ক্লডিয়া ভাবল ক্রস সত্যিই সুদর্শন। ক্রস কৃতজ্ঞভরা কণ্ঠে নাভান্সকে বলল, টলি আমি তোমার এই উপকার কখন ও ভুলব না। শোনো টলি, জানা হোটেলের স্টেজ তোমার জন্য উন্মুক্ত। তোমার যে কোনো নতুন ট্যালেন্টের শো সর্বনিম্ন চার্জে সেখানে করতে পারবে। আমিও তোমার এজেন্সির সব ট্যালেন্টদের নিয়ে একটি স্পেশাল শো আয়োজন করব এবং সেই রাতে তুমি এবং তোমার পার্টনাররা আমার সাথে হোটেলে ডিনার করবে। তোমার যে কোনো প্রয়োজনে আমাকে স্মরণ করো। আমি তা দেখব, ঠিক আছে?
ক্লডিয়া দুটি বিষয় উপলব্ধি করলক্রস খুব পরিকল্পিতভাবেই ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিল। সেই সাথে সে সতর্কতার সাথে নেভান্সের কিছুটা ক্ষতিও পুষিয়ে দিয়েছিল। তবে তা ক্রসের কর্তৃত্ব মেনে নেওয়ার পরেই করেছিল, তার আগে নয়। টলি নাভান্স তার স্পেশাল নাইট উপভোগ করবে। এক রাতের জন্য সে নিজেকে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী ভেবে গর্বিত হবে।
ক্লডিয়া আরেকটি বিষয় উপলব্ধি করল, তার প্রতি ক্রসের ভালোবাসার গভীরতা বোঝানোর জন্য তার প্রভাব প্রদর্শন করেছে এবং তার ভালোবাসার একটা বাস্তব ক্ষমতা আছে। ক্রসের সুন্দর চেহারায় বিধাতা যেন নিজ হাতে তাকে গড়েছেন, তার ভালোবাসা ফুটে উঠেছে। সেই শৈশবে তাকে যেমন দেখেছিল––কোমল একজোড়া ঠোঁট, নিখুঁত নাক, পটলচেরা আয়ত দুটি চোখ। বয়সের সাথে তার চেহারায় একটা দৃঢ়তা এসেছে—মনে হয় যেন মার্বেল পাথরের খোদাই করা প্রাচীন কোনো ভাস্কর্য।
ক্লডিয়া প্যাসিফিক হাইওয়ে থেকে বাঁক নিয়ে সাইড রোড ধরে ম্যালিবু কলোনির গেটে পৌঁছল। সাগর সৈকতে ম্যালিবু কলোনি। কলোনির সামনে বিস্তৃত ঝলমলে সমুদ্র। যতদূর চোখ যায় পানি আর পানি। ক্লডিয়ার খুব পছন্দ এই কলোনি। ক্লডিয়া আবারও পেছনের পর্বতশৃঙ্গের প্রতিবিম্ব দেখতে পেল সাগরের জলে। সে অ্যাথেনার বাসার সামনে গাড়ি পার্ক করল।
ম্যালিবু কলোনির দক্ষিণ দিকের ঘেরার বাইরে পাবলিক বীজ উন্মুক্ত সৈকতে বজ কানে শুয়ে আছে। ম্যালিবু কলোনি তীরের জালে ঘেরা। তারের জাল সৈকত ছাড়িয়ে প্রায় দশ গজ পানি পর্যন্ত বিস্তৃত। তারের জালের এই ঘেরা খুবই সাধারণ একটা বাধা। যে কেউ ইচ্ছে করলেই পানিতে সাঁতরে। ঘেরার ভেতরে যেতে পারবে।
অ্যাথেনার ওপর আবারও আক্রমণ চালানোর জন্য বজ আগে থেকেই চারপাশ ভালো করে দেখে নিচ্ছে। আকস্মিক আক্রমণ চালানোর জন্য সবকিছু খতিয়ে দেখতে আজ সে পাবলিক বিচে এসেছে সমুদ্রে গোসল করার সাজে। তার পরনে বাথিং সুট, তার ওপর একটি টি শার্ট পরে আছে। পায়ে টেনিস খেলার জুতো। একটা টেনিস ব্যাগ তার সাথে। তার ভেতরে তাওয়াল দিয়ে জড়ানো একটা এসিডপূর্ণ বোতল।
