মাফিয়া শব্দটি ক্লডিয়ার শিরায় শিরায় অনুরণিত হলো। মুখ ফিরিয়ে নিল সে সার্জনের কথায়। স্পষ্ট উপলব্ধি হলো তার, সে জানে বাবার মতোই দেখতে সে।
সার্জনকে উদ্দেশ্য করে বলল, এটা কোনো ব্যাপার নয়। আর তাছাড়া, আমি আপনার সম্মানী দিতে পারব না।
সেটা পৃথক বিষয়, সার্জন বিরোধিতা করল। মুভি ব্যবসা সম্পর্কে আমার ধারণা আছে। চলচ্চিত্র জগতের অনেক নারী-পুরুষ তারকার ক্যারিয়ার আমি দীর্ঘায়িত করেছি। আর এক্ষেত্রে তুমিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আমার বিশ্বাস। জানি না আমার প্রস্তাবে তুমি কতটুকু অনুপ্রাণিত হচ্ছ, তবে তোমার মেধা সম্পর্কে আমার কোনো সন্দেহ নেই।
মনে রেখো, তোমার ক্ষেত্রটি চলচ্চিত্র জগতের। তোমাকে কিছুটা হলেও পেশাদারি মনোভাবের হতে হবে- এটা কোনো নারী বা পুরুষ বলেই শুধু নয়। যদিও এটা এ জগতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়।
এত কিছু বলার পরও ক্লডিয়ার চোখে-মুখে দ্বিধা লক্ষ্য করল সার্জন। বলল, তোমার কাজটি আমি বিনা পারিশ্রমিকে করতে চাই। এ কাজটি আমি করব তোমার জন্য এবং আমার পুত্রের খাতিরে। যদিও আমি জানি তুমি তোমার বর্তমান রূপ হারাবে, সুন্দরী হয়ে উঠবে। আর আমার ছেলে হারাবে তার গার্লফ্রেন্ড।
ক্লডিয়ার মনে একটা বোধ ছিল সে সুন্দরী নয়। এ মুহূর্তে তার মনে এলো ক্রসের প্রতি তার বাবার অতিরিক্ত আগ্রহের বিষয়টি। একটু আফসোস হলো তার– যদি সে সুন্দর হতো, হয়তো তার লক্ষ্যও হতো ভিন্ন। এমন ভাবনা থেকেই ক্লডিয়ার প্রথমবারের মতো সার্জনকে ভালো লাগল। হ্যান্ডসাম পুরুষ সে, আকর্ষণীয়ও। চোখ দুটোতে সদা ভদ্রতার চাহনি। সার্জনের প্রস্তাবে সম্মতি জন্মালো তার মনে। হেসে ফেলল ক্লডিয়া।
বলল, ঠিক আছে! আমাকে সিনড্রেলা বানিয়ে ফেলুন।
সার্জন সিনড্রেলা করল না ক্লডিয়াকে তবে তার বোঁচা নাক, চিবুক আর মুখের ত্বকে আনল ব্যতিক্রমতা। সার্জারির পর যখন সে ফিরে এলো, তাকে খুব আকর্ষণীয় মনে হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল যেন এক গর্বিত নারী—নিখুঁত তার নাক, সাবলীল কর্তপূর্ণ তার উপস্থাপনা ও প্রকৃতপক্ষে খুব সুন্দরী রমণীর পর্যায়ে না গেলেও আগের চেয়ে ক্লডিয়া হলো অনেক বেশি আকর্ষণীয়।
খুব অল্প সময়েই ক্লডিয়ার পেশাগত ক্ষেত্রেও ফল এলো ম্যাজিকের মতো। মেলো স্টুয়ার্ট ব্যক্তিগতভাবে তার সাক্ষাৎ প্রার্থী হলো। তার এজেন্ট হিসেবে নিজেকে প্রস্তাব করল স্টুয়ার্ট। খুব অল্প বয়সেই ছোটখাটো রিরাইট করা স্ক্রিপ্ট নিয়ে ক্লডিয়ার যাতায়াত বাড়ল চলচ্চিত্র জগতের নামি-দামি প্রযোজক, পরিচালক ও তারকাদের সম্মিলিত বিভিন্ন পার্টিতে। উচ্ছ্বসিত হলো তারা ক্লডিয়ার সৌন্দর্য ও মেধায়। পরবর্তী পাঁচ বছরে ক্লডিয়া অবস্থান করে নিল প্রথম শ্রেণীর লেখিকা হিসেবে। প্রথম শ্রেণীর ছবিগুলোতে তার চিত্রনাট্য সমানে কদর পেতে লাগল।
