আর এর পরেই চলচ্চিত্রে তার একটা পরিচিতি আসে। এর ফলশ্রুতিতে বড় চলচ্চিত্রে ভালো চরিত্রে অভিনয় করার তার সুযোগ আসে।
তার বাস্তব জীবন ছিল তার অভিনয়েরই অংশ। সে অধিকতর সজীবতা অনুভব করত তার চরিত্রের নিজের জীবনটা ফুটিয়ে তুলবার জন্য। সে বারংবার চেষ্টা করত।
তার ভালোবাসার বিষয় ছিল আনন্দের মতো গলফ ও টেনিস খেলার মতো, বন্ধুদের সাথে আড্ডার মতো, স্বপ্নের মতো ছিল তার অস্তিত্ব। তার বাস্তব জীবন থিয়েটারের মধ্যে দিয়েই সামনের দিকে ধাবিত হতে লাগল।
অ্যাথেনা একটা নতুন খবর পেয়ে পুরোপুরি আশ্চর্য ও অভিভূত হলো।
সে জানল যে, তাকে বড় অভিনয়ে নির্বাচন করা হয়েছে। কিন্তু সে জানে কেন তাকে পছন্দ করা হলো। আসলে তার এজেন্ট মেলো স্টুয়ার্ট তাকে আলোকিত করার জন্য প্রথম থেকে চেষ্টা করে আসছিল।
তুমি একজন বড় অভিনেত্রী। কিন্তু তুমি এই শহরে অল্প কয়েক বছর ধরে আছ, তোমার মেধা থাকা সত্ত্বেও তুমি কিছুটা অনভিজ্ঞ। তাই আমি যা বলব তাতে তুমি অপরাধ নিও না–যা ঘটে এখানে তা বিস্তৃত হয়।
সে কিছুক্ষণ বিরতি নিল। সাধারণভাবে আমি কখনো এটা ব্যাখ্যা করব না; কারণ ব্যাখ্যাটা ততটা জরুরি নয়।
কিন্তু আমি অত্যন্ত অনভিজ্ঞ অ্যাথেনা হেসে বলল।
না, ঠিক অনভিজ্ঞ নও বলে কোনো কথা নয়, মেলো বলল।
তুমি তোমার অভিনয়ের প্রতিই মনোযোগী, তবে চলচ্চিত্র শিল্পের অভ্যন্তরীণ জটিলতা সম্পর্কে তুমি অসচেতন।
অ্যাথেনা বেশ মজা পেল। আমাকে বলল আমি কিভাবে এমন সুযোগটা পেলাম।
মেলো বলল, স্টেলিংয়ের এজেন্ট আমাকে ডেকেছিল। সে বলল, সে তোমাকে ট্যাপার নাটকে দেখেছিল। তোমার পারফমেন্সে সে অভিভূত হয়েছিল। সে এখন নিশ্চিতভাবে তার চলচ্চিত্রে তোমাকে অভিনয় করাতে চায়। পরে প্রযোজক আলোচনা করার জন্য আমাকে ডাকল।
প্রযোজকের সাথে আমার চূড়ান্ত আলোচনা হয়েছে। বেতনভুক্ত হয়ে তুমি কাজ করবে। তোমার পারিশ্রমিক দুশত গ্রান্ড। এমন কোনো শর্ত নেই যা তোমার পরবর্তী ক্যারিয়ারে সমস্যা সৃষ্টি করবে, অন্য যে কোনো ছবিতে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা নেই। এটা তোমার জন্য সত্যিই ভালো সুযোগ।
ধন্যবাদ অ্যাথেনা বলল।
মেলো বলল, স্টিভেন তার সহঅভিনেত্রীর সাথে পাগলের মতো ভালোবাসায় প্রায়ই জড়িয়ে পড়ত। আন্তরিকভাবে কিন্তু সে ভালো লোক।
অ্যাথেনা তাকে থামাল। মেলো, এটা আর বলো না।
আমি মনে করি এটা অবশ্যই তোমাকে অবগত করা দরকার, মেলো বলল।
আমাকে কী বলতে চেষ্টা করছ যে আমি প্রথমেই তার ঘাড়ে লাফ দিয়ে। উঠে পড়েছি! এমন কি মনে হচ্ছে তোমার?
অ্যাথেনা কঠোরভাবে বলল, আমার কি অভিনয়ের প্রতিভা নেই যে তার সঙ্গে আমাকে অন্তরঙ্গ হয়ে অভিনয় করতে হবে?
