রোদের কারণে বজ তার দিকে চোখ কুঁচকে তাকাল। লুজিকে সে বলল, কি আশ্চর্যের বিষয়। আমরা দুজনই একই সৈকতে সাঁতার কাটতে এসেছি। কিন্তু তুমি আমার কাছে কেন এসেছ?
লুজি চেয়ার পেতে বসল। আমার এক্স-ওয়াইফ এই চেয়ারটা আমাকে দিয়েছিল। আমি নাকি অনেক সাফারকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞেসাবাদ করি। তাই আমার একটু আরামের জন্য সে আমাকে এটা দিয়েছিল। লুজি বজ স্কানেটের দিকে দয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, আমি শুধু তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই। প্রথমত মিস অ্যাথেনা একুইটিনের বাড়ির এত কাছে তুমি কি করছ? তুমি বিচারকের নিষেধাজ্ঞা জ্ঞান করেছ।
আমি পাবলিক বিচে আছি এবং অ্যাথেনা ও আমার মাঝে তারজালের বেষ্টনী রয়েছে। আমি এখানে সাঁতারের জন্য এসেছি। আমাকে দেখে কি মনে হচ্ছে আমি অ্যাথেনাকে উৎপীড়ন করছি?
বজ উত্তর দিল।
লুজি তার মুখে সহানুভূতির হাসি এনে বলল, হেই, শোনো তার সাথে যদি আমার বিয়ে হতো তাহলে আমিও তার কাছ থেকে দূরে থাকতে পারতাম না। আমি কি তোমার ব্যাগটা দেখতে পারি?
বজ ব্যাগটা টান দিয়ে তার মাথার নিচে রাখল এবং বলল, না, ওয়ারেন্ট ছাড়া তুমি তা পারো না।
লুজি বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি হেসে বলল, তোমাকে গ্রেফতার করতে আমাকে বাধ্য করো না। তাই বলছি মাথা থেকে দুর্বুদ্ধি ঝেড়ে ব্যাগটা আমাকে দাও। এই কথায় বজ উঠে দাঁড়াল। সে ব্যাগটা লুজির দিকে বাড়িয়ে দিয়ে সাথে সাথে আবার তা দূরে সরিয়ে নিল।
সে বলল, চেষ্টা করে দেখো নিতে পারো কি-না।
লুজি বজের কাণ্ড দেখে হতভম্ব হয়ে গেল। এ পর্যন্ত কেউ-ই তার সাথে এমন আচরণ করার সাহস পায়নি। অন্য কোনো পরিস্থিতি হলে এতক্ষণে সে তার ব্ল্যাকজ্যাক (হান্টার) অথবা বন্দুক বের করে লোকটিকে পিটিয়ে দলা বানিয়ে ফেলত। কিন্তু পায়ের নিচে বালু থাকায় সে অনিশ্চয়তায় ভুগছে কিংবা বজ স্কানেটের ভীতিহীন আচরণ তাকে দ্বিধাগ্রস্ত করে দিয়েছে। বজ তার দিকে তাকিয়ে হাসল, বলল, আমার কাছ থেকে ব্যাগ নিতে হলে তোমাকে গুলি করতে হবে এবং যদি তুমি আমাকে গুলি করো তাহলে গুলি করার উপযুক্ত কারণ দর্শাতে পারবে না তুমি। কেননা আমি তোমার চেয়ে শক্তিশালী এবং তোমার মতোই লম্বা-চওড়া।
বজের পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও বিচক্ষণতাকে লুজি মনে মনে প্রশংসা করল। তার সাথে দৈহিক সংঘাতের বিষয়টি নিয়ে যেখানে সংশয় দেখা দিতে পারে সেখানে অস্ত্র বের করার প্রশ্নই ওঠে না।
লুজি বলল, ঠিক আছে, সে তার চেয়ার ভাজ করে চলে যেতে উদ্ধত হলো। তারপর ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রশংসার সুরে বলল, তুমি সত্যিই একজন কঠিন লোক। তুমিই জিতলে কিন্তু এমন কিছু করো না যাতে আমি উপযুক্ত কারণ পাই। তুমি লক্ষ্য করেছ অ্যাথেনার বাড়ি থেকে তোমার দূরত্ব আমি মেপে দেখিনি, হয়তো তুমি বিচারকের নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে আছ।
বজ হেসে বলল, চিন্তা করো না, আমি তোমাকে কোনো সুযোগ দেব না।
সে দেখল লুজি সৈকত দিয়ে হেঁটে গিয়ে তার গাড়িতে উঠল এবং গাড়ি হাঁকিয়ে চলে গেল। বজ তার ব্লাঙ্কেটটি তুলে ব্যাগে ভরল এবং সেও তার গাড়িতে ফিরল। গাড়ির বুটে ব্যাগটি রাখল। গাড়ির চাবিটি রিং থেকে খুলে নিয়ে সামনের সিটের নিচে লুকিয়ে লাখল!
