স্কিপি ডি বলল, এই ছবি করার জন্য একটি আলাদা স্টুডিও ভাড়া করতে হবে। খ্রিস্টকে এই চরিত্রে অভিনয় করে বাস্তবিকতা ফুটিয়ে তুলতে হবে।
সে তার সমস্ত অর্থ শেষে ফিরিয়ে আনল। সব কিছু স্বপ্নের মতো সম্পন্ন। হলো। খিস্ট তার চরিত্রটিতে ভালোভাবে অভিনয় করল। ডি ছবিটা যথাযথভাবে প্রযোজনা করল। এটা বাজেটের নব্বই শতাংশেই পর্দায় পাঠানো সম্ভব হলো।
সেই সময় ডি কখনো তার স্ত্রীর প্রতি অবিশ্বস্ত হতে পারছিল না। শুধু একটা রাত ছাড়া যখন সে লন্ডনে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান আয়োজনে ছিল।
তখন সে একটা খুব স্লিম ইংলিশ মেয়ের ভালোবাসায় আসক্ত হয়েছিল।
এই ভালোবাসা তার কাজে সাহায্য করেছিল। ছবিটি আর্থিক সাফল্য এনেছিল। খিস্টি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে একাডেমি পুরস্কার পেল।
স্কিপি ডিবি পরে ক্লডিয়াকে বলল, হ্যাপিলি ইভার আফটার ছবিটি কোথায় শেষ হওয়া উচিত ছিল। দেখল তার আসল আত্মমর্যাদা। এখন সে তার সত্য মূল্য অনুভব করল। সত্য হলো সে এখন একজন পরিপূর্ণ ব্যস্ত তারকা। সে এখন পরিচালকের পাঠানো স্ক্রিপ্ট পায়।
অধিক ভালো কিছু খোঁজার জন্য ডি তাকে পরামর্শ দিল। পরের ছবিটা হবে জটিল। তার জীবন সম্পর্কে সে কখনো উদ্বিগ্ন ছিল না। কিন্তু পুরস্কার। পাওয়ার কয়েক মাস পর সম্মানীয় অভিনেত্রী হিসেবে তাকে সর্বশীর্ষ স্থানীয় পার্টিতে দাওয়াত করল। চলচ্চিত্র ব্যবসায়ের গুরুত্বপূর্ণ সারিতে তাকে দেখা গেল। সে সদ্য যুবতী মেয়েটির সাথে অন্তরঙ্গ হয়ে গেল। খেয়ালখুশিভাবে পনের বছরের জুনিয়র অভিনেতার সাথে অন্তরঙ্গভাবে সে বাইরে চলে যেত। চিত্র সাংবাদিকরা তার বিবরণ নিল, নারীবাদীরা তা নিয়ে খুব আনন্দিত হলো।
স্কিপি ডিরি বাহ্যিকভাবে এটাকে খুব ভালোভাবে নিল। সে সমস্ত বিষয়টা বুঝল।
সর্বোপরি কেন সে নিজে নিজেই যুবতী মেয়েটাকে প্যাঁচের মধ্যে রাখল? আবার কেন সে তার অসাধারণ প্রচেষ্টা খ্রিস্টির ক্যারিয়ারে যোগ করবে? বিশেষ করে, সে আসলে তার কাছে তার এক যুবক প্রেমিকের জন্য চরিত্রটা চেয়েছিল। তার জন্য স্ক্রিপ্ট খোঁজা বন্ধ করল। সে অন্য প্রযোজক, পরিচালক, স্টুডিও প্রধানদের সাথে তার জন্য প্রতিযোগিতা বন্ধ করে দিল। তারা বয়স্ক লোক হিসেবে খ্রিস্টিকে কোনো প্রকার সুযোগ দিল না।
খ্রিস্টি প্রধান চরিত্র হিসেবে আরো দুইটি ছবি নির্মাণ করল। আর দুটি ছবিই ফ্লপ করল কারণ তার চরিত্র ছিল ভুলে ভরা।
আর সে কারণেই সে পুরস্কার থেকে যা পেয়েছিল তা ব্যবসায়ে ব্যয় করল।
তিন বছরের মধ্যে সে তৃতীয় পর্যায়ে চলে এলো।
