একটু থামল ভেইল। তারপর আবার বলল, আমার যা মনে হয়েছে, আমার অভিজ্ঞতা থেকে মন্তব্য করেছি। আমার মতে আমি যা বলেছি তা সঠিক। হতে পারে আমি ভুলও বলেছি, কিন্তু
ক্লডিয়া ধাতস্থ হলো। বলল, না, তুমি ভুল বলোনি, কিন্তু তোমার কথাগুলো আঘাত করেছে আমাকে।
সতর্কতার সাথে ক্লডিয়ার চোখে চোখ রাখল ভেইল। তারপর ধীরে ধীরে তার উদ্দেশে বলল ভেইল, তোমার কাছে প্রকৃতি প্রদত্ত কিছু বিষয় আছে। মুভির সংলাপ তৈরির ব্যাপকগুণ আছে তোমার, স্টোরি লাইন তৈরিতেও তুমি পারদশী –প্রকৃত অর্থে চলচ্চিত্রে তোমার রয়েছে উৎকৃষ্ট ধারণা। অটোমোবাইলের জন্য উচ্চ প্রযুক্তি থাকতে তুমি কেন যাবে কামারের কাছে? তুমি হচ্ছ চলচ্চিত্রের ব্যক্তিত্ব, ঔপন্যাসিক না।
বিস্ফারিত নেত্রে ভেইলের দিকে তাকাল ক্লডিয়া। এতক্ষণে সত্যিকারের সুখের হিমেল পরশ বুলিয়ে গেল তার হৃদয়ে। তবে একই গোঁ ধরে ক্লডিয়া বলল, তুমি জানো না কতটা কঠোরভাবে অপমান করেছ তুমি।
হ্যাঁ অবশ্যই। আমি মানছি, স্বীকার করল ভেইল। তবে যা বলেছি তোমার ভালোর জন্যই।
তোমার, লেখা বইয়ের সাথে তোমাকে আমি কিছুতেই মেলাতে পারছি না। বিশ্বাসই হচ্ছে না তুমিই সেই লোক! ক্লডিয়ায় কণ্ঠে এখনো বিদ্বেষ। তোমার সাথে কথা বলে কেউই বিশ্বাস করবে না যে তোমার লেখাগুলোর স্রষ্টা তুমি।
কর্কশ কণ্ঠে হেসে উঠল ভেইল, একেবারেই খাঁটি কথা বলেছ তুমি। এটাই কি মজার বিষয় নয়?
ভেইলকে দমাতে পারল না ক্লডিয়া। পরবর্তী সপ্তাহের প্রথম কয়েকটা দিন ক্লডিয়া বেশ গম্ভীর থাকল। ক্লডিয়ার এ গাম্ভীর্য উভয়ের বন্ধুত্বে কোনো ছাপ ফেলল না। বরং আরো প্রগাঢ় হতে থাকল। কিন্তু ক্লডিয়ার এই পরিবর্তন ভেইলকে কিছুটা দমিয়ে ফেলল। সে ভাবল– এই বুঝি হতে চলেছে তাদের সম্পর্কের ইতি।
সব কিছুকে ছাপিয়ে ক্লডিয়া ভেইলকে সতর্ক করে দিল পরবর্তী দিনগুলোর জন্য। বলল, আর্নেস্ট, সেদিনের মতো এতটা রুক্ষ আচরণ করবে না আরো কখনো। আমি তোমাকে ক্ষমা করেছি। যদিও আমি জানি তোমার কথাগুলোই ছিল সঠিক। তাই বলে এতটা নির্দয় হওয়া উচিত হয়নি তোমার।
আরেকটু রুক্ষ হলো ক্লডিয়া। বলল, অপদস্থ করে তাতে প্রলেপ দিতে আমাকে বিছানায় নিয়ে যাওয়ার মনোবাসনা তোমার? অবশ্য আমি যতদূর জানি, এ ক্ষেত্রে তুমি একেবারেই আনাড়ি। ঈশ্বরের দোহাই, তোমার ঐ তিক্ত ওষুধের সাথে অন্তত একটু মিষ্টি দিও।
বিড়বিড় করে উঠল ভেইল, এই একটি বিষয়ে আমি নিজের মতো। ক্লডিয়ার উদ্দেশে বলল, এসব বিষয়ে যদি আমার সততা না থাকে তবে আমার তো কোনো অস্তিত্বই থাকবে না। আর সত্যি কথা বলতে, তোমার প্রতি আমি যে পশুবৎ আচরণ করেছি তা তোমার সাথে আমার একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে বলেই। সত্যিই আমি তোমার অনুরাগী। তুমি হয়তো নিজেও জান না তুমি কতটা ব্যতিক্রমী।
ক্লডিয়া হেসে ফেলল। প্রশ্ন করল, তোমার এই অনুরাগ কি আমার টেলেন্টে না-কি আমার সরলতা এবং বুদ্ধিমত্তায়? না-কি আমায় সৌন্দর্যে?
