মলি ফ্লান্ডার ক্রসের দিকে না তাকিয়েই স্বাক্ষর করতে করতে বলল। হ্যাঁ।
কিছুক্ষণ পর এলি ম্যারিয়ন এবং ববি বানজ সভাকক্ষে বসল। তারা উভয়েই নিশ্চুপ থাকল। শেষে ম্যারিয়ন বলল, এখানে একটি নৈতিক প্রশ্ন আছে।
বানজ বলল, আমরা গোপনে চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছিলাম, আমরা যদি তেমন ভাবি, তাহলে আমরা তাকে ফোন করতে পারি।
ম্যারিয়ন মাথা ঝাঁকাল। তাহলে আমরা ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত হব, ক্রস হলো আমাদের আশা-প্রত্যাশা, তাছাড়া যদি সে কিছু ভুল বের করতে পারে তবে তা আমাদের জন্য হবে খুবই বিপজ্জনক।
তাতে তার কি, তার লডস্টোনকে স্পর্শ করার সাহস নেই বানজ বলল, আমি কি তার আগমনে উদ্বিগ্ন হব?
ম্যারিয়ন আস্তে আস্তে মদপান করছিল, চুরুট টানছিল। পাতলা সুগন্ধিযুক্ত চুরুটটি তার শরীরে যন্ত্রণার উদ্রেক করল।
এলি ম্যারিয়ন এখন পুরোপুরি ক্লান্ত। সে এতই বৃদ্ধ হয়েছিল যে ভবিষ্যৎ নিয়ে সে খুবই চিন্তিত ছিল।
আমাকে ফোন করো না, সে বলল, আমদের চুক্তিপত্রটি রাখতে হবে। কারণ যে কোনো সময় আমাদের মধ্যে সমস্যা দেখা দিতে পারে। স্কিপি ডিরি সভার পর তার বাড়ি ফিরে গেল এবং তার সঙ্গে মিলিত হয়ে জিম লুজির প্রতি হুকুমনামা জারি করল।
তাদের সভায় জিম লুজির কাছে ঘটনা বর্ণনা করল। সে বলল, তুমি কিছু মজার জিনিস খুঁজে পাবে।
কিন্তু সে বলল, জিম লজির সঙ্গে চুক্তি হওয়ার পর আমি একটি নতুন ছবিতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করতে রাজি হয়েছি। সে সান্তা মনিকা সম্পর্কে একটি সিরিয়াল তৈরি করছিল।
যে কোনো কারণের জন্য ক্রস ডি লিনা লাস ভেগাসে ফিরে এলো এবং পেন্থ হাউজের সুইটের কারণে তার জীবনে অভিশাপ নেমে এলো। কেন সে ঝুঁকি নিয়েছিল? খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল তার জয়লাভ করা। কেবল টাকা নয় তার জীবনে নতুন পথ তৈরি ছিল। কিন্তু হঠাৎ তার জীবনে দুর্দশা নেমে এলো। যার প্রকৃত কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না। একদিন অ্যাথেনা তার জীবনে এসেছিল এবং তাকে খুবই ভালোবেসেছিল কিন্তু তার ভালোবাসা সারা জীবনের জন্য না হলেও এক মুহূর্তের জন্য তো ছিল।
গ্রোনিভেল্ট কি বলেছিল? নারীরা কখনোই নিজ থেকে ভয়ঙ্কর হয় না যদি না তাদের ভয়ঙ্কর করতে অনুপ্রাণিত না করা হয়। স্মরণ রেখো, গ্রোনিভেল্ট বলল, সৌন্দর্য হলো ভয়ঙ্করের প্রধান কারণ, কিন্তু সে যে তার মন থেকে সবকিছু ধুয়েমুছে ফেলল। ভেগাসের দৃশ্য দেখতে লাগল, দেয়ালে বিভিন্ন। রঙের বাতি জ্বলছিল তা দেখে, সামান্য সময় তার মন ভরলেও আবার অতীত তার চোখে ভেসে উঠল। যদিও অ্যাথেনা অ্যাকুইটেন এক প্রকার দৈত্য ছিল। কিন্তু কেন সে এমন করল, তা সামান্য কথার দ্বারা বোঝানো যাবে না। সে সে বিষয়ে কারও কাছেই পরিষ্কার করে কিছু বলেনি। তার সমস্ত প্রতিরক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার পরও সে ছবি করতে রাজি হয়নি কারণ মৃত্যুর প্রতি তার ভয় ছিল খুবই বেশি। ছবিটি করার পর সে একা হয়ে গিয়েছিল, স্কানেট তারপর এসেছিল।
