ত্বরিত-চঞ্চলা ব্যালাজো কন্যা লুজিলি। সবাই তাকে সেইল করে ডাকে। আঠার বছরের কুমারী সেইল এ অনুষ্ঠানে তার বাবার সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে খোশ মেজাজে। পরনে তার রয়েছে সাদা রঙের ব্লাউস আর শর্টস। ঘোলাটে ফিকে ত্বক। মাথার চুলগুলো প্যাচিয়ে প্যাচিয়ে এমনভাবে গোলাকার করেছে, দূর থেকে দেখেই মনে হবে যেন মাথায় পরেছে কোনো মুকুট।
সুন্দরী সেইল, তার ওপর অর্ধবক্ষা। সামান্য দূরের কিছু যুবক হা করে তাকিয়ে রয়েছে তার দিকে। কেউ কেউ যৌবনের উন্মাদনায় সাড়া পেতে সিটি বাজিয়ে আহ্বানও জানাচ্ছে। সেদিকে খেয়াল নেই তার। হয়তো খেয়াল করেছে কিন্তু পাত্তা দেয়নি। প্রয়োজন মনে করেনি।
হঠাৎ করে সেইলর চোখ গেল বাগানের এক কোণায়। সেখানে ঝগড়া বাধিয়ে বসেছে ক্রস এবং ডেন্টি। দীর্ঘ সময় ধরেই চলছে তাদের চুড়ান্ত পর্যায়ের বাদানুবাদ, বিতর্ক হয়তো হাতাহাতিও। সেইলর মনে হলো ক্রস যেন আঘাত পেয়েছে; কুঞ্চিত হয়ে গেছে তার মুখমণ্ডল।
খরভর্তি একটি বাস্কেট ছিল সেইলর হাতে। সেটি নিয়েই তুরিত ছুটে গেল ক্রস ও ডেন্টির দিকে। তাদের অপ্রীতিকর অবস্থার মাঝখানে গিয়ে উপহাস করে বলল, তোমাদের মধ্যে কে ডিম শিকারে আগ্রহী? চমৎকার মোহিত হাসি সেইলর। হাসি মুখে তার হাতের বাস্কেটটি তুলে ধরল তাদের দিকে। অপ্রত্যাশিত এই সুন্দরীর আগমন দুজনকেই হতভম্ব করে ফেলল। দুজনেই তার দিকে তাকিয়ে রইল বিস্ময়ের দৃষ্টিতে।
সকালের সোনালি আলো সেইলর ত্বকেও যেন ছড়াচ্ছিল স্বর্ণ আভা। দুষ্টুমিতে ভরা চোখ দুটো নাচছিল। ব্লাউসের উপরাংশের দুধরঙা স্তনের আবৃত্ত যুগল তাদের ছন্দপতন ঘটাল। আমন্ত্রণ জানাল সেইলের কুমারিত্ব।
ঠিক এমনই এক মুহূর্তে একটি ছোট্ট শিশুর তীক্ষ্ণ চিৎকার ভেসে এলো। মোহভঙ্গ হলো সবার। তাকাল শিশুটির দিকে। লাল ও নীল রঙের ছোপ দেয়া বিশাল আকৃতির একটি ডিম পেয়েই শিশুটির এই চিৎকার। সেই বিশাল আকৃতির ডিমটি সে তার খরপূর্ণ বাস্কেটে পুরে রাখার জন্য ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠল। এই চেষ্টা করতে গিয়ে তার মাথার সুন্দর গোলাপি টুপিটি বারবার চোখ মুখ ঢেকে দিচ্ছিল। বিরক্ত হয়ে পড়েছিল সে। এই গলঘর্ম প্রচেষ্টার এক পর্যায়ে ডিমটি গেল ভেঙে। আর তা থেকে ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল একটি ছোট পাখি। আর সাথে সাথেই শিশুটির চিৎকারও যেন ধাওয়া করল পাখিটির পিছু পিছু।
কৌতুককর এ পরিস্থিতি অনেক সময় ধরেই লক্ষ্য করছিল পেটি। লন পেরিয়ে ছুটে এলো সে। কোলে তুলে নিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করল।
