আলফা, বিটা, গামা পর্যায়ের এই আলফা, অর্থাৎ, বিখ্যাত হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ের পুরুষদের সাথে ক্লডিয়ার সম্পর্ক তৈরির পেছনে যথেষ্ট কারণও আছে। অন্যতম কারণ হলো, এসব পুরুষ মানসিক, শারীরিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্লডিয়ার সাথে কেমন আচরণ করে, কতটুকুইবা তাদের দক্ষতা কিংবা মেধা- এসব যাচাই করা এবং অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করা।
ক্লডিয়ার চেয়ে মাত্র কয়েক বছরের বড় ছিল সেই পরিচালক। মাত্র তিনটি ছবি বানিয়েই খ্যাতি পেয়েছিল সে। পরিচালকের এই ছবিগুলো সমালোচনাতে সফলতা তো পেয়েছিলই, আর্থিক দিক থেকেও হয়েছিল ব্যবসা সফল। আর এই সফলতার পর হলিউডের বিভিন্ন স্টুডিও তার প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষিতে লডস্টোনও বসে থাকেনি। নতুন এই পরিচালকের সাথে তিনটি ছবি তৈরিতে চুক্তিবদ্ধ হয়। এর সাথে যুক্ত হয় ক্লডিয়া– লডস্টোন স্টুডিওর আগ্রহেই।
জিনিয়াস হিসেবে খ্যাতি পাওয়ার পেছনে পরিচালকের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গুণ হলো যে কোনো চাট, যে কোনো দৃশ্য, সংলাপ সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা। প্রথম পরিচয়েই পরিচালক ক্লডিয়ার প্রতি প্রসন্ন হলো। তার এই প্রসন্নতার কারণ প্রথমত ক্লডিয়া একজন নারী এবং লেখক। আর এ দুটো সম্মিলন হলিউডে পদমর্যাদায় নগণ্যতম ধরা হয়ে থাকে। এদিক থেকে একটি বাড়তি সুবিধা আদায়ের মানসিকতা তত তার ছিলই। তবে পরিচালকের আশায় গুড়েবালি। ক্লডিয়া শক্ত বিরোধিতা করল তার চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট কিছু পরিকল্পনার। আর এতে খুব শিগগির উভয়ের মাঝে দেখা দিল দ্বন্দ্ব।
যে প্লটের ওপর যে দৃশ্য বর্ণনার নির্দেশ দিল পরিচালক, ক্লডিয়া তা প্রত্যাখ্যান করে বসল। ক্লডিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে, এমন দৃশ্য মোর্টেও শৈল্পিক নয় এবং অযথা অবতারণা।
আমি এ দৃশ্য লিখতে পারব না। অস্বীকার করল ক্লডিয়া। বলল, এটা গল্পের ক্ষেত্রে কোনো যুক্তিই বহন করে না। অযাচিত কিছু অ্যাকশন এবং ক্যামেরার কাজ হবে। আর কিছু নয়।
ক্লডিয়ার বিরোধিতায় পরিচালক ধীর কণ্ঠেই বলল, এটাই ছবির নিয়ম। আমি যেভাবে বলছি তুমি তা-ই লিখ।
আমি চাই না তোমার সময় নষ্ট হোক, সেই সাথে আমারও, ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করল ক্লডিয়া। বলল, তুমি নিজেই তোমার কাজ ভালো করতে পারবে, আশা করি।
ক্লডিয়ার আচরণে পরিচালক আর তর্ক বাড়াল, এমনকি ক্ষুব্ধও হলো না। হাততালি দিয়ে ক্যামেরা বন্ধ করার নির্দেশ দিল সে। তারপর ক্লডিয়ার উদ্দেশ্যে বলল, তুমি অযথাই রেগে গেলে।
