তাদের পরিবার ভেঙে যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো মা-ভাই-বোন তিনজনে একসাথে হয়েছিল। ন্যালিনি পিপিকে আসতে বারণ করে দিয়েছিল।
ক্যান্সারের কারণে ন্যালিনির দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়েছিল, তাই ক্লডিয়া সবসময় তাকে বই, ম্যাগাজিন, খবরের কাগজ পড়ে শোনাত। ক্রস বাজার-ঘাট করত, মাঝে মাঝে হোটেলের কাজে একবেলার জন্য ভেগাসে যেত, তবে সবসময়ই সন্ধ্যায় ফিরে আসত।
রাতে ক্রস ও ক্লডিয়া পালা করে মায়ের সেবা করত। মাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য তার হাত ধরে বসে থাকত। যদিও ডাক্তাররা ন্যালিনিকে কড়াডোজের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিত তবুও তিনি সবসময় তার সন্তানদের হাত খুঁজতেন ধরে রাখার জন্য। মাঝে মাঝে তিনি হ্যালুজিনেশনে ভুগতেন, তিনি মনে করতেন তার সন্তানরা এখনও ছোটই আছে।
একদিন রাতে ন্যালিনি কেঁদে উঠলেন। কান্না জড়িত কণ্ঠে তিনি ক্রসের কাছে ক্ষমা চাইছিলেন, ক্রসের প্রতি তিনি যে অবিচার করেছেন তার জন্য তিনি অনুতপ্ততা প্রকাশ করতে থাকেন, ক্রস মাকে বাহুতে জড়িয়ে ধরে আশ্বস্ত করে যে তিনি কোনো ভুল বা অপরাধ করেননি। যা হয়েছে তা ভালোর জন্যই হয়েছে।
ওষুধের প্রভাবে কোনো কোনো রাতে ন্যালিনি গভীর ঘুমে নিগম্ন থাকলে দুই ভাইবোন দীর্ঘরাত বসে গল্প করেছে। ক্রস ও ক্লডিয়া তাদের জীবনের সব ঘটনা একে-অপরকে জানিয়েছে।
ক্রস ক্লডিয়াকে বলেছে যে সে কালেকশন এজেন্সি বিক্রি করে দিয়েছে এবং ক্লেরিকুজিও পরিবার ত্যাগ করেছে। তবে জানাদু হোটেলে কাজ পাওয়ার জন্য সে ওই পরিবারের নাম ও প্রভাবের সাহায্য নিয়েছিল। ক্রস তার নিজের ক্ষমতার ঈষৎ আভাসও দেওয়ার জন্য ক্লডিয়াকে বলেছিল, জানাদু হোটেলে তুমি সবসময় আমন্ত্রিত। তোমার জন্য আরএফবি রুম, খাবার এবং পানীয় সব ফ্রি। এই কথা শুনে ক্লডিয়া জিজ্ঞেস করেছিল সে কিভাবে তা করতে পারে। ক্রস সামান্য গর্বের সুরে উত্তর দিয়েছিল, আমার হাতে সে ব্যবস্থা রয়েছে।
ক্লডিয়ার কাছে তার ভাই ক্রসের গর্ব কৌতুককর ও বিষণ্ণ মনে হয়েছিল।
মায়ের মৃত্যুতে স্বাভাবিক কারণেই ক্রসের তুলনায় ক্লডিয়া অনেক বেশি আঘাত পেয়েছিল কিন্তু এর ফলে দুই ভাইবোন আবারো মিলে গিয়েছিল। তাদের মধ্যে শৈশবকালের সেই ঘনিষ্ঠ সাহচর্য, হৃদ্যতা পুনরায় জেগে ওঠে। পরবর্তী বছরগুলোতে ক্লডিয়া প্রায়ই ভেগাসে তার ভাইয়ের কাছে গিয়েছে, সেখানে সে গ্রোনিভেল্টের সাথে দেখা করেছে। ক্লডিয়া গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে ওই বৃদ্ধ লোকটির সাথে ক্রসের এক ধরনের ক্ষমতা আছে, যার সাথে ক্লেরিকুজিও পরিবারের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল না। ক্লডিয়া যখন থেকে ওই পরিবারের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তখন থেকেই সে পরিবারের কোনো সামাজিক কর্মকাণ্ড। