তারপর বাবা-মার সম্মতিক্রমে, মারসি এবং থিও একসঙ্গে বসবাস শুরু করল। তার বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিল তাদের গ্রাজুয়েশন শেষ করার পর তাদের বিয়ে দেবে। থিও নাটকের ওপর পড়াশোনা করত আর মারসি সঙ্গীত ও সাহিত্যের ওপর।
কিন্তু যুবকরা ছিল খুবই আকর্ষণীয়। মারসি বর্তমানে তার কলেজের শেষ বর্ষের ছাত্রী। ইতিমধ্যে সে একই শ্রেণীর এক ছাত্রকে ভালোবেসে ফেলল, যে থিওর পিতা-মাতার চাইতেও অনেক বেশি সামাজিক এবং ধনী ছিল। সে থিওকে একজন শুধুমাত্র বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করতে চাইল। সে দেখল একই সময়ে দুইজন প্রেমিককে সমানভাবে কাছে টানা যায় না। তার নিষ্পপতা বোধ তাকে এমনভাবে ব্যাপারটাকে সহজ করে তুলল। এটা তাকে অদ্বিতীয় করে তুলল।
থিও অবাক হলো। সে কোনোভাবেই ব্যাপারটাকে মন থেকে মেনে নিল না। সে বারবার তার দোষ খোঁজার চেষ্টা করল। তাকে ভুলে যাওয়ার পরিবর্তে তার মধ্যে আরো আবেগ দেখা দিল। সে এটাকে না পাওয়ার যন্ত্রণা হিসেবে আরো বেশি প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠল।
তাছাড়া মারসি জানত থিও সাধারণত কোনো কাজ করতে পারেনা। একদা যখন তারা দুই সপ্তাহের ছুটিতে তাদের এপার্টমেন্টে গিয়েছিল তখন তারা নতুন জন্মলাভ করা একটা ছোট মাইচ তাদের বিছানায় দেখেছিল। থিও এটাকে খুব সাধারণ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছিল এবং পরবর্তীতে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল। কিন্তু মারসি ব্যাপারটাকে খুব কঠিন করে নিয়েছিল। সে ভেবেছিল পরে এটা তার ক্ষেত্রে বিপজ্জনক বা ভয়ের কারণ হিসেবে কাজ করতে পারে। কিন্তু যখন থিও মারসির অন্যান্য প্রেমিকদের দেখেছিল, তার মনে আঘাতের ছোঁয়া লেগেছে। তখন কান্নায় ফেটে পড়ত এবং তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করত। সে তাকে ক্ষমাও করত। সে দেখত তাদের ভালোবাসার উত্তেজনা, পাগলামি। আবার তারা অনেক সময় ব্যাপারটিকে নিয়ে ঝগড়াও করত। তাছাড়া অনেক সময় ঝগড়া-ঝাটির কারণে মারসি এপার্টমেন্ট থেকে বাইরেও চলে যেত।
তার অন্য ভালোবাসার প্রতিও অনুগত ছিল। মারসির আরো অনেক সম্পর্ক ছিল। কিন্তু সে এবং থিও একে-অপরের বন্ধু হিসেবে বিভিন্ন ওকেসানে একসঙ্গে ঘুমাত।
মারসি পূর্বের দিকে গিয়ে ইভিলিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার পরিকল্পনা করল। থিও লস অ্যাঞ্জেলেসের দিকে যাত্রা আরম্ভ করল এবং ছবির বাকি চিত্রনাট্য লিখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। সেখানে একদল নাট্য গোষ্ঠী তাকে নাটক করার জন্য আমন্ত্রণ জানাল।
মারসি নাটক করার জন্য গেল এবং সেই রাতে মারসি থিওর এপার্টমেন্টে রাত কাটাল। আসলে সে দিন কি ঘটেছিল তা স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তারপর মারসির মৃত লাশ পাওয়া গেল।