হাত নেড়ে বিরোধিতা করল ভেইল। বলল, এগুলোর কোনোটাই নয়। তুমি আশীর্বাদপুষ্ট, অত্যন্ত সুখী একজন। এমনকি আমার মনে হয় কোনো বিমর্ষতাই তোমাকে যেন ছোঁয়নি এবং ছেবেও না এটাই তোমার ক্ষেত্রে বিরল, আর তোমার প্রতি আমার অনুরাগের কারণ।
ভেইলের এমন মন্তব্যে ক্লডিয়ার কপাল কুঞ্চিত হলো। কি যেন ভাবল কিছুটা সময়। তারপর বলল, তোমার এ কথাতেও অস্পষ্ট অপমানের আভাস। তার মানে তুমি বলতে চাচ্ছ, আমি নির্বোধ একটা ব্যক্তি? কয়েক পলক থামল ক্লডিয়া। আবার বলল, তোমার এ কথা তো আরো হতাশাজনক।
ঠিক ধরেছ তুমি, ভেইল বলল, আমি নিজেও বিষাদগ্রস্ত এবং তোমার চেয়ে অনেক বেশি স্পর্শকাতর। ভেইলের এ কথায় কি ছিল কে জানে, ক্লডিয়া হেসে ফেলল। ভেইলও হেসে উঠল তার সাথে। আর ক্লডিয়া তাকে জড়িয়ে ধরল।
ক্লডিয়া বলল, তোমার সতোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।
লডস্টোন স্টুডিওর জন্য পাণ্ডুলিপির কাজ অব্যাহত রয়েছে—- তখনো শেষ হয়নি। কিন্তু ভেইল-ক্লডিয়ার সম্পর্ক এগিয়েছে ইতিমধ্যেই, অনেক দূর। ক্লডিয়ার স্বতঃস্ফুর্ত উৎসাহে বিছানা পর্যন্ত গেছে তাদের সম্পর্ক। নতুনভাবে ভেইলকে আবিষ্কার করেছে ক্লডিয়া। বিনা কাপড়ে ভেইলকে আরো অনুরাগী মনে হয়েছে তার। ক্লডিয়ার এই স্বভাবজাত কৌশল ভেইলের হৃদয় পর্যন্ত পৌঁছেছে। ভেইলও পেয়েছে ক্লডিয়ার হৃদয়-সান্নিধ্য। নিজেদের মধ্যে একে অপরের প্রতি আস্থাও জন্মেছে–বিনিময় করেছে নিজেদের প্রগাঢ় আস্থার ভাব।
ক্লডিয়ার চোখে, ভেইল যৌন সম্ভোগে আগ্রহান্বিত হলেও বিশেষ দক্ষ নয়। মানুষ হিসেবে সে যতটা না ব্যক্তিত্বসম্পন্ন, তার চেয়ে অনেক বেশি কৃতজ্ঞ। সবচেয়ে মজার বিষয় হচ্ছে, সেক্সের পর ভেইল হৃদয় খুলে কথা বলত ক্লডিয়ার সাথে। তার নগ্নতা এমন আলোচনায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি, এমনকি ক্লডিয়ার প্রতি সমালোচনাতেও নয়। আর অপর দিকে ক্লডিয়াও ভেইলের এমন আলোচনা পছন্দ করেছে। ভেইলের নগ্নতাও ছিল তার পছন্দের পরিধেয় ছাড়া ভেইল যেন বন্য-বানরের মতো ক্ষিপ্র এবং প্রচণ্ড আবেগপ্রবণ। সর্বোপরি তার লোমশ এবং জট পাকানো পেশিবহুল শরীরে কেমন যেন একটা বানরের আদল। নগ্ন শরীরে গাছে ঝুলিয়ে রাখলে মানুষ তার লোমশ শরীর দেখে বানরই মনে করবে। তবে ভেইলের এই বানর প্রবৃত্তির ক্ষিপ্রতায় ক্লডিয়া মুগ্ধ। ভেইলের সাথে যৌনতায় সে খুঁজে পেয়েছে এক রকমের কৌতুককর আনন্দ।