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, বিবাহ এবং খ্রিস্টেনিংয়ে অংশগ্রহণ করত না। তবে ক্লেরিকুজিও পরিবারের সামাজিক কর্মকাণ্ডে যে তখনও ক্রসের অংশগ্রহণ ছিল তা সে জানত না। আরো ক্রসও এ বিষয়ে ক্লডিয়াকে কিছু জানায়নি। ভেগাসে কদাচিৎ ক্লডিয়া তার বাবাকে দেখেছে। কিন্তু মেয়ের প্রতি বাবার (পিপি) কোনো আগ্রহ ছিল না।
নববর্ষের উৎসব ভেগাসের সবচেয়ে বড় উৎসব। সারাদেশ থেকে আমুদে মানুষের ঢল নামে ভেগাসে। কিন্তু ক্লডিয়ার জন্য হোটেল জানাদুতে সবসময় একটি সুইট রেখে দিত ক্রস। ক্লডিয়া বড় কোনো জুয়াড়ি নয়। শখের জুয়াড়ি। জানাদুতে বেড়াতে এলে একটু আধটু খেলে। অনেকটা সময় কাটানোর মতো। এক নববর্ষের উৎসবে ক্লডিয়া এক উদীয়মান তারকা অভিনেতাকে নিয়ে আসে জানাতে। সঙ্গী অভিনেতাকে ইমপ্রেস করার জন্য ক্লডিয়া সে বার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিল। জুয়ার বোর্ডে সে পঞ্চাশ হাজার ডলারের মার্কার চায়। যদিও সে মুহূর্তে তার অত টাকার সামর্থ্য ছিল না। ক্রস তার জন্য নিজে মার্কার নিয়ে আসে। ক্রস কৌতূহলী দৃষ্টিতে ক্লডিয়ার দিকে তাকায়। সে ক্লডিয়াকে বলল, ক্লডিয়া আমি তোমাকে আমার চেয়ে চৌকস ভাবতাম, তুমি এসব কি করছ? সেই মুহূর্তে ক্লডিয়া উপলব্ধি করেছিল– তবে মনে হয়েছিল ক্রস নয়, কথাগুলো তার বাবাই তাকে বলছে।
ক্রসের কথায় ক্লডিয়া বিব্রতবোধ করে। ক্রস প্রায়ই তাকে সতর্ক করে বলত, সবসময় ছোট স্টেকে দান ধরতে। সে আরও বলত, যখন বুঝবে তুমি হারছ তখনও দানের পরিমাণ বাড়াবে না এবং প্রতিদিন দুই তিন ঘণ্টার বেশি জুয়া খেলবে না। কারণ জুয়াতে সময় হচ্ছে সবচেয়ে বড় ফাঁদ। ক্লডিয়া ক্রসের সব সতর্কতাই লঙ্ন করেছিল।
সে বলল, ক্রস, আমাকে দুসপ্তাহ সময় দাও, আমি তোমার এই টাকা পরিশোধ করে দেব। ক্লডিয়ার এই কথায় উত্তেজিত হয়ে ওঠে ক্রস। সে ক্লডিয়াকে বলে, তুমি টাকা শোধ করতে এলে আমি তোমাকে খুন করব। ক্রসের এমন প্রতিক্রিয়ায় ক্লডিয়া আশ্চর্য হয়ে যায়। ক্রস স্বাভাবিকভাবে মার্কারের স্লিপটি ছিঁড়ে নিজের পকেটে রাখল। সে বলল, দেখো ক্লডিয়া, আমি তোমাকে দেখার জন্য এখানে আসতে বলি, তোমার টাকা নেওয়ার জন্য নয়। এসব চিন্তা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলল। তুমি জুয়াতে কখনোই জিতবে না। এখানে ভাগ্য বলে কিছু নেই। এটা দুইয়ে দুইয়ে চারের মতো সহজ ব্যাপার। ক্লডিয়া বলল, ঠিক আছে, ঠিক আছে।