তারপর সে ফেন্সের (ঘেরার) চারপাশে সাঁতার কাটতে সৈকতে ফিরে গেল।
০৫. গতানুগতিক নিয়ম
০৫.
অ্যাথেনা অ্যাকুইটেন গতানুগতিক নিয়মে তারকার স্তরে সাদামাটাভাবে উপার্জন করছিল। জনগণ কদাচিৎ তাকে মূল্যায়ন করত। সে বছরের অনেক সময় প্রশিক্ষণে ব্যয় করত। অভিনয়ের ক্লাস, নাচ ও হাঁটা-চলার ক্লাস, কণ্ঠ পরীক্ষা, নাট্য, সাহিত্য বিষয়ে ব্যাপক পড়াশোনা এবং অভিনয়ের যাবতীয় প্রয়োজনীয় বিষয়ে সে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। আরও অনেক ছোটখাটো কাজ করত সে।
সে এজেন্টদের চারপাশে ঘুরত, পরিচালকদের তাকে নেবার জন্য বলত। প্রযোজক ও পরিচালকদের শান্তভাবে কামাসক্তে জড়াত এবং ডাইনোসরের মতো স্টুডিও চক্র ও প্রধান ব্যক্তিদের যৌন কামনায় আসক্ত হতে বাধ্য করত।
প্রথম বছরে কিছু কমার্শিয়াল কাজ ও কিছু মডেলিং করে যা উপার্জন করেছিল, তা দিয়ে কোনোমতে তার জীবিকা নির্বাহ করত। খুবই কৃপণতার সাথে তাকে চলতে হতো। এরকম শুধু তার প্রথম বছরই হয়েছিল। এরপর তার অভিনয়ের দক্ষতা বেড়ে গেল।
যারা তাকে গহনা ও টাকা উপহার হিসেবে দিত সে তাদের শুধু প্রেমিক ভাবত। তাদের কেউ কেউ বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছিল। এই সম্পর্ক ছিল খুবই স্বল্পকালের এবং বন্ধুত্বের মধ্য দিয়েই একদিন তা শেষ হয়ে যেত।
এর কোনোটাই তার কাছে যন্ত্রণাদায়ক বা অবমাননাকর ছিল না। এমনকি রোলস রয়েস গাড়ির বিক্রেতাও ধরে নিয়েছিল, সে গাড়ির সাথে আসবে না। সে কৌতুক করে বলেছিল এ দামের মধ্যে এমন গাড়ি হলে আমি কিনব। সে মানুষের প্রিয় ছিল। সে সেক্স দারুণভাবে উপভোগ করত। তার অত্যাধিক প্রচেষ্টার ফলেই সে ধীরে ধীরে চলচ্চিত্র জগতে স্থান করে নিয়েছিল। অভিনয়ই তার জীবন।
তার নিজস্ব বোধগম্য ক্ষমতা ছিল অন্যদের চেয়ে বেশি। তেমন কোনো বোধগম্য ছিল। বিশ্বের বিপদ-আপদ ছিল তার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার জীবনটা প্রথমেই অভিনয় দিয়ে শুরু করেছিল। ছোট পর্দায় তার পদযাত্রা তেমন ছিল না। বেশ কিছু বড় নাটকের বড় চরিত্রে সে কিছুদিন অভিনয় করেছিল।
