লরেটা ক্রসের গালে আলতো চুমু দিল, কিন্তু কোনো কথা বলল না। এমনকি তার মধ্যে বিন্দুমাত্র উচ্ছলতার প্রকাশ ছিল না। লরেটা ক্লডিয়ার পাশে বসল। ক্লডিয়া তার মনের অবস্থা বুঝতে পারছিল।
ক্রস গলফ খেলার পোশাকে ছিল-সাদা ট্রাউজার, সাদা টি শার্ট এবং পায়ে সাদা জুতো। তার মাথায় ছিল নীল বেসবল ক্যাপ। ক্রস ওয়েটবার থেকে সবাইকে পানীয় অফার করল কিন্তু সবাই অসম্মতি জানাল। ক্রস শান্তভাবে বলল, লরেটা তোমার সমস্যার একটা নিষ্পত্তি করা যাক, কি বলো?
কম্পিত কণ্ঠে লরেটা বলল, আমি যা আয় করব তার একটা পার্সেন্টেজ চায় টলি। এমনকি চলচ্চিত্র থেকে যে আয় আমি করব তার পার্সেন্টেজও টলিকে দিতে হবে। কিন্তু লস অ্যাঞ্জেলেসের এজেন্টকে চলচ্চিত্রে কাজের উপার্জন থেকে পূর্ণ পার্সেন্টেজ দিতে হবে। আমি দুজায়গায় পার্সেন্টেজ দিতে পারব না। তাছাড়া টলি চায় আমার সবকাজ সে নিয়ন্ত্রণ করবে। কিন্তু লস অ্যাঞ্জেলেসের এজেন্ট তা মানতে রাজি নয় এবং আমি তা মানব না।
নাভান্স শ্রাগ করে বলল, আমাদের মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে। আমরা চাই সে চুক্তি অনুযায়ী চলবে।
লরেটা বলল, সেক্ষেত্রে আমার ফি এজেন্ট আমার সাথে চুক্তি করবে না। ক্রস বলল, আমার কাছে এটা খুব সামান্য বিষয় মনে হচ্ছে লরেটা, চুক্তি থেকে বের হওয়ার পথ তুমি কিনে নাও, নাভান্স বলল, লরেটা খুব বড় মাপের পারফরমার, সে আমাদের প্রচুর অর্থ উপার্জন করে দিয়েছে। আমরা সবসময়ই তাকে প্রমোট করেছি। আমরা তার প্রতিভার মূল্যায়ন করেছি। আমরা তার পেছনে প্রচুর অর্থ ইনভেস্ট করেছি। এখন সে টাকা দিলেই আমরা তাকে ছেড়ে দিতে পারি না।
লরেটা প্রায় আর্তনাদ করে বলল, আমি দুটো পার্সেন্টেজ দিতে পারব না। এটা চরম নিষ্ঠুরতা।
ক্লডিয়া অনেক কষ্টে তার হাসি চেপে রাখল কিন্তু ক্রস তা পারল না। নাভান্সকে আহত দেখাচ্ছিল।
শেষে ক্রস বলল, ক্লডিয়া, তোমার গলফ গিয়ারে নিয়ে এসো। আমি তোমার সাথে নাইন হোল খেলতে চাই। আমি এখানকার কাজ সেরে সিঁড়ির নিচে ক্যাশিয়ারের কক্ষে তোমার সাথে দেখা করব।
মিটিংয়ে খেলার পোশাক পরে দায়সারাভাবে ক্রসের উপস্থিতি দেখে ক্লডিয়া অবাক হয়েছিল। তার আচরণে মনে হয়েছিল সে মিটিংটাকে কোনো গুরুত্বই দেয়নি। এটা ক্লডিয়াকে আঘাত করেছিল এবং সে জানত লরেটাও এতে আহত হয়েছে। কিন্তু এতে টলি আশ্বস্ত হয়েছিল। লোকটি সমঝোতার কোনো প্রস্তাব জানায়নি।
ক্লডিয়া বলল, আমি এখানেই থাকব। আমি দেখতে চাই সলমন কিভাবে কাজ করে।