ক্যালিফোর্নিয়াতে এমনই অনেক মিডিয়ার ভিড়, তারওপর আবার সেখানকার গভর্নরের মেয়ে খুন হয়েছে। সবাই অবাক হলো, ব্যাপারটি আসলে কি ঘটছে ভেবে। কারণ থিওর সঙ্গে মারসির তিন বছরেরও বেশি সম্পর্ক ছিল।
আইনবিদ মলিফ্লোন্ডার সেখানে চেষ্টা করছিল প্রকৃত ঘটনা উঘাটনের জন্য।
সে অনেক সাক্ষী-প্রমাণ গ্রহণ করল। শেষ পর্যন্ত মারসির ছয় জন প্রেমিক বিদ্যমান ছিল। যখন থিও বিশ্বাস করল যে মারসি বিবাহিত। তখনই ঘটনাটা অন্য দিকে মোড় নিয়েছিল। এমনই মন্তব্য পোষণ করল মলিফ্লোন্ডার। তাছাড়া গভর্নরের সঙ্গে মলি ফ্লান্ডারের সম্পর্ক বিশ বছরের। তাই সে বারবার হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য বের করার চেষ্টা করল।
অন্য দিকে থিও ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার একজন ক্ষমতাধর ব্যক্তির সন্তান। মলিগ্লান্ডার সব কিছু বিবেচনা করে মুখ খুলল না। তবে ধারণায় নিলেন কাজটি থিওর দ্বারাই সম্পন্ন হয়েছে। আসলে সেই সময় থিওকে খুবই আনন্দিত মনে হচ্ছিল আর এ কারণেই সবাই একই সিদ্ধান্তে পৌঁছল যে থিও মারসির অন্য ছয় জন প্রেমিককে মেনে নিতে পারেনি। তাই সে এই তুলকালাম ঘটনাটি ঘটিয়েছে।
সে গভর্নরের সমস্যাটাকে গভীর সমবেদনার মাধ্যমে গ্রহণ করল। আসলে কারো সঙ্গে বিশ বছরের সম্পর্ক যেনতেন ব্যাপার নয়। তাই সে বারবার তাকে শান্ত করার চেষ্টা করল। তাছাড়া গভর্নর রাজনৈতিক জীবনে আমাদের সবাইকে অনেক ক্ষেত্রে পরামর্শ, আদেশ দিয়ে সাহায্য করেছিল। সে অনেক সময় জজ কর্তৃক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, তা নীরবে মুখ বুজে সহ্য করেছিল। যখন সে জুয়া খেলত তখন সে সবকিছু ধৈৰ্য্য সহকারে করত। আর গ্রোনিভেল্ট দীর্ঘদিন তার সঙ্গে থেকে বিভিন্নভাবে ফায়দা লুটত। তারপরও গভর্নর তাকে প্রত্যাখ্যান করেনি। তার এই বিপদের দিনে অবশ্যই প্রত্যেককে এগিয়ে আসা দরকার, এমনই মনে করল গ্রোনিভেল্ট।
গ্রোনিভেল্ট গভর্নরকে সকালে গলফ খেলার আসরে তার সঙ্গে মিলিত হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ করল। তারা খেলার পর গভর্নরের বাড়িতে গেল এবং সেখানে দুপুরের খাবার খেল। পিপি ও ক্রস, গভর্নরকে শান্ত করার চেষ্টা করল। তারা নিজেদের তার সন্তান হিসেবে দাবি করল যাতে করে গভর্নর একটু হলেও সান্ত্বনা পায়।
ওভেন ব্যবসায় ক্ষতি হওয়ার কারণে তার নিজস্ব ভারসাম্য হারিয়ে ফেলল। তার চোখ-মুখে কষ্টের ছায়া দেখা গেল। জানাদু হোটেলের কক্ষে বেসবল ক্যাপ পরে কথা বলছিলেন। সে ছিল অস্থির। মাঝে মাঝে হাসলেন। কোনো রাজনীতির হাসি না। গ্রোনিভেল্ট লক্ষ্য করল তার দাঁতগুলো বেশ হলুদ। সে অবশ্যই অতিরিক্ত মদপান করে।
