পায়ের রক্ত মাথায় চড়ে গেল ক্লডিয়ার। দুচোখ ঠিকরে যেন আগুন বেরুতে লাগল। যে ক্লডিয়া তার সেক্সয়াল পার্টনার সম্বন্ধে কিংবা তাদের বিরুদ্ধে কখনো কোনো মন্তব্য করেনি, সেই ক্লডিয়াই পরিচালকের বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠল।
বলল, তোমারও মেধা আছে তবে যে মানুষ সেক্সের সময় তার শার্ট গায়ে চাপিয়ে রাখে তার নিশ্চয়ই খারাপ কিছু দোষ আছে। আজ প্রতিজ্ঞা করছি, এমন মানুষের শয্যাসঙ্গী হওয়ার আগে অবশ্যই তার স্ক্রিন টেস্ট করিয়ে নেব।
পরিচালকের সাথে সম্পর্কের ইতি ঘটল এ থেকেই। আর ম্যাসেলিনার জন্য পরিচালক হিসেবে ক্লডিয়ার মনে এলো ডিটা টমির নাম। ক্লডিয়া বুঝতে পারল, একমাত্র নারী পরিচালকই তার স্ক্রিপ্টের যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারবে।
ক্লডিয়া ভাবল, কি অসহ্য বিরক্তিকর নিরানন্দ সময় কাটিয়েছে সে পরিচালকের সাথে। যৌন মিলনের আনন্দঘন মুহূর্তগুলোতে অস্বস্তি বোধ করত ক্লডিয়া।
চলচ্চিত্র পরিচালনায় সে যত বড় প্রতিভাধর পরিচালকই হোক না কেন, প্রণয়ঘটিত ব্যাপারে সে একটা পাষণ্ড বৈ কিছু নয়।
যৌন মিলনের সময় সে সম্পূর্ণ উলঙ্গ হতো না এবং সঙ্গম শেষে কোনো প্রণয়ালাপও করত না। তার যত প্রতিভা শুধু চলচ্চিত্র বিষয়ে, এর বাইরে সে ছিল প্রকৃতপক্ষেই বিরক্তিকর একজন মানুষ।
ভাবনার দৌড়ের সাথে পাল্লা দিয়ে ক্লডিয়ার গাড়ি প্যাসিফিক কোস্ট হাইওয়ের বিশাল বাঁকে পৌঁছল, তার বাম পাশে উন্মুক্ত বিস্তৃত সমুদ্র, ডান পাশে সুউচ্চ পর্বত চূড়া, সমুদ্রটাকে মনে হলো বিশাল এক আয়না, সুনীল জলের বুকে পর্বতশৃঙ্গের প্রতিবিম্ব ফুটে উঠেছে।
স্থানটি ক্লডিয়ার অন্যতম প্রিয় স্থান। এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য তাকে চমকিত করে। এখান থেকে অ্যাথেনার বাসস্থান ম্যালিবু কলোনি মাত্র দশ মিনিটের পথ। অ্যাথেনাকে পুনরায় ম্যাসেলিনার শুটিংয়ে ফিরিয়ে আনার জন্য সে মনে মনে একটা উপায় খুঁজতে লাগল। তার মনে পড়ল, অ্যাথেনার এক সময়কার প্রেমিকের সাথে তারও প্রণয় সম্পর্ক হয়েছিল। এটা ভাবতে ক্লডিয়া কিছুটা গর্ববোধ করে, কারণ অ্যাথেনার মতো সুন্দরী, তারকা অভিনেত্রীর প্রেমিক ক্লডিয়ার প্রেমে পড়েছিল এবং তাকে ভালোবেসেছিল।
মাথার উপর জ্বলন্ত সূর্য। সূর্যের আলো সমুদ্রের টেউয়ে প্রতিফলিত হচ্ছে। পুরো সমুদ্রটাই যেন বিশাল এক হীরকখণ্ডে পরিণত হয়েছে। একজন গ্লাইভারকে তার গাড়ির সামনে নেমে আসতে দেখে ক্লডিয়া হঠাৎ করেই ব্রেক কষল। সে গ্লাইডারকে দেখতে পেল একজন তরুণী, ক্লডিয়া লক্ষ্য করল, তার ব্লাউজের ফাঁক গলে একপাশের স্তন বেরিয়ে পড়েছে। অবতরণের সময় এক ঝলকের জন্য ওই দৃশ্যটি ক্লডিয়ার চোখে পড়েছিল।