ক্রস কখনোই তার বোনের ওপর রাগ করতে পারে না। ক্লডিয়ার কথা শুনে সে হাসল। ভাইয়ের হাসির প্রতিউত্তরে সেও হাসল। ক্রস নাভান্সের দিকে তাকিয়ে বলল, আমি দেখছি তুমি কিছুতেই মানছ না। আমার মনে হয় তুমিই সঠিক। লরেটা এক বছরে চলচ্চিত্রে যা উপার্জন করবে তাতে তোমার পার্সেন্টেজ কত আসবে? তবে তার ওপর তোমার কর্তৃত্ব পরিত্যাগ করতে হবে অন্যথায় তুমি পার্সেন্টেজ পাবে না।
লরেটা রাগে ফেটে পড়ল। সে বলল, আমি কিছুতেই তাকে পার্সেন্টেজ দেব না।
নাভান্স উত্তরে বলল, আমি তা চাইও না। পার্সেন্টেজের বিষয়টা না হয় ছেড়েই দিলাম কিন্তু আমরা তোমার শোর জন্য বড় বায়না করি আর তখন যদি তুমি মুভির কাজে ব্যস্ত থাকো, তখন কি হবে? আমাদের টাকা লোকসানে যাবে।
ক্রস গভীর দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে দুঃখের সাথে বলল, টলি, আমি চাই তুমি লরেটাকে চুক্তি থেকে নিষ্কৃতি দেবে। এটা আমার অনুরোধ। তোমার সাথে আমাদের এই হোটেলের অনেক ব্যবসা আছে। আমার জন্য এই উপকারটুকু তুমি করো।
প্রথমবারের মতো নাভান্সের চেহারায় সতর্কতা ফুটে উঠল। সে কাতর কণ্ঠে ক্রসকে বলল, তোমার এই উপকার আমি করতে চাই ক্রস, কিন্তু এজেন্সির অন্যান্য পার্টনারের সাথে বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করতে হবে। ক্ষণিক থেমে সে বলল, হয়তো চুক্তি কেনার ব্যবস্থা আমি করতে পারব।
না, ক্রস বলল, আমি তোমাকে উপকার করতে অনুরোধ করছি, চুক্তি কেনার কথা বলিনি।
দেখো, আমি এখন খেলতে যেতে চাই, তোমার যা বলার এখনই বলো। তুমি আমার এই উপকারটুকু করবে কি-না। হ্যা অথবা না-এ তোমার জবাব আশা করছি।
ক্রসের কথায় ক্লডিয়া হতাশ হয়েছিল, আলোচনা পণ্ড হতে যাচ্ছে এই ভেবে ক্লডিয়া আহত হয়েছিল। ক্রসের আচরণে ক্লডিয়ার মনে হচ্ছিল সে পুরো ব্যাপারটাই যেনতেনভাবে শেষ করতে চাচ্ছে। মনে হচ্ছিল সে তার ধৈর্য হারিয়ে ফেলেছে। কিন্তু ক্লডিয়া লক্ষ্য করল ক্রসের কথায় নাভান্স কেঁপে উঠল।
নেভান্সের উত্তর শুনে ক্লডিয়া বিস্মিত হলো। নাভান্স বলল, এটা ঠিক নয়। সে সমর্থনের আশায় পরাজিত দৃষ্টিতে লরেটার দিকে একবার তাকাল। লরেটা তার দৃষ্টি নামিয়ে নিল।
ক্রস আত্মবিশ্বাসের সাথে কিছুটা গর্বিত ভঙ্গিতে তার মাথার ক্যাপটি একপাশে টেনে এনে বলল, এটা আমার অনুরোধ। তুমি আমাকে ফিরিয়েও দিতে পারবে। সেটা তোমার অভিরুচি।
নাভান্স ব্যস্তভাবে বলল, না, না, ক্রস, তুমি আমাকে ভুল বুঝো না। আমি বুঝিনি তুমি আমার কথায় কষ্ট পাবে। কারণ আমরা খুব ভালো বন্ধু।
ক্লডিয়া লক্ষ্য করল হঠাৎ করেই তার ভাইয়ের মধ্যে চমকপ্রদ পরিবর্তন ঘটে গেল। ক্রস সামনের দিকে ঝুঁকে টলি নাভান্সের কাঁধে একটি হাত রেখে আন্তরিকভাবে তাকে কাছে টেনে নিল। উষ্ণ হাসিতে তার চেহারা ঝলমল করছে।
