এতগুলো মার্কার হেরে যাওয়ার জন্য আমি কিছু মনে করিনি, কিন্তু তোমার নির্বুদ্ধিতা দেখে আমি আশ্চর্য হয়েছি। ক্রস বলল।
অতঃপর এ বিষয়ে তারা আর কোনো কথা বলল না। তবে ক্লডিয়া অবাক হয়েছিল এই ভেবে, অতগুলো টাকা পরিশোধের সামর্থ্য কি সত্যিই ক্রসের আছে? গ্রোনিভেল্ট কি অতগুলো টাকা ক্রসকে অনুমোদন করবে? কিংবা আদৌ কি গ্রোনিভেল্টকে এই টাকার ব্যাপারে কিছু জানানো হবে?
লরেটা ল্যাঙ নামের একজন মহিলাকে নিয়েও একটি সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই সমস্যার সমাধানও ক্রস করেছিল অনায়াসে। সেখানেও তার একটা অদৃশ্য ক্ষমতা উপলব্ধি করেছিল ক্লডিয়া এবং ওই বিষয়টিই ক্লডিয়াকে সবচেয়ে বেশি হতবাক করেছিল– সত্যিই কি তার ভাই ক্রস এতটা ক্ষমতাবান?
লরেটা ল্যাঙ জানাদু হোটেলের স্টেজ পার্ফরমার ছিল। সে হোটেলের স্টেজে গান গাইত এবং নাচত। তার ছিল অফুরন্ত প্রাণশক্তি। তার পারফরমেন্সে ফুটে উঠত তার সহজাত প্রাণোচ্ছলতা, যা ক্লডিয়াকে আকৃষ্ট করেছিল। শো শেষে একদিন ক্লডিয়ার সাথে লরেটার পরিচয় করিয়ে দেয় ক্রস। পরিচিত হওয়ার পর ক্লডিয়া বুঝল, লরেটা স্টেজে যতটা প্রাণোচ্ছল এবং আকর্ষণীয় বাস্তবেও সে ততটাই উচ্ছল এবং প্রাণময়। ক্লডিয়া একটা বিষয় লক্ষ্য করল, লরেটার প্রতি ক্রস খুব একটা আগ্রহী নয় বরং তার উচ্ছলতায় ক্রস একটু বিরক্তি বোধ করে।
পরের বার ক্লডিয়া যখন ভেগাসে বেড়াতে এলো লরেটার শো দেখানোর জন্য সে মেলো স্টুয়ার্টকে সঙ্গে নিয়ে আসে। মেলো অবশ্য ক্লডিয়ার পীড়াপীড়িতে তাকে খুশি করানোর জন্যই ভেগাসে আসে। অনেক বড় কিছু প্রাপ্তির প্রত্যাশা তার মোটেই ছিল না। সে আর দশজন স্টেজ পারফরমার কিংবা ক্যাবারে ড্যান্সারের চাইতে বেশি কিছু ধারণা করেনি লরেটা সম্পর্কে। মেলো স্টুয়ার্ট মেয়ের সত্যিকারের মেধা আছে। সেই মেধা তার নাচ অথবা গানের মধ্যে নেই বরং তার মধ্যে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার মতো সহজাত প্রতিভা রয়েছে। আর এই প্রতিভার অধিকারী মেয়েরা হলো সোনা।
মেলো লরেটাকে আশ্বস্ত করল, সব সমস্যাই সমাধান যোগ্য। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সমস্যা অত্যন্ত জটিল। লরেটার শো বিজ এজেন্সি চুক্তি শেষ হওয়ার আগে কিছুতেই লরেটাকে ছাড়তে রাজি নয়।
এই সময় থেকে বের হওয়ার কোনো উপায়ই খুঁজে পাচ্ছিল না ক্লডিয়া। এমন সময় লরেটা ক্লডিয়াকে তার ভাই ক্রসের কাছে এই ব্যাপারে সাহায্যের আবেদন করার কথা বলে। লরেটার কথায় বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যায় ক্লডিয়া। সে লরেটাকে বলল, এই ব্যাপারে ক্রস কি করতে পারে?
