সবচেয়ে ভালো যে কার্ডটা আমি খেলতে পারি সেটিও ডিফেক্ট অসহযোগিতা। স্বীকার করছি যে, আমি পারস্পরিক অসহযোগিতার কারণে প্রাপ্ত শাস্তির ভুক্তভোগী, কিন্তু যদি আমি সহযোগিতা করি আমি তাহলে ‘সাকার’ এর বিনিময় মূল্য পাবো যা কিনা আরো খারাপ (১০০ ডলার জরিমানা)। এবার তাহলে দেখুন আর কি আপনি করতে পারেন (বাম-দিকে কলামের দিকে তাকান), সহযোগিতার কার্ডটি খেলতে পারেন। আবারও ‘ডিফেক্ট’ বা অসহযোগিতা আমার জন্য সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ। যদি আমি সহযোগিতা করি, তাহলে আমরা দুজনেই বেশ বড় মাপের টাকা, মাথাপিছু ৩০০ ডলার করে পেতাম, কিন্তু আমি যদি অসহযোগিতা করি তাহলে আমি পাবো আরো বেশী :৫০০ ডলার। এর উপসংহার হচ্ছে, আপনি যে কার্ডটি খেলুন না কেন, আমার সেরা চালটি হবে ‘সবসময়ই অসহযোগিতা করা।
সুতরাং আমি একটি নির্ভুল যুক্তি বের করেছি যে, আপনি যাই করুন কেন আমি অবশ্যই অসহযোগিতা করবো। এবং আপনিও কোনো অংশেই কম নির্ভুল নয় এমন যুক্তি দিয়ে ঠিক একই সিদ্ধান্ত নেবেন। সুতরাং যখন দুটি যুক্তিসম্পন্ন মানুষ মিলিত হয়, তারা দুজনেই অসহযোগিতার কার্ড খেলে, তারা দুজনেই হয় জরিমানার শাস্তি পায় অথবা কম পরিমান টাকা পায়। তারপরও দুজনেই খুব ভালো করে জানেন যে, যদি তারা দুজনে সহযোগিতা কার্ডটি খেলে থাকেন, তারা দুজনেই বেশ ভালো পরিমানে পুরষ্কার আদায় করতে পারতেন পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য (আমাদের উদাহরণে, ৩০০ ডলার); একারণে এই খেলাটিকে বলে একটি ডাইলেমা বা উভয় সংকট, কেন এটি এত বেশী পাগল করে দেবার মত ধাঁধা সৃষ্টি করে এবং কেন এমনকি প্রস্তাব করা হয়েছে এর বিরুদ্ধে একটি আইন থাকা উচিৎ।
‘প্রিজনার’ শব্দটি এসেছে আরো একটি বিশেষ কাল্পনিক উদাহরণ থেকে। এখানে বিনিময় হচ্ছে টাকা নয় বরং জেলে থাকার শাস্তির পরিমান। দুইজন ব্যক্তি– তাদের নাম যেমন ধরুন, পিটারসন এবং মরিয়ার্টি– বর্তমানে কারাগারে আটক, পুলিশের সন্দেহ সহযোগীরূপে তারা দুইজন একটি অপরাধ সংঘটন করেছে। দুইজন অবস্থান করছে কারাগারের পৃথক দুটি কক্ষে, এবং পৃথকভাবেই তারা দুইজন পুলিশের জেরার মুখোমুখি হয়, দুইজনকেই আলাদা করে অপরাধের অপর সহযোগীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা (ডিফেক্ট) করতে, এবং রাজসাক্ষী হবার জন্য প্রস্তাব দেয়া হয়। যা ঘটে তা নির্ভর করবে এই দুইজন বন্দী কি করবে তার উপর, এবং কেউ জানেনা অন্যজন কি করেছে। যদি পিটারসন সব দোষ মরিয়ার্টির উপর চাপিয়ে দেয় এবং মরিয়ার্টি সেই কাহিনীটিকে সত্য হবার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয় চুপ থাকার মাধ্যমে (তার একসময়কার বন্ধু এবং যে কিনা দেখা গেল বিশ্বাসঘাতক বন্ধু)। মরিয়ার্টি দীর্ঘ মেয়াদী