খুব কাছে চলে এলো ক্রস গ্রোনিভেল্টের । কয়েক বছরের মধ্যে ক্রস বুঝতে পারল পিপি এবং গ্রোনিভেল্টের মধ্যে কতটা আন্তরিক সম্পর্ক। উভয়েই উভয়ের খুব ভালো বন্ধু। প্রতি সপ্তাহ অন্তর তাদের অন্তত একবার দেখা হওয়া চাই-ই। দিনে অবসর না হলেও অন্তত ডিনারে। তাছাড়া পিপির কর্মকাণ্ড সম্পর্কেও সে অন্তত গ্ৰোনিভেল্টের পরামর্শ নেবেই, যদিও ব্যবসায়িক প্রতিটি পদক্ষেপ ক্লেরিকুজিও ছাড়া নেয়া হয় না। অপর দিকে গ্রোনিভেল্টও জানাদু হোটেলের সমস্ত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে পিপির সাথে শেয়ার করে দ্বিধাহীন চিত্তে। তবে ভিলাগুলোর ব্যাপারে অবশ্য গ্রোনিভেল্টের যত রাখ-ঢাক।
এদিকে ক্রস সতর্কতার সাথে উপলব্ধি করল, গ্রোনিভেল্ট তার প্রতি বেশ আগ্রহী। ক্রসের জন্য সে অতিরিক্ত একটা প্রশ্রয় যেন তুলে রাখে। বৃদ্ধ বয়সেও গ্রোনিভেল্টের নারী আসক্তি ছিল। ক্রস তা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারল। জানা হোটেলের স্বত্বাধিকারী গ্রোনিভেল্টের পেন্থ হাউস সুইটে যে প্রায়ই শো-গার্লদের আনাগোনা ছিল তা বুঝতে পেরেছিল ক্রস। প্রথম দিকে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরে বন্ধু ভেবেই, ক্রসের কাছে প্রকাশ করেছিল সব, পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল শো-গার্লদের সাথে। তবে এ বিষয়ে ক্রস সুদর্শন হওয়া সত্ত্বেও খুব একটা আগ্রহী ছিল না। বরং মেয়েরাই ছিল তার প্রতি দুর্বল।
গ্রোনিভেল্টের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক সৃষ্টির পর থেকে ক্রস প্রায়ই একান্তে আলোচনা করত ব্যবসায়িক দিক সম্পর্কে। এমনই এক আলোচনায় একদিন শিক্ষকের মতো নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছিলেন গ্রনিভেল্ট। জানা হোটেলের ক্যাসিনো এবং এর বিভিন্ন খুঁটিনাটি দিক সম্পর্কে দীক্ষা নিচ্ছিল ক্রস। আলোচনার এক পর্যায়ে ক্রস একটু দ্বিধা নিয়েই জানতে চাইল, জানা হোটেলের যেসব মেয়ে কাজ করছে তাদের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অর্থাৎ জানাদু হোটেলে তাদের কাজের সম্পর্ক কিংবা গ্রোনিভেল্টের সাথেই তাদের সম্পর্কটা আদতে কেমন?