লরেটা বলল, এই শহরে তার যথেষ্ট প্রভাব আছে। আমাকে চুক্তি থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য সে নিশ্চয় একটা ব্যবস্থা করতে পারবে। প্লিজ, তুমি ক্রসকে সাহায্য করার জন্য বলল।
ক্লডিয়া হোটেলের পেন্থ হাউস সুইটে ফিরে এসে ক্রসকে লরেটার সমস্যার কথা জানাল। ক্রস বিরক্তিভরা দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে মাথা নাড়ল। সে বলল, কেন আমি এই সমস্যা নিয়ে মাথা ঘামাব? উত্তরে ক্লডিয়া বলল, আমি তোমার কোনো কথা শুনতে চাই না, আমি তোমাকে এই সমস্যার সমাধান করতে বলেছি তাই মি করবে। দ্যাটস অল।
ক্রস বলল, তুমি বোকা। আমি লরেটার মতো অনেক অকৃতজ্ঞকে দেখেছি যারা তোমার মতো বন্ধুর ঘাড়ে পা দিয়ে উপরে উঠে যায় এবং পরে সেই বন্ধুকে ইতিহাসের মতো ভুলে যায়।
তাতে কি হয়েছে? ক্লডিয়া বলল, সে সত্যিকার অর্থেই প্রতিভাবান। এটা তার সম্পূর্ণ জীবনকেই উন্নততর জীবনে পাল্টে দিতে পারে।
ক্রস আবারো মাথা নেড়ে বলল, আমাকে এটা করার জন্য বলো না।
ক্লডিয়া জিজ্ঞেস করল, হোয়াই নট?
তাকে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য অপর এক প্রতিষ্ঠান নিতে চাচ্ছে, এটা চলচ্চিত্র ব্যবসারই অংশ।
ক্রস বলল, আমি বিষয়টাতে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছি না কারণ যদি আমি তা করি তাহলে আমাকে সমস্যা সমাধানে সফল হতে হবে। ক্লডিয়া বলল–
তোমাকে সফল হতেই হবে আমি তা বলছি না। আমি শুধু তোমাকে তোমার সাধ্যমতো চেষ্টা করতে বলছি। তাহলে অন্তত লরেটাকে আমি বলতে পারব আমরা চেষ্টা করেছিলাম।
ক্রস হেসে উঠল, বলল, সত্যিই তুমি বোকা। ঠিক আছে, তুমি লরেটা ও তার এজেন্সিকে আগামীকাল আমার সাথে দেখা করতে বলে। ঠিক সকাল দশটায়। এবং তুমিও সেখানে থেকো।
পরদিন সকালের মিটিংয়ে ক্লডিয়া প্রথমবারের মতো লরেটার শো বিজ এজেন্টের সাথে পরিচিত হলো। তার নাম টলি নাভান্স। লোকটির পরনে ছিল ভেগাস স্টাইলের সাধারণ পোশাক। তবে গুরুত্বপূর্ণ মিটিংয়ের জন্য পোশাকের প্রতি বিশেষ যত্ন নিয়েছিল। কলারবিহীন সাদা শার্টের ওপর ব্লু ব্লেজার এবং ব্লু ডেনিম প্যান্ট।
টলি নাভান্স বলল, ক্রস, তোমার সাথে পুনরায় দেখা হওয়ায় আনন্দিত বোধ করছি।
আমাদের কি ইতোপূর্বে দেখা হয়েছে? ক্রস জিজ্ঞেস করল। কারণ স্টেজ শো বিজনেসের বিষয়গুলো সে নিজে দেখাশোনা করে না।
নাভান্স অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানাল, অনেক দিন আগে। লরেটা যখন প্রথম জানাদু হোটেলে শো করেছিল তখন।
ক্লডিয়া লস অ্যাঞ্জেলেসের এজেন্ট ও টলি নাভান্সের মধ্যে পার্থক্যগুলো যাচাই করছিল। লস অ্যাঞ্জেলেসের এজেন্ট মেলো স্টুয়ার্ট দীর্ঘদিন ফিল্ম ট্যালেন্টদের নিয়ে কাজ করেছে আর টলি নাভান্স অল্প কিছুদিন থেকে নাইটক্লাব বিনোদনের জগতে পা দিয়েছে। নাভান্সকে বেশ নার্ভাস মনে হচ্ছিল। তাকে বাহ্যিক দৃষ্টিতে খুব একটা কর্তৃত্বপূর্ণ, আত্মবিশ্বাসী মনে হচ্ছিল না। মেলো স্টুয়ার্টের মতো তার নিজের ওপর পূর্ণ আস্থা ছিল না।