ক্লডিয়া ব্যাপারটা মেনে নিতে পারে না, এদেরকে কেন গ্লাইডিংয়ের অনুমতি দেওয়া হয়, পুলিশ কেন এগুলো দেখে না? মাথা নেড়ে ক্লডিয়া এই চিন্তা ঝেড়ে ফেলে গ্যাস প্যাডেলে চাপ দেয়, রাস্তার ভিড় কমে আসছে। হঠাৎ করেই হাইওয়ে এমন একটা বাঁক নিয়েছে যার ফলে সে আর সমুদ্র দেখতে পারছে না, তবে সে জানে আধ মাইল পর আবারও সমুদ্র দেখা যাবে। সত্যিকারের ভালোবাসা যেমন বারবার ফিরে আসে ঠিক তেমনি, এই ভাবনায় ক্লডিয়ার মুখে হাসি ফুটে ওঠে। তার জীবনেও সত্যিকার ভালোবাসা বারবার ধরা দিয়েছে।
ক্লডিয়া সত্যিকারভাবে স্টিভ স্টেলিংয়ের প্রেমে ডুবেছিল। সারা বিশ্বের মেয়েদের আরাধ্য চলচ্চিত্র তারকা, ব্যবসা সফল তুখোড় অভিনেতা স্টেলিং ছিল অত্যন্ত পৌরুষদীপ্ত সৌন্দর্যের অধিকারী। তার চেহারায় ছিল নিখাদ আকর্ষণ, প্রাণোচ্ছল তেজোদীপ্ত উজ্জ্বলতা ছিল তার মাঝে। অভিনয় প্রতিভায়ও সে ছিল অসামান্য। সতর্কতার সাথে সীমিত মাত্রায় কোকেন সেবন করত স্টেলিং। যা তাকে সবসময় হাস্যোজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত রাখত। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় যে গুণ ছিল তা হলো নারীবশীকরণ ক্ষমতা। এ দিক দিয়ে সে ছিল স্পেনিশ কিংবদন্তির ডন জুয়ান। যে কোনো রমণীকে সে তার শয্যাসঙ্গী করতে পারত। পৃথিবীর যে কোনো স্থানে আফ্রিকা, আমেরিকার ঘোট কোনো শহর, বোম্বে, সিঙ্গাপুর, টোকিও, লন্ডন, রোম, প্যারিস সবখানেই অনায়াসে, অবলীলায় নারীদেরকে যৌনসঙ্গ দিয়েছে। দান করার অনুপ্রেরণায়ই সে নারীদেরকে যৌনসঙ্গ দিত, একজন ভদ্রলোক যেমন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দিয়ে যেমন খ্রিস্টীয় পুণ্যের আত্মপ্রসাদ লাভ করে, সেভাবেই স্টেলিং মেয়েদের সাথে যৌনতা উপভোগ করত। যৌন সম্পর্ক স্থাপনে তার কোনো বাছ-বিচার ছিল না। স্টেলিংয়ের পৌরুষদীপ্ত সৌন্দর্যে ক্লডিয়া বিমোহিত হয়েছিল, তার প্রতি প্রচণ্ড দুর্বল হয়েছিল এবং তার প্রেমে ডুবে গিয়েছিল। কিন্তু সেই সত্যিকারের ভালোবাসার সম্পর্ক মাত্র সাতাশ দিন টিকে ছিল।
ক্লডিয়ার জীবনে ওই সাতাশ দিন অত্যন্ত আনন্দঘন হলেও তা ছিল অপমানজনক। স্টেলিংয়ের ভালোবাসায় যন্ত্রণা সয়েছে ক্লডিয়া কিন্তু সেই সাথে অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে সে।
স্টেলিংয়ের কাছে প্রচণ্ড ভালোবাসা পেয়েছে ক্লডিয়া। তার সান্নিধ্যে পেয়েছে পরিতৃপ্ত সুখানুভূতি। কোকেনের প্রভাবে স্টেলিং দুর্বারভাবে ভালোবাসতে পারত, নগ্নতার ক্ষেত্রে ক্লডিয়ার চেয়েও অধিক সাবলীল ছিল স্টেলিং। সঙ্গমের সময় সুনিপুণভাবে দৈহিক সামঞ্জস্য বজায় রেখে সে যৌন সম্ভোগ করত যা ক্লডিয়ার আনন্দানুভূতিকে বাড়িয়ে দিত। ক্লডিয়া প্রায়ই লক্ষ্য করছে সম্পূর্ণ নগ্ন অবস্থায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে স্টেলিং নিজেকে পর্যবেক্ষণ করছে। একজন মহিলা যেভাবে তার মাথার হ্যাট ঠিক করে ঠিক তেমনি সে নিজেকে পর্যবেক্ষণ করত।