আসলে এই পাখি উড়ে যাওয়ার এমন পরিকল্পনা তারই। আর এ মুহূর্তে শিশুটিকে সান্ত্বনা দেয়ার হাস্যকর ধরন দেখে উপস্থিত সবাই হেসে উঠল।
সবাইকে হাসতে দেখে শিশুটি তার মাথা থেকে খসে যাওয়া হ্যাটটি এক হাতে চেপে ধরে চেঁচিয়ে উঠল। কাঁদো কাঁদো কণ্ঠে পেটির উদ্দেশ্যে বলতে লাগল, তুমিই আমার সাথে দুষ্টুমি করেছ। পেটি অসহায়ের মতো তাকাল শিশুটির দিকে। আরেক দফা হেসে উঠল সবাই। শিশুটি তার কোল থেকে নেমে দৌড়ে যাচ্ছিল। পেটিও পিছু নিল তার। অসম্ভব মন খারাপ হয়েছিল তার। কাছ থেকে ক্ষমা পাওয়ার জন্য পিছু পিছু ছুটতে লাগল পেটি। অবশেষে তাকে ধরে কোলে তুলে নিল। তাকে শান্ত করতে দিল একটি রত্ন খচিত ইস্টার এগ। শিশুটি তা পেয়ে খুব খুশি হলো, পেটির গালে দিল সস্নেহে একটি চুমু।
সবার দৃষ্টি যখন পেটি এবং ছোট শিশুটির দিকে নিবদ্ধ তখন সেইল শক্ত করে ধরল ক্রসের হাত। ম্যানশন থেকে শখানেক দূরের এক আড়ালে টেনিস কোর্টের দিকে নিয়ে গেল তাকে। তিন দিকে দেয়াল ওঠানো খেলোয়াড়দের বিশ্রামের জন্য তৈরি টেনিস কুটিরে গিয়ে বসল দুজন। ম্যানশনের হৈ হট্টগোল থেকে বেশ খানিকটা নির্জন। এখানে তাদের দুজনের একান্ত সান্নিধ্যে কেউ ব্যাঘাত ঘটাতে আসবে না।
কারো নজরে তেমন একটা না পড়লেও ডেন্টির শ্যেনদৃষ্টিকে এড়াতে পারল না তারা। ডেন্টির চেয়ে ক্রস অনেক বেশি আকর্ষণীয়। এ বিষয়ে ডেন্টির একটা হিংসাবোধও আছে ভেতরে ভেতরে। তবে এ মুহূর্তে সে তার। এই হ্যান্ডসাম কাজিনকে নিয়ে গর্বিত। তবে সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার, এতক্ষণে সে বুঝতে পারল তার হাতে রয়েছে সেইলের সেই বাস্কেটটি। মনে মনে হেসে উঠল ডেন্টি– সেইল কৌশলে তার বাস্কেটটি বসিয়ে দিয়েছে ডেন্টির হাতে, আর ক্রসের হাতে তুলে দিয়েছে তার নিজ হাত।
ম্যানশনের আড়ালে টেনিস কুটিরে দুজন খুব কাছাকাছি হলো। সেইল ক্রসের মুখে ছোঁয়াল সেইলের নরম দুটি হাত। ক্রসের ঠোঁট স্পর্শ করল সেইলের ঠোঁট। উত্তেজনা বৃদ্ধি পেতে লাগল ক্রমেই। ধীরে ধীরে সরে গেল। পার্থিব যত বিষয়। সম্পূর্ণ মনোসংযোগ ঘটল চুম্বনরত ঠোঁটের মাধ্যমে শিহরিত শিরায় শিরায়, উপশিরায়। চঞ্চল হয়ে উঠল ক্রসের হাত। নিখুঁতভাবে সেইলের সমস্ত শরীরের আস্বাদের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠল। শেষ অবধি সংযত করতে না পেরে সেইলের কুমারী স্তনে উঠে এলো ক্রসের একটি হাত। তৎক্ষণাৎ ঝটকা মেরে সরিয়ে দিল সেইল। দুষ্টু হাসিতে ক্রসের দুষ্টুমিকে পরাস্ত করল যেন।
বলল, আজকের এই চুম্বনের জন্য আমি প্রতীক্ষায় ছিলাম দীর্ঘ দিন, আমার দশ বছর বয়স থেকে। এত দিন পর পেলাম এই শুভ দিন।