অবশ্যই নয়, মেলো বলল।
ব্যাপারটা তেমন নয়। অভিনয় ছাড়াও অনেক খুঁটিনাটি বিষয় আছে। কিন্তু তুমি জানো কিভাবে একজন লোক চলচ্চিত্রে বড় তারকা হয়?
কখনো কখনো কেউ কেউ ভালো অভিনেত্রী না হয়েও বড় চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পায়। আর এটা হলো তোমার জন্য বড় চরিত্র। তুমি এটাকে হাতছাড়া করো না। আর স্টিভেন স্টেলিংয়ের সাথে ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়াটা কী খুব কঠিন? সমগ্র বিশ্বের একশত মিলিয়ন মহিলা তাকে ভালোবাসে, তুমি কেন বাসবে না? তোমাকে অভিভূত হতে হবে।
আমি আনন্দিত বোধ করছি, শান্তভাবে অ্যাথেনা বলল।
কিন্তু আমি আসলেই তাকে ঘৃণা করলে পরে কী ঘটবে?
কাকে ঘৃণা করবে? সে আসলেই একজন সুন্দর মানুষ, আমি তোমাকে শপথ করে বলতে পারি। কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত তার সাথে ফষ্টিনষ্টি করতে হবে যতক্ষণ ছবিতে তোমার যথেষ্ট পরিমাণ দৃশ্য না নেয় এবং যখন আর তোমাকে বাদ দিতে পারবে না।
আমি খুব ভালো করলে কী তারা আমাকে বাদ দিতে চাইবে? অ্যাথেনা বলল।
মেলো দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, সত্য কথা, স্টিভেন অত লম্বা সময় অপেক্ষা করবে না। তিনদিনের মধ্যে তার ভালোবাসায় না পড়লে, তুমি তার ছবি থেকে বাদ পড়ে যাবে।
এটা যৌন হয়রানি, অ্যাথেনা হেসে বলল।
চলচ্চিত্র জগতে এটা যৌন হয়রানি হতে পারে না। মেলো বলল, এক বা অন্যভাবে তোমার পশ্চাৎদেশ বিক্রির সুযোগ দেবে, অবশ্য এখানে ঢোকার পর।
আমি মনে করি আমি তার ভালোবাসায় আসক্ত হলাম, অ্যাথেনা বলল।
যৌন কাজ করা স্টিভেনের জন্য যথেষ্ট নয়? সে যাকে চায় তার সঙ্গে যৌন কাজ করতে পারে। মেলো বলল।
সে তোমার সাথে ভালোবাসায় মগ্ন হবে, পরিবর্তে সেও ভালোবাসা চাইবে।
সে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।
তুমি কাজের বাইরে ভালোবাসা করতে পারো, কারণ তুমি তখন কাজে খুব ব্যস্ত থাকবে না। সে কিছুক্ষণ বিরতি নিল। এটা তোমার সম্মানহানিব কথা হচ্ছে না। সে বলল।
মেলো, তুমি কি মনে করো না করো তা আমি জানি না। আমার শরীর বিক্রি ছাড়াই আমি যথেষ্ট ভালো করতে পারব? অ্যাথেনা শক্তভাবে বলল।
অবশ্যই তুমি পারবে মেলো বলল। তুমি পঁচিশ বছরের যুবতী। তোমাকে দুই থেকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হবে। তোমার প্রতিভায় আমার চুড়ান্ত বিশ্বাস আছে। কিন্তু একটা সুযোগ দাও। সবাই স্টিভেনকে ভালোবাসে।
আমি মেলোকে নিজের করে ভাবতে গিয়েছিলাম। অ্যাথেনা প্রথম দিন আমার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেছিল। তার পরও সে আর আমার কোনো কথা, কোনো কিছু সাদরে গ্রহণ করেনি। কারণ তারপর সে স্টিভ স্টেলিংয়ের প্রতি দুর্বল হয়েছিল। তার পর তারা একে-অপরের প্রতি দুর্বলতা প্রকাশ করতে থাকে, পরিশেষে তারা একে-অপরের সঙ্গে গভীর ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ে। ফলে আমার সুযোগটা হাতছাড়া হয়ে যায়। কারণ তখন স্টিভ স্টেলিংয়ের আকাশ ছোঁয়া গুডউইল ছিল। তার গুডউইলের কাছে আমার সব কিছু স্রোতে ভেসে যায়। আমি অ্যাথেনা বুঝতে অক্ষম হই।