হেসে ফেললেন গ্রোনিভেল্ট। ক্রসের কথার প্রতিউত্তরে বললেন, হোটেলের বিভিন্ন শো-তে এই মেয়েদের আমি বিনোদনের জন্য ছেড়ে দেই। আবার কিছু কিছু মেয়ের সাথে আমি আচরণ করি পুরুষের মতো। এখন তুমি যদি তোমার ভালোবাসাপূর্ণ জীবনের জন্য আমার কাছে উপদেশ চাও, তাহলে তোমাকে আমি বলতে বাধ্য হব যে, একজন বুদ্ধিমান, নির্ভরশীল মানুষ হিসেবে নারীদের ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।
একটু থামলেন গ্রোনিভেল্ট। তারপর আবার শুরু করলেন, তোমাকে অবশ্যই দুটি ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। নাম্বার ওয়ান এবং একই সাথে অত্যন্ত বিপজ্জনক হচ্ছে সেসব মেয়ে যাদের বয়স ও সঙ্গতি উভয়েরই অভাব বর্তমান। দ্বিতীয়ত, সেই সব মেয়ে যারা তোমার চেয়েও বেশি উচ্চাকাঙ্ক্ষী।
এসব বলছি, তাই বলে আবার ভেবে বসো না যে আমি একেবারে হৃদয়হীন। আমি ইচ্ছে করলে একটি মেয়েকে এমন অবস্থায় ফেলে দিতে পারি। তবে সেটা আমাদের কাজ নয়। আমি অবশ্যই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি, কারণ বিশ্বের যে কোনো পার্থিব বিষয়ের মধ্যে জানাদু হোটেল আমার সবচেয়ে ভালোবাসার জিনিস। তবে হ্যাঁ, আমার যে সন্তান নেই, তার জন্য আমার আক্ষেপ আছে। এ কথা আমি তোমার কাছে অস্বীকার করব না।
তাহলে তোমার মতে, এটাই পার্ফেক্ট লাইফ। ক্রস বলল। তুমি কি তাই ভাবছ? গ্রোনিভেল্টের রসিকতাপূর্ণ প্রশ্ন। বেশ, আমি তাহলে এর জন্য বিল চুকিয়ে যাব।
কুওগে ব্যাপক টানাহেঁচড়া শুরু হয়ে গেল ক্রসকে নিয়ে। ক্লেরিকুজিও ফ্যামিলির মেয়েদের মধ্যেই ক্রসকে নিয়ে এই উত্তেজনা।
ক্রসের বয়স তখন মোটে কুড়ি। হ্যান্ডসাম তো বটেই, সুদর্শন, টানটান শক্ত শরীর বয়স অনুপাতে এমন পুরুষ সঙ্গীর স্বপ্ন সব মেয়েরাই দেখে থাকে। ক্রসকে দেখে ক্লেরিকুজিও ফ্যামিলির সবাই কৌতুক করে বলেছিল, ঈশ্বরকে ধন্যবাদ যে সে দেখতে তার মায়ের মতো হয়েছে, বাবার মতো নয়…! এমন রসিকতা অবশ্য তাকে হেয় করার জন্য নয়, কিংবা তার বাবার উদ্দেশ্যেও নয়।
ইস্টার সানডের দিন, যখন সবাই সানডে উৎসবে মেতে ছিল, কাজিন ডেন্টির কাছ থেকে ক্রস জানতে পারল ফ্যামিলিতে তার বাবার প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে।
বিশাল প্রাচীর ঘেরা বাগান– যেন দিগন্ত জুড়ে। শেষ নেই যেন এ প্রাচীরের। বাগানের বেশিরভাগ অংশ জুড়ে ফ্যামিলির সদস্যদের অবাধ বিচরণ। ক্রস এবং ডেন্টি লক্ষ্য করছিল দূর থেকে। হঠাৎ ক্রসের চোখে পড়ল একটি চমৎকার মেয়ে। তাকে ঘিরে রয়েছে একদল যুবক।
অপরদিকে ক্রস লক্ষ্য করল, পিপি একটি বাফেট টেবিল থেকে বারকোশে করে মাংসের কাবাব নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে একদল যুবতীর দিকে। দেখা গেল, সুন্দরী মেয়েটি পিপিকে দেখে যেন সংকুচিত হয়ে পড়েছে। নারী মহলে বাবা যে প্রিয় তা ক্রস জানে। পিপির কুৎসিত দিকগুলোর সাথে সাথে তার চমৎকার রসবোধ, তেজস্বীতা এবং ব্যক্তিত্ব যে কোনো নারীকে খুব সহজেই কাবু করে ফেলে।
ক্রসের সাথে সাথে ডেন্টিরও চোখ পড়ল মেয়েটির দিকে, আর সাথে সাথেই বলে উঠল, চমৎকার মেয়ে। ক্রসের উদ্দেশ্যে বলল, চলো, তার সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।
কাছে গিয়ে মেয়েটির দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ডেন্টি ডাকল, লিলা, এসো পরিচয় করিয়ে দিই। এ হচ্ছে আমাদের কাজিন ক্রস।