এই সময়ে সে একজন লোকের সাথে ভালোবাসায় আসক্ত হলো। লোকটার ইচ্ছে ছিল প্রযোজক হওয়ার। বাস্তবিক একেবারে তার স্বামীর মতো, কিন্তু তার মূলধন দরকার। তাই খ্রিস্টি তাকে ডিভোর্স দিল। বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি এবং বছরে পাঁচ লাখ ডলার খোরপোশ হিসেবে পেল। তার আইনজীবী ইউরোপে স্কিপির সম্পদ সম্পর্কে কোনো খোঁজ পেল না। অতএব, তারা বিচ্ছিন্ন বন্ধু। সাত বছর পর খ্রিস্টি এক দুর্ঘটনায় মারা গেল। যদিও সে ডির খ্রিসমাস কার্ডের তালিকায় আছে, আসলে সে তার বিখ্যাত লাইফ ইজ টু শর্ট-এর তালিকায়ও আছে। কাজেই ক্লডিয়া ডি লিনা ডির ভালোবাসায় আচ্ছন্ন ছিল। কারণ সত্য অন্যের কাছে প্রকাশ করা, তার জীবনধারণ তার জীবনের জন্য। তাই অশালীনভাবে সে তার আত্মস্বার্থে মগ্ন হলো। তার ক্ষমতার কারণে তুমি তাকে দেখো, আর তোমাকে তার বন্ধু বলে মানে, তোয়াক্কা না করে তুমি জানলে সে কখনো বন্ধুত্বের মতো কাজ করতে পারে না। সে ছিল যেমন আকর্ষণীয় তেমন ভণ্ড। আর অন্যদিকে ডি ছিল একজন বড় ধৈর্যশীল। আর সে ছিল সেই লোক, সে জেনেছিল কে ক্রসের সাথে বুদ্ধিমত্তা মানিয়ে নিতে পারে। তারা পরবর্তী প্লেনে ভেগাসে গেল।
০৬. ক্রসের একুশ বছর
পর্ব– চার
ক্রস ডি লিনা
দ্য ক্লেরিকুজিও
০৬.
ক্রসের একুশ বছর পূর্ণ হলো। পিপি ডি লিনা ক্রসের অদৃষ্ট নিয়ে অস্থির এছিল। একজন মানুষের খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সে তার জীবনধারা গড়ে তুলবে। সে অবশ্যই উপার্জন করবে, আর তার শিশুদের ভরণ-পোষণ করবে। একজন লোকের অবশ্যই নিশ্চিত একটি শক্তির উৎস এই পৃথিবীতে থাকতে হবে। এটা করতে অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা ভোগ করতে হয়। এভাবেই দিনের পর দিন, রাতের পর রাত ক্লেরিকুজিও পরিবারে ক্রস তার জায়গা করে নিয়েছে। এটা নিশ্চিতভাবে প্রয়োজন ছিল তার অস্তিত্ব গড়ে তুলতে।
পরিবারে তার ভালো সম্মান ছিল। পিপি সম্পর্কে ডেন্টির বাজে মন্তব্যের বিরুদ্ধে সম্মানের সাথে উত্তর দিয়ে ডন বলল, আমি তা জানি না। তুমিও তা জানো না। কোনো লোকই তা জানেন না। তুমি কোথায় পেলে এরকম বাজে কথা? উত্তরটা ডন আনন্দের সাথে ব্যাখ্যা করল। তরতাজা যুবক শ্রেণীর একজন মানুষ খুব কৌশলী ও প্রজ্ঞাবান হতে হবে, আর এতে তার পিতার সম্মান বাড়বে। আমরা অবশ্যই সেই বালককে সুযোগ দেব। এর সব কিছুই পিপির সাথে সংশ্লিষ্ট ছিল। তাই সে বুঝল, সময়টা উপযুক্ত।
সে ক্রসকে প্রস্তুত করতে শুরু করল। সে তাকে সংগ্রহ করার কাজে নিয়োগ করে পাঠাল। আর এটা ছিল কঠিন কাজ। সে পরিবারের পুরনো ইতিহাস ও কিভাবে কাজ সমাধা করা হয়েছিল তা আলোচনা করল। কোনো কল্পনা নয় বলে সে জোর দিল। কিন্তু কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাইলে, তোমাকে অবশ্যই চূড়ান্ত পরিকল্পনা দাঁড় করাতে হবে। সরল হলো চূড়ান্ত সরলতা। তুমি একটা ছোট ভৌগোলিক এলাকা নির্দিষ্ট করে সেখানে তোমার লক্ষ্য ঠিক করো। প্রথমে সন্দেহভাজন লোকদের ওপর নজর দাও, পরে গাড়ি এবং মানুষকে আঘাত করো। তারপর সব চলমান গাড়ি ব্লক করে ফেল, শেষে ভূখণ্ডের দিকে এগিয়ে যাও, যাতে তৎক্ষণাৎ প্রশ্নের সম্মুখীন হতে না হয়। এটা সোজা। কল্পনা করো, তুমি কল্পনাকে জয় করেছ। তুমি যে কোনো বিষয়ে স্বপ্ন দেখতে পারো কিন্তু এটাকে ফিরে পেতে তোমাকে সঠিক পরিকল্পনায় অবশ্যই এগোতে হবে। অনিবার্যভাবে হলে– তুমি শুধু কল্পনার আশ্রয় নিতে পারো।
