ম্যাসেলিনায় অভিনয়ের জন্য তাকে ফিরিয়ে আনাটা যেমন ক্লডিয়ার কাছে গুরুত্বপূর্ণ, ঠিক তেমনি গুরুত্বপূর্ণ স্টুডিওর জন্যও। আসলে ম্যাসেলিনা ক্লডিয়ার লেখা প্রথম অরিজিনাল স্ক্রিপ্ট। এর আগেও বিভিন্ন ছবির চিত্রনাট্য সে করেছে, তবে সেগুলোর কোনোটি ছিল কোনো নভেল থেকে নেয়া নকল পাণ্ডুলিপি, কিংবা মুক্তিপ্রাপ্ত ছবির ঘষা-মাজা স্ক্রিপ্ট।
ক্লডিয়ার কাছে এ ছবির গুরুত্ব আরেক কারণে। সেটি হলো–এই ম্যাসেলিনার মাধ্যমেই সে প্রথমবারের মতো কো-প্রডিউসার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এ সুযোগ আগে তার আসেনি। লেখক এবং কো-প্রডিউসার হিসেবে ক্লডিয়ার ভাগ্যে যে উজ্জ্বল অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে তার সাথে যোগ হবে গ্রস প্রফিটের একটা অংশও। এত প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হওয়াটা শুধু ক্লডিয়ার কেন, কোনো রক্ত-মাংসের মানুষেরই কাম্য নয়।
এ ছবি থেকে যে বড় লভ্যাংশের প্রত্যাশা ক্লডিয়া করছে তা তার কর্ম জীবনের পরবর্তী আরেক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার পাথেয় হবে। প্রকৃতপক্ষে সে হচ্ছে, মিসিসিপির পশ্চিমাঞ্চলের এমন একজন যে সরাসরি কখনোই কিছু চায়নি, আশাও করেনি। মানুষের হিংস্রতা, বিবাদ, কলহ থেকে ক্লডিয়া নিজেকে রেখেছে সব সময় পৃথক করে। বিবাদপূর্ণ সম্পর্কের সৃষ্টি হোক, তা চায় না সে।
অ্যাথেনার সাথে ক্লডিয়ার সম্পর্ক অত্যন্ত বন্ধুত্বপূর্ণ, আন্তরিক। শুধুমাত্র চলচ্চিত্র জগতের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট সম্পর্ক নয় তাদের। অ্যাথেনা জানে তার বাকি জীবনটায় কতগুলো ছবিতে কাজ করতে পারবে। অবশ্যই বুদ্ধিমতী সে। শুধু বজ স্কাটে তার জীবনে একটা অশুভ ছায়া ফেলে রেখেছে, যার কারণে অনিশ্চয়তার দিকে ধাবিত হচ্ছে সে প্রতিনিয়ত। তবে এও সত্য, অ্যাথেনা কখনোই কারো ভয়ে কিংবা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত নিয়তির ভয়ে ভীত ছিল না– এখনো নয়।
ক্লডিয়া ঠিক করে নিল অ্যাথেনার কাছে গিয়ে তার আচরণ কি হবে, কি বলবে সে অ্যাথেনাকে। অ্যাথেনার এই আতঙ্কিত হওয়ার প্রকৃত কারণ তাকে উদ্ধার করতেই হবে। হয়তো ক্লডিয়া এ ব্যাপারে তার সহযোগিতায় এগিয়ে যাবে। না, হয়তো নয়, নিশ্চিতভাবেই। অ্যাথেনার ক্যারিয়ার এভাবে ধ্বংস হতে দেয়া যায় না তাকে অবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে। ক্লডিয়া তাকে নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা দেবে। তবে কে জানে এই মুভি ব্যবসায় কত রকমের জটিলতা কিংবা ফাঁদ তার জন্য অপেক্ষা করছে।