ক্লডিয়ার বিরোধিতার কারণে কাজ বন্ধ হয়ে গেল। অবশেষে স্কিপি ডিরি এবং ববি বানজের হস্তক্ষেপে ক্লডিয়া ও পরিচালক আবারও শুরু করল তাদের কাজ। ক্লডিয়ার একগুয়েমিই মেনে নিতে বাধ্য হলো সে। মুখ বুজে পরিচালক মেনে নিল ক্লডিয়ার বেশ কিছু যৌক্তিক নির্দেশ। ছবির কাজ শেষ হলো। অবশেষে দেখা গেল ছবিটি সফলতা পেয়েছে। আর এর কৃতিত্বের অন্যতম অংশীদার ক্লডিয়া। যৌক্তিক, শৈল্পিক দৃষ্টিকোণ থেকে কুডিয়ার লেখা পাণ্ডুলিপির কারণেই মূলত ছবির এ সফলতা। বিষয়টি পরিচালককেও মুগ্ধ করল। এরপর আর থেমে থাকেনি উভয়েই–সম্পর্ক এগুলো বিছানা অবধি।
সেখানে গিয়েও দুজনের মধ্যে বাধল সমস্যা। সেক্সের সময় পরিচালক সম্পূর্ণ নগ্ন হতে রাজি নয়। কোমর থেকে নিচের পরিধেয় সরালেও গায়ের শার্ট সে কোনো মতেই খুলবে না। বিষয়টি ক্লডিয়াকে ক্ষুব্ধ করে তুলল। তবে সে এ কারণে খুব একটা উচ্চবাচ্য করল না। এর কারণ এই পরিচালকের সাথে করতে হবে আরো দুটি ছবির কাজ। ক্লডিয়া নিশ্চিতভাবেই উপলব্ধি করল। প্রথমটির মতো পরবর্তী ছবিগুলোও সফলতা পাবে। সম্পর্কের অবনতি ঘটলে ছবিগুলোতে আর সুষ্ঠুভাবে কাজ করা হবে না। পরিচালকের আবরণেই সন্তুষ্ট থাকতে হলো ক্লডিয়াকে। অবশেষে একে একে দুটি ছবিই মুক্তি পেল। যথানিয়মেই ক্লডিয়ার গুণে এগুলোও হলো ব্যবসা সফল।
এরপর ক্লডিয়ার সাথে পরিচালকটির সম্পর্ক টিকে ছিল মাত্র এক মাস। সম্পর্কের যা-ই ঘটুক, হলিউডে পরিচালক ও চিত্রনাট্যকার হিসেবে দুজনেরই খ্যাতি বেড়ে গেল। ম্যাসেলিনা ছবির জন্য স্ক্রিপ্টের কাজ ক্লডিয়া তখনও শেষ। করতে পারেনি। স্ক্রিপ্টটি সেই পরিচালককে দেখাল। আগা-গোড়া পড়ে পরিচালক মন্তব্য করল, নারীবাদী তথ্য সংবলিত একটি বুলশিট ছাড়া আর কিছুই নয় এটি। যেখানে যৌন সুড়সুড়ির বাহুল্য শুধু।
পরিচালক প্রচণ্ড রকমের বিরোধিতা করে বলল, এখানে যদিও তোমার বুদ্ধিমত্তার সমন্বয় ঘটিয়েছ, তারপরও এটা আমার কাছে ছবির যোগ্য কোনো পাণ্ডুলিপিই নয়। এ ছবির জন্য আমি আমার জীবনের মূল্যবান একটি বছর নষ্ট করতে চাই না।
ক্লডিয়া বলল, এটা একটা খসড়া পাণ্ডুলিপি।
ওহ ঈশ্বর আমি তাদেরকে ঘৃণা করি, যারা ব্যক্তিগত সম্পর্কের অজুহাতে কাজ বাগিয়ে নিতে চায়, যেন ক্লডিয়াকে আঘাত করাই ছিল পরিচালকের উদ্দেশ্য। আকাশের দিকে তাকিয়ে ক্রুর কণ্ঠে কথাগুলো বলল সে।
আর ক্লডিয়া যেন মিশে গেল মাটিতে। মুহূর্তেই মানুষটির ওপর থেকে ক্লডিয়ার সমস্ত ভালোবাসা উবে গেল। ঝাঝালো কণ্ঠে সে বলল, আই ডোন্ট হ্যাভ টু ফাঁক ইউ টু মেক এ মুভি।
নিশ্চিতভাবেই তোমার তা দরকার নেই, সমস্বরে চেঁচিয়ে উঠল পরিচালক। বলল, তুমি তো মেধাবী, সেই সাথে ইদানীং আবার জনপ্রিয়তাও বেড়েছে। সে সবকে তো কাজে লাগাবেই, আর বস্তাপচা এসব গেলাবে মানুষকে।