শাস্তি পায়, অন্যদিকে পিটারসন কোন শাস্তি ছাড়াই জেল থেকে মুক্তি পায়, যে “ডিফেক্ট’ বা অসহযোগিতা আর বিশ্বাসঘাতকতা করার প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করে। যদি তারা দুজনেই দুজনের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতো, দুজনেই অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হতো, কিন্তু আরেকজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবার মাধ্যমে অপরাধের কিছু প্রমাণ দেবার কারণে খানিকটা ছাড় পেতো, এবং যদিও কঠোর, তবে খানিকটা হ্রাসকৃত সাজায় দণ্ডিত হতো, পারস্পরিক বিশ্বাসঘাতকতার শাস্তি। যদি দুইজনই সহযোগিতা করতে ( একে অপরের সাথে, কর্তৃপক্ষের সাথে না), দুইজনের কেউ কোনো কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে, তাহলে তাদের মূল সেই অপরাধের জন্য সাজা দেবার জন্য কতৃপক্ষের হাতে যথেষ্ট পরিমান প্রমাণ ছিলনা। তারা বরং এর বদলে অপেক্ষাকৃত ছোট কোনো অপরাধের জন্য অল্প খানিকটা সাজা পেত, পারস্পরিক সহযোগিতার করার জন্য পুরষ্কার। যদিও, জেলখানার কোনো শাস্তিকে পুরষ্কার হিসাবে চিহ্নিত করা মনে হতে পারে বেশ অদ্ভুত একটি বিষয়, কিন্তু ঠিক সেভাবেই তারা সেটি দেখতো, যদি কারাগারে আরো দীর্ঘতর সময় আটক থাকা এর বিকল্প হতো। আপনি হয়তো লক্ষ করবেন, যদিও পে-অফ এখানে ডলারে হচ্ছে। না বরং কারাগারে বন্দী থাকার শাস্তি, কিন্তু খেলার অপরিহার্য বৈশিষ্ট্যগুলো সংরক্ষিত থাকে (পছন্দের ক্রমানুসারে চারটি আউটকাম বা ফলাফলের তালিকাটি লক্ষ করুন)। যদি আপনি আপনাকে প্রতিটি বন্দীর জায়গায় কল্পনা করেন, মনে করে নেন যে উভয়েই যৌক্তিক আত্মস্বার্থ রক্ষার জন্য প্ররোচিত হবে এবং যেহেতু জোট বাধার জন্য তারা পরস্পরের সাথে আগে কথা বলতে পারবে না, আমরা দেখবো অন্যের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা ছাড়া কারোই কোনো উপায় নেই, যার ফলে দুজনেই কঠোর শাস্তি পাবে।
এই উভয় সংকট থেকে মুক্তি পাবার কি কোনো উপায় আছে? দুজন খেলোয়াড়ই জানেন যে তাদের প্রতিপক্ষ যাই করুক না কেন, তারা নিজেরা বিশ্বাসঘাতকতা বা অসহযোগিতা করার চেয়ে ভালো কিছু করতে পারবেন না। তারপরও দুজনের আরো যে বিষয়টি জানা আছে সেটি হচ্ছে, যদি তারা দুজনই পরস্পরকে সহযোগিতা করে, প্রত্যেকেই সুবিধাজনক একটি ফলাফল পাবে, শুধুমাত্র যদি, শুধুমাত্র যদি তারা সেটি করে .. শুধুমাত্র যদি তারা কোনো না কোনোভাবে ঐক্যমতে পৌঁছাতে পারতো, কোনো না কোনোভাবে দুজনই যদি একে অপরকে আশ্বস্ত করতে পারতো, তাদের কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করে স্বার্থপরের মত ভালো পুরস্কারটি কেড়ে নেবে না, এবং কোনোভাবে যদি এই চুক্তির উপর নজরদারী করা তারা নিশ্চিৎ করতে পারতো।