ক্লডিয়া ডি লিনা নিউইয়র্ক থেকেই লেখিকা হওয়ার স্বপ্ন দেখে আসছে। একুশ বছর বয়সে কুড়িটি প্রকাশকের কাছে তার প্রথম নভেল উপেক্ষিত হয়েছে। কিন্তু নিরাশ হয়নি সে। মানসিক দৃঢ়তা নিয়ে সে পাড়ি জমিয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস। হলিউডে চলচ্চিত্রের পাণ্ডুলিপি লেখার কাজে মনোনিবেশ করেছে।
ক্লডিয়া উচ্ছল, প্রাণবন্ত এবং মেধাবী। লস অ্যাঞ্জেলেসে খুব শিগগিরই সে তার অবস্থান করে নিতে সক্ষম হয়েছে, জুটেছে অনেক গুণী বন্ধু।
লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউসিএলএ-তে যখন সে স্ক্রিপ্ট রাইটিংয়ের কোর্স করছিল তখন সেখানকার এক যুবকের সাথে তার পরিচয় হয়। যুবকটির বাবা ছিল বিখ্যাত প্রাস্টিক সার্জন। খুব অল্প দিনেই তাদের মধ্যে তৈরি হলো বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এ সম্পর্ক রূপ নিল ভালোবাসায়। ক্লডিয়ার শরীর, মেধা এবং বুদ্ধিমত্তায় মোহিত হলো সে। দিনের পর দিন শয্যাসঙ্গী হয়ে উভয়ের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধি পেতে লাগল ক্রমান্বয়ে।
এক রাতে ডিনারে নিমন্ত্রণ করে যুবকটি নিয়ে গেল তার বাসায়। ক্লডিয়াকে দেখে তার সাথে কথা বলে যুবকের বাবা মুগ্ধ হলো। ডিনার শেষে ক্লডিয়ার মুখে হাত বুলিয়ে যুবকের বাবা বলল, তোমার মতো একজন যুবতীর যতটুকু সুন্দরী হওয়া উচিত ছিল, ততটা তুমি নও।
আকস্মিক এ মন্তব্যে ক্লডিয়ার ভ্রূজোড়া কুঞ্চিত হলো। তাকে দেখে যুবকের বাবা বলল, আমার এ কথার বিরূপ ধারণা করো না। এটা একটা নিশ্চিত দুর্ভাগ্য। আর আমার ব্যবসা বা দক্ষতা যা-ই বলল, আমি তোমাকে সুন্দর একটা চেহারা দিতে পারি।
ক্লডিয়া প্রেমিকের বাবার কথায় প্রতিবাদ করল না, তবে একটু রুষ্ট হলো, বলল, কেন আমাকে সুন্দরী হতে হবে? কি হবে এই সুন্দর দিয়ে? হেসে ফেলল ক্লডিয়া। বলল, আমি আপনার পুত্রের জন্য যথেষ্ট সুন্দরী।
এ পৃথিবীর সবই সুন্দর, সার্জন বলল। তোমার ঐ চেহারায় যখন হাত পড়বে, তখন তুমি আমার ছেলের জন্য হয়ে উঠবে আরো সুন্দর। তুমি সত্যিই একটি মিষ্টি এবং বুদ্ধিমতী মেয়ে, আর এর সাথে সৌন্দর্য যোগ হলে তোমার ক্ষমতা আরো বাড়বে। তুমি কি সত্যিই তোমার বাকি জীবনটা উপভোগ করতে চাও না যেখানে সব পুরুষ সুন্দরীদের ঘিরে থাকবে অথচ তোমার মতো মেধাবীর দিকে হয়তো কেউ তাকাবেও না? তোমাকে হয়তো একটি ডামির মতো বসে থাকতে হবে, কারণ তোমার নাকটি বোচা এবং মাফিয়াদের মতো তোমার চিবুকটিও যেন থ্যাবড়ানো। এ কথাগুলো সার্জন ক্লডিয়াকে আঘাত করে বলেনি, বরং তাকে উৎসাহ দেয়ার জন্যই বলল। তোমাকে পরিবর্তন করতে আমার খুব বেগ পেতে হবে না। তোমার খুব সুন্দর দুটি চোখ আছে, আছে সুন্দর একটি মুখ। আর একজন মুভিস্টার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার মতো তোমার রয়েছে যথেষ্ট সুন্দর শরীর।
