সদস্যকে পরীক্ষামূলকভাবে পরিবর্তন করেন (যেমন তার একটি পা কেটে সরিয়ে নেন), সেই পরিবর্তনটি কিন্তু সেই বংশধারায় পরবর্তী উত্তরসূরিরা উত্তরাধিকার সূত্রে পাবে না। বরং এর ব্যতিক্রম, যদি আপনি পরীক্ষামূলকভাবে সেই বংশধারায় কোন একটি সদস্যদের জিনোমকে বদলে দেন ( যেমন, এক্স-রে ব্যবহার করে, সেই পরিবর্তনটি তার বংশধারায় পরবর্তী উত্তরসূরিদের মধ্যে হস্তান্তরিত হবে; এটাই, মাইওসিসে এর খণ্ডিতকরণ প্রভাব ছাড়াই, মূল কারণ এমন কিছু বলা যে, কোনো একক জীব সদস্য নির্বাচনের একক হতে পারে না– এবং তারা সত্যিকারের অনুলিপিকারকও না। এটি সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত বাস্তব সেই সত্যটি যে “লামার্কিয় উত্তরাধিকারের তত্ত্বটি মিথ্যা’ তারই গুরুত্বপূর্ণ পরিণতির একটি।
(৭) স্যার পিটার ব্রায়ান মেদাওয়ার (১৯১৫-১৯৮৭) ব্রিটিশ জীববিজ্ঞানী। অঙ্গ প্রতিস্থাপন গ্রাফট রিজেকশন এবং অ্যাকোয়াড ইমিউন টলারেন্স এর বিষয়ে তার মৌলিক গবেষণা অঙ্গ প্রতিস্থাপন বিষয়টি সম্ভব করেছে।
(৮) আমাকে কঠোরভাবেই তিরস্কার করা হয়েছে (অবশ্যই উইলিয়াম নিজে নন বা তাদের জানামতেও না) এই বার্ধক্য সংক্রান্ত তত্ত্বটির কৃতিত্ব, জি সি উইলিয়ামসের বদলে পি. বি. মেডাওয়ারকে দেবার জন্য। এটি সত্যি যে অনেক জীববিজ্ঞানী, বিশেষ করে আমেরিকায়, এই তত্ত্বটি সম্বন্ধে জেনেছেন মূলত ১৯৫৭ সালে লেখা উইলিয়ামস এর Pleiotropy, Natural Selection, and the Evolution of Senescence শীর্ষক একটি প্রবন্ধ থেকে। আরো সত্যি যে, মেডাওয়ার যা বলেছিলেন, উইলিয়ামস এই তত্ত্বটি নিয়ে আরো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছিলেন। তবে যাই হোক আমার নিজের বিবেচনা বলছে যে, মেডাওয়ারই প্রথম এই ধারণাটির কেন্দ্রীয় যুক্তিটিকে ব্যাখ্যা করেছিলেন, ১৯৫২ সালে তার An Unsolved Problem in Biology এবং ১৯৫৭ সালে The Uniqueness of the individual বইয়ে। আমি যুক্ত করতে চাই যে তত্ত্বটি নিয়ে উইলিয়ামসের ব্যাখ্যা আসলেই খুব বোধগম্য, কারণ এটি এই যুক্তিতে একটি আবশ্যকীয় ধাপ, যা সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে (pleiotropy বা multiple gene effects এর গুরুত্ব) যা মেডাওয়ার যেমন সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেননি। সাম্প্রতিক সময়ে ডাবলিউ. ডি. হ্যামিলটন এই ধরনের তত্ত্বকে আরো খানিক সম্প্রসারণ করেছেন তার The Moulding of Senescence by Natural Selection শীর্ষক একটি প্রবন্ধে। ঘটনাচক্রে আমি অনেক উল্লেখযোগ্য চিঠি পেয়েছি ডাক্তারদের কাছ থেকে, কিন্তু আমার মনে হয় কেউই মন্তব্য করেননি আমার সেই অনুমান নির্ভর ‘fooling’ জিনের ধারণা নিয়ে, জিনগুলো যে শরীরে তারা বাস করে সেই শরীরের বয়স নিয়ে বোকা বানানো সংক্রান্ত ধারণা প্রসঙ্গে (মূল বইয়ের পৃষ্ঠা৫৩-৪); ধারণাটি এখনও আমার কাছে খুব স্পষ্টভাবে অর্থহীন বলে মনে হয় না। আর যদি সেটি সঠিক হয়ে থাকে, এটি নিশ্চয় চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হবার কথা তাইনা?
(৯) যৌন প্রজনন কিসের জন্য ভালো সেই প্রশ্নটির সমস্যা আগের মতই এখনও আমাদের ধরা ছোঁয়ার বাইরে লোভনীয় একটি প্রস্তাবনা, যদিও বেশ কিছু ভাবনা উদ্রেক করার মত বই প্রকাশিত হয়েছে এই বিষয়ে, বিশেষ করে, এম, টি, গিশেলিন, জি, সি. উইলিয়ামস, জে, মেনার্ড স্মিথ এবং জি. বেল প্রমূর্খ লেখকদের লেখা, এছাড়া একটি খণ্ড, যা সম্পাদনা করেছেন আর. মিশেদ এবং বি. লেভিন। আমার মনে হয় সবচেয়ে আকর্ষণীয় ধারণাটি এসেছে ডাবলিউ. ডি. হ্যামিলটনের পরজীবি তত্ত্বটি থেকে, যা সাধারণ ভাষায় ব্যাখ্যা করেছে জেরেমি শেফাস ও জন গ্রিবিন তাদের The Redundant Male বইটিতে।
(১০) (মূল বইয়ের পৃষ্ঠা ২৩৭ও দেখুন); বাড়তি, অনূদিত হয় না ডিএনএ-এর এমন অংশগুলো কোনো স্বার্থপর পরজীবি হতে পারে, আমার এমন ধারণাটি আরো বিস্তারিতভাবে গবেষণার বিষয় হিসাবে গ্রহন করেছেন আণবিক জীববিজ্ঞানীরা (ওরগেল এবং ক্রিক, ডুলিটল ও সাপিয়েনজার প্রবন্ধগুলো দেখতে পারেন) পরিচিত স্লোগান ‘Selfish DNA’ শিরোনামে। স্টিফেন. জে. গুল্ড তার Hen’s Teeth and Horse’s Toes বইটিতে একটি প্ররোচনামূলক প্রস্তাব (আমার প্রতি!) করেছিলেন, স্বার্থপর ডিএনএ ধারণাটি ঐতিহাসিক উৎস জানা সত্ত্বেও তিনি দাবী করেন, “স্বার্থপর জিন ও স্বার্থপর ডিএনএর তত্ত্বগুলো খুব বেশী আলাদা কিছু হতে পারে না তাদের লালনকারী ব্যাখ্যার কাঠামো ছাড়া। আমি এই যুক্তিটি ভ্রান্ত তবে আকর্ষণীয় মনে করি। ঘটনাচক্রে, তিনি আমাকে দয়া করে জানিয়েছিলেন, আমার ধারণাগুলো সম্বন্ধে সাধারণত তার অনুভূতিও একই রকম। রিডাকশনিজম’ এবং ‘হায়ারার্কি’ সংক্রান্ত কিছু প্রারম্ভিক আলোচনার পর (যা যথারীতি আমার ভুলও কিছু মনে হয়নি তেমন আকর্ষণীয় কিছু মনে হয়নি), তিনি আরো বলেন:
