আমাকে হাসাবেন না।
কর্মচারী বলল, এটা খুব দামি কাপড়ের এবং হাতে তৈরি। তাছাড়া এ ধরনের ব্লাউজ পৃথিবীর কোথাও পাওয়া যাবে না, একমাত্র আমরাই এটা সরবরাহ করি। তাছাড়া এটার দামও তেমন বেশি বলে আমরা মনে করি না।
ডিরি হাসছিল, সে বলল, ক্লডিয়া এটা কেনার প্রয়োজন নেই। তুমি কি জান দুপুরের খাবার খেতে কত টাকা লাগবে। তাছাড়া তুমি সর্বদা এটা ৩০ ডলার দিয়ে কিনতে পারবে এবং বাকি টাকা তুমি অন্য কাজে ব্যয় করতে পারবে।
ক্লডিয়া ক্লার্কের দিকে তাকিয়ে হাসল, আমাকে শেষ বারের মতো বলুন এটার দাম কমাতে পারবেন কি-না।
ক্লার্ক বলল, ঠিক আছে আপনারা আসতে পারেন।
তারা দোকান থেকে বের হয়ে এলো যেহেতু তারা দোকান থেকে বের হয়ে আসছিল, ক্লার্ক পুনরায় তাদের পেছন থেকে ডাকল, তখন ক্লডিয়া হেসে বলল, আসি।
তারপর তারা গাড়ি করে যেতে শুরু করল। স্কিপি ডিরি বলল, তুমি ভাগ্যবতী, তুমি এটা এমনি এমনি পেয়ে গেলে।
পরের দিন যখন ক্লডিয়া কাজের জন্য স্টুডিওতে পৌঁছল, তার টেবিলে উপহারের বক্স দেখল। সে বক্সটি খুলে দেখল সেখানে এক ডজন ব্লাউজ এবং যা স্কিপি ডিরি পাঠিয়েছে।
ক্লডিয়া ভাবল, দোকানে ক্লার্ক আর ডিরি আমাকে বোকা বানিয়েছে। সে বক্সের মধ্যে আরও একটি সুন্দর পোশাক এবং টেনিস ব্যাট দেখতে পেল।
সেখানে আরো দুজন প্রযোজক তার সঙ্গে রাতের খাবার খেল। তারপর তারা সকলেই মদ পান করল। ক্লডিয়া ভাবল হয়তো ডিরি তার সঙ্গে মজা করছে, কিন্তু যখন ডিরি দুজন প্রযোজককে বলল, আমাকে প্রতি বছর আমার সন্তানের জন্য পাঁচ মিলিয়ন ডলার সঞ্চয় করতে হয়। তারপরও আমি ভাবি হয়তো আমি তাদের ভরণপোষণ করতে পারব না।
ক্লডিয়া হঠাৎ হতাশ হয়ে গেল, ডিরি তখন তাকে বলল, আমি সৎ, সবাই তা ভাবে কিন্তু কেউই চিৎকার করে বলতে পারে না।
স্কিপি ডিরি তার ছবি ব্যবসার বাকি টাকা পরিশোধ করল। একজন রাজমিস্ত্রির ছেলে হিসেবে এই প্রথম কেউ হলিউডের ছবি ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করল।
সে কঠোর পরিশ্রমী, সে ছোট ঘরের ছেলে হলেও ছবির জগতের সবকিছুই বুঝত। সে সব কাজ যথেষ্ট বুদ্ধিমত্তার সঙ্গ সম্পন্ন করত। কিভাবে পরিচালক, তারকার সঙ্গে কথাবার্তা বলতে হয়, তাও সে আত্মস্থ করেছিল। তার ব্যবহার ছিল খুবই ভালো। সে ছবির জগতের সঙ্গে জড়িত সকলের সঙ্গেই ভালো আচরণ করত। সে সবকিছু বুদ্ধিমত্তা আর ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবেলা করত। ছবির ব্যবসার জন্য তার মধ্যে কোনো কিছুর ঘাটতি ছিল না। সে ছবির কাজের জন্য বিভিন্নভাবে তার লগ্নি করা টাকাকে বিভিন্ন খাত অনুযায়ী ভাগ করত। ফলে সে একজন ভালো প্রযোজক হতে পেরেছিল। সে ছবির স্ক্রিপ্টের জন্য পঞ্চাশ শতাংশ এবং চিত্র গ্রহণের জন্য সত্তর শতাংশ টাকা বিনিয়োগ করেছিল।
সে যত্ন করে সব কাজ করত। সে নিজেই তার প্রয়োজনে সকল স্ক্রিপ্ট পড়ত। সে চরিত্র ও তারকা অনুযায়ী যাকে যে চরিত্র দেওয়ার দরকার তাকে সেই চরিত্র দিত। তাছাড়া সে ছবির প্রয়োজনে টাকা খরচ করেও বিভিন্ন লোকেশনে তার ছবির দৃশ্য চিত্রায়ণ করত। সে কখনো কোনো কাজে বিন্দু পরিমাণ ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করত না। আর এত কিছুর বিনিময়েই সে একজন সফল তারকা হওয়ার সাফল্য অর্জন করেছিল। ছবি তৈরি করার সময় সে বারবার তার টাকা ওঠানোর জন্য খুব ব্যস্ত থাকত। তার চিন্তা-ভাবনা থাকত যে করেই হোক তার ছবিকে সাফল্য পেতেই হবে।
তাছাড়া ছবির জন্য বিজ্ঞাপন ব্যয় বেশি করত। যাতে করে ছবি শেষ হওয়ার আগেই দর্শকদের মধ্যে ছবির প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়।
তাছাড়া অনেক সময় ছবির সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিবর্গ, প্রতিনিধিদের ক্রিসমাস কার্ড ও বিভিন্ন উপহার পাঠাত।
তাছাড়া সে সাড়া ফেলানোর জন্য আগে থেকেই পত্রিকা, ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দিত। আর এই সব কাজে ক্লডিয়া তাকে সর্বাত্মক সাহায্য করত। ক্লডিয়া সঙ্গে সঙ্গে তা শুধরিয়ে দিত। আর এই সব কারণেই শত কিছুর পরেও তাদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় ছিল। যখন ক্লডিয়া তাকে ভুল বুঝত, তখন ডিরি নিশ্চুপ থাকত এবং ভুল বোঝার চেষ্টা করত। কখনোই ক্লডিয়ার প্রতি রাগ করত না সে।
স্কিপি ডিরি প্রায় বলত, আমি যখন একজন পরিপূর্ণ মানুষ হব তার পরেই বিয়ে করব। কিন্তু সে ভালোবাসার প্রতি যথেষ্ট আসক্ত ছিল।
কিন্তু ডিরি সত্যিই ক্লডিয়াকে ভালোবাসত। যখন সে ক্ষমতাবান প্রযোজক ছিল তার ছবির কাজ বড় বড় তারকাদের নিয়ে করত। সে প্রায় ছবির তারকা, পরিচালক ও অন্যান্য কলাকৌশলীদের নিয়ে প্রায়ই মিটিং করত। সে এখন আস্তে আস্তে ভাটির দিকে ধাবিত হচ্ছে, তাই আর তার কাজের প্রতি তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। বর্তমানে সে তার সন্তান আর স্ত্রীকে নিয়ে সুখী জীবন করার চেষ্টা করছে।
স্কিপি ডিরি সমস্ত সফল প্রযোজকের মতো খুবই ব্যস্ত। তার প্রযোজিত ছবিগুলো দেখাশোনার জন্য, অর্থ সংগ্রহ ও প্রকল্প বাড়ানোর জন্য সমগ্র বিশ্ব জুড়ে তাকে ভ্রমণে যেতে হয়। অনেক সুন্দরী, উচ্ছল নারীরা তার সাথে যোগাযোগ করে বন্ধুত্ব করতে চায়। কিন্তু সে এখনো তার স্ত্রীকে ভালোবাসে।
একদিন এক বালিকা তার কাছে একটা স্ক্রিপ্ট নিয়ে এসে বলল, এটা একটি খ্রিস্টিও ভালো কাহিনী। সে ছিল খুবই প্রতিভাধর, সে বলল–এটা একটা কালো ছবি, এখানেই এক যুবক কবির প্রতি ভালোবাসায় আসক্ত হয় এক নারী। পরে সে স্বামীকে হত্যা করে কবির সঙ্গে চলে যেতে চায়।