ব্যক্তিগত জীবনেও ম্যাজিকের মতো প্রভাব পড়ল ক্লডিয়ার। মর্মে মর্মে সে উপলব্ধি করল সার্জনের কৃতিত্ব বুঝতে পারল, সার্জনের চিন্তাধারাই ছিল সঠিক। কিন্তু যার কারণে সার্জনের কাছ থেকে এত কিছু সে পেয়েছে সেই যুবকও পিছিয়ে গেল প্রতিযোগিতায়। যৌন আবেদনে ক্লডিয়ার জয়জয়কার অবস্থা ধারালো এ অস্ত্রের ব্যবহারে যুক্তিসম্মতভাবে ঘায়েল হলো সবাই। অবশ্য এমন সফলতায় সব স্টারই গর্ববোধ করে থাকে। যৌন আবেদন এবং যৌনতা সত্যিকার অর্থেই চলচ্চিত্র জগতে টিকে থাকার গৌরব।
চলচ্চিত্র জগৎ ক্লডিয়ার ভালোবাসা। সে ভালোবাসে বিভিন্ন লেখকদের সাথে কাজ করতে, ভালোবাসে প্রডিউসারদের সাথে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে তর্ক করতে। আরো পরিচালকের তোষামোদ করতে তার আনন্দ। একটি ছবির সাথে জড়িয়ে তার প্রথম কাজ হচ্ছে কিভাবে সার্বিক ব্যয় কমানো যায়, তার পথ বের করা, আর একই সাথে এই ব্যয়ে নির্মিতব্য ছবিকে কিভাবে সর্বোচ্চ শৈল্পিক পর্যায়ে উপস্থাপন করা যায়। তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রীদের নিয়ে ক্লডিয়ার রয়েছে বিস্ময়কর চিন্তা-ভাবনা, কিভাবে একটি ছবির কলা-কুশলী তার স্ক্রিপ্টের প্রতিটি শব্দকে সার্থকভাবে উপস্থাপন করবে, কণ্ঠের মাধুর্যতায় ফুটিয়ে তুলবে দৃশ্যের পর দৃশ্য। ক্লডিয়ার ভালোবাসা চলচ্চিত্রের জাদুকরি সেট-সজ্জায়। অথবা অনেকেই এ বিষয়টিকে সবচেয়ে অপছন্দের কাজ বলে মনে করে। কিন্তু ক্লডিয়া এনজয় করে প্রতিটি কর্মকাণ্ড। সম্পূর্ণ কাজ শেষে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে যখন ছবি মুক্তির অপেক্ষায় থাকে তখন ক্লডিয়া রোমাঞ্চিত হয় সবচেয়ে বেশি— তার এই রোমাঞ্চের কারণ ছবির ব্যর্থতা কিংবা সফলতা।
ক্লডিয়া বিশ্বাস করে, চলচ্চিত্র হচ্ছে শিল্প মাধ্যমের একটি বিশাল অবকাঠামো। তাই যখন কোনো ছবির পাণ্ডুলিপি পুনর্লিখন কিংবা রিরাইটের জন্য তার ডাক পড়ে, ক্লডিয়া অত্যন্ত উৎসাহের সাথে এগিয়ে যায়। ছবির মূল ভাবার্থ ঠিক রেখে সে চেষ্টা করে নতুনত্বের ছোঁয়া দিতে। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সেই ক্লডিয়া পেয়ে যায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা। শুধু তাই নয়, তার মেধা, সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেক তারকাই তার বন্ধু হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তার অ্যাথেনা অ্যাকুইটেনের সাথে।