বজ যেখানে শুয়ে আছে সেখান থেকে তারের জালের ভেতর দিয়ে অ্যাথেনার বাসা দেখা যায়। সে দেখল দুজন ব্যক্তিগত রক্ষী সৈকতে পাহারা দিচ্ছে। রক্ষী দুজনই সশস্ত্র। যেহেতু বাড়ির পেছনে পাহারার ব্যবস্থা আছে সেহেতু বাড়ির সামনেও রক্ষীরা প্রহরারত, এটা নিশ্চিত।
বজ প্রয়োজনে রক্ষীদেরকেও আঘাত করতে প্রস্তুত। কিন্তু সে একজন উন্মাদের মতো সবাইকে মেরে ফেলতে চায় না। কারণ তাহলে অ্যাথেনার ওপর তার ন্যায্য প্রতিহিংসার বিষয়টি বাধাগ্রস্ত হবে এবং মানুষ ঘটনাটিকে একটি সাধারণ অপরাধ হিসেবে দেখবে।
বজ স্কানেট জুতো এবং টি-শার্ট খুলে ফেলে ব্লাঙ্কেটের ওপর শুয়ে পড়ল। সূর্যের উষ্ণতা তাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করল। সে অ্যাথেনার ভাবনায় ডুবে গেল।
কলেজ জীবনে একজন প্রফেসর এমারসনের প্রবন্ধের ওপর লেকচার দেওয়ার সময় একটি উক্তির উদ্ধৃতি দিয়েছিলেন Beauty is its own excuse. কিন্তু এমারসন বা সৌন্দর্য কোনো কিছুই বজ ভাবতে পারছে না। তার মাথায় এখন কেবলই অ্যাথেনার ভাবনা।
অ্যাথেনার মতো এত সুন্দর আর কিছু হতে পারে না। অ্যাথেনার বিরল সৌন্দর্য নিয়ে বজ নিমগ্ন। একজন মানুষের দৈহিক গড়নের সৌন্দর্যের সাথে চারিত্রিক অন্যান্য গুণাবলির সচরাচর সমন্বয় দেখা যায় না। কিন্তু অ্যাথেনা ছিল ব্যতিক্রম। তার দৈহিক সৌন্দর্যের সাথে মিশেছিল মেধা, প্রাণোচ্ছলতা, মানুষকে আকৃষ্ট করার অসাধারণ ক্ষমতা। কৈশোরেই লোকে তাকে থেনা বলে ডাকত।
বজ তার যৌবনে প্রচণ্ডভাবে ভালোবাসত অ্যাথেনাকে। অ্যাথেনাও তাকে ভালোবাসত এই ভাবনায় সে সুখের স্বপ্নে বিভোর হয়েছিল। জীবন যে এত মধুর হয় তা সে কখনোই জানত না। কিন্তু একটু একটু করে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেল।
সে কেন এত সুন্দর হলো? তাকে কেন এত ভালসেছিলাম? কেন সবাই তাকে এত ভালোবাসত? এটা কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে তা কি সে জানত না?
বজ নিজের কথা ভেবে বিস্মিত হলো, অ্যাথেনার প্রতি তার তীব্র ভালোবাসা কিভাবে ঘৃণায় পরিণত হলো?
এটা অত্যন্ত সহজ এবং স্বাভাবিক ব্যাপার। কারণ সে জানত, সে সারা জীবন অ্যাথেনাকে ধরে রাখতে পারবে না এবং একদিন অ্যাথেনা তাকে ছেড়ে চলে যাবে। একদিন বজের সুখের স্বর্গ ভেঙে দিয়ে অ্যাথেনা অন্য পুরুষের শয্যাসঙ্গী হবে এবং আর কোনো দিনও তার জীবনে ফিরে আসবে না অ্যাথেনা।
সে অনুভব করল তার মুখের ওপর ছায়া পড়েছে। সে চোখ মেলে দেখল, একটা ফোল্ডিং চেয়ার হাতে পরিপাটি পোশাকের একজন লোক তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে দেখছে। বজ লোকটিকে চিনতে পারল। জিম লুজি ডিটেকটিভ থেনার মুখে প্রথমবার পানি ছুঁড়ে মারার পর এই লোকই তাকে জিজ্ঞেসাবাদ করেছিল।