এলি ম্যারিয়ন, ববি বানজ, স্কিপি ডিরি, তারা সকলেই সমস্যাটা জানত এবং তার উত্তরও জানত। কিন্তু কারও তা বলার সাহস ছিল না। মানুষ তাদের পছন্দ করত, ঝুঁকি ছিল বেশ বড়, তারা বেশ উচ্চস্থানে অবস্থান করছিল, ভালোভাবে জীবনযাপন করত। যা তারা খুব সহজেই হারিয়ে ফেলল। তাদের জয়লাভ ঝুঁকির সমান ছিল না। শুধু ছবিতে একটি মাত্র ভুলের জন্য তারা সবকিছু হারিয়ে ছিল। তাছাড়া তারা উঁচু ও নিচু সমাজের মধ্যে পার্থক্য খুঁজতে ব্যর্থ হয়েছিল। তাই তাদের ঝুঁকি ছিল নৈতিক। তাছাড়া তাদের মূলধন উঠেও এসেছিল। আর সেই সময় বুদ্ধিজাত সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। পরও তাদের কিছু ভুল ছিল। ছবি তৈরির টাকা দিয়ে অন্য কোনো কাজ করলেও তারা তাদের অবস্থান ঠিক রাখতে পারত।
সুতরাং এখন তাদের প্রধান সমস্যা দুটো। বজ স্কানেট তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলল, প্রথমটি হলো ছবিটি প্রধানত অ্যাথেনার কারণেই মার খেয়েছিল। ক্রসের সাবলীল ভুল।
০৮. বিগ টমের সঙ্গে জড়িয়ে
০৮.
ক্রস ডি লিনা বিভিন্ন কারণে বিগ টমের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এর একটি হলো সে প্রতি বছর পাঁচশত মিলিয়ন ডলার মানুষের ভাগ্যান্বেষণে এবং এক মিলিয়ন ডলার জাদুর বন্দিশিবিরে প্রদান করত। দ্বিতীয়ত সে জীবনের ক্রান্তিলগ্নে তার নীতিবহির্ভ ভাড়ামির জন্য মানুষের মধ্যে ভালোবাসা অন্বেষণ করত।
টিম স্নেডেন শপিংমলের মালিক হওয়া সত্ত্বেও একজন রাসলার হিসেবে সমাজে পরিচিত ছিল। সে লাস ভেগাসের একজন শাসক হলেও ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য জুড়ে ছিল তার অগাধ বিচরণ। সে স্থায়ীভবে জানাদুতে বসবাস করত। সে বিশেষভাবে জুয়া খেলায় পারদর্শী ছিল। এই খেলা তার ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। সে ছিল খুব ঝুঁকিপ্রবণ জুয়াড়ি। জুয়া খেলা ছাড়াও সে অন্য খেলায়ও ঝুঁকি গ্রহণ করত। সে কখনও কখনও সামান্য বল খেলা নিয়ে পাঁচ থেকে দশ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাজি ধরত। সে নিজেকে একজন সুচতুর বা চালাক বলে মনে করত। অনেক সময় ছোট বাজিতে হারলেও বড় বাজিতে সে ঠিকই জয়লাভ করত। এজন্য সে সকল বাজিতেই কম-বেশি অংশগ্রহণ করত।
রাসলারটি ছিল বেশ লম্বা, প্রায় সাড়ে ছয় ফিট উচ্চতা, তিনশত পঞ্চাশ পাউন্ড ওজন। তার ক্ষুধা ছিল তার শারীরিক গঠনের মতোই, তার চোখে যা পড়ত সে তাই খেত। এজন্য সে সর্বদা উল্লাসপূর্ণ থাকত।
