গ্রোনিভেল্টকে জয় করার পর পিপি ক্রসকে নিয়ে গেল নিউইয়র্কে ক্লেরিকুজিও পরিবারে। সে দিনটি ছিল ৪ এপ্রিল- ক্লেরিকুজিও পরিবারের সার্বিক হলিডে। অর্থাৎ এই দিনটিতে ফ্যামিলির সমস্ত বিয়ে এবং মৃত্যুবার্ষিকী একসাথেই পালন করা হয়। আর এই দিনে উপস্থিত হয় ক্লেরিকুজিও ফ্যামিলির সব সদস্য। ক্রসের শরীরের ক্লেরিকুজিও’র রক্ত। তারও অধিকার আছে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার।
ক্রমেই ক্রস তার বাবার সাথে থেকে শিখছিল নতুন নতুন সব বিষয়। প্রতি সপ্তাহে একবার পিপি জানাদু ক্যাসিনোয় তার আট হাজার ডলারের জন্য যায়। এবার ক্রসকেও নিয়ে গেল সাথে। ক্রস বসে বসে দেখছিল আর সব আয়ত্ত করে নিচ্ছিল। পিপি তাকে গ্যাম্বলিংয়ের সমস্ত কলা-কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছিল। ক্রসকে শিখিয়েছিল, যদি কখনো মন সায় না দেয়, যেন গ্যাম্বলিং টেবিলে না বসে ক্রস। দিনে যাতে দুঘণ্টা আর সপ্তাহে তিন দিনের বেশি যাতে কিছুতেই না খেলে। আর জিদ করে যেন কখনোই বড় দান না বসায়।
একজন বাবা হয়ে ছেলেকে পৃথিবীর এই ঘৃণ্যতম বিষয় শেখানোটা অনেকের দৃষ্টিতেই ঠিক পছন্দসই হলো না। তবে পিপির যুক্তি, কালেকশন এজেন্সির জুনিয়র পার্টনার হিসেবে ক্রসের জন্য এই শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি পিপি তার ছেলের জন্য নিজেই করতে চায়।
কতটুকু শিক্ষা পেল ক্রস? এবার তার যাচাইয়ের পালা। পিপি তাকে পাঠাল ক্যালিফোর্নিয়ায় মাফিয়া ব্ৰুগলিওনের কাছে। এখান থেকে কালেকশন করাটা খুব সহজ নয়। ক্রসকে শিখিয়ে দেয়া হয়েছিল, সে যাতে জোর করে সেখান থেকে আদায়ের চেষ্টা না করে। প্ররোচনার মাধ্যমেই যেন চেষ্টা করা
ক্যালিফোর্নিয়ার এই ব্ৰুগলিওনের ক্ষমতা পিপির মতো নয়। ছোটখাটো একটা প্রতিনিধি ক্লেরিকুজিও’র। মাত্র হাজার গ্রান্ড জানাদু হোটেলে প্রেরণ করে সে। ক্লেরিকুজিও’র নাম ফলাও করার মতোও সে নয়।
খুব খারাপ সময় ক্রস মাফিয়া ব্যারনকে পাকড়াও করল। ফ্যালকো নামের এই ব্যারন বা ক্ৰগলিওন প্রথমে ক্রসের কথা শুনল তারপর অকস্মাৎ তার অস্ত্রটি সোজা কেড়ে নিয়ে গেল ক্রসের কণ্ঠনালি বরাবর। বলল, আর একটি কথাও যদি তোমার মুখ থেকে বের হয় তবে গুলি করে তোমার ওই টনসিল এফোঁড়-ওফোঁড় করব।
এমন অবস্থাতেও ক্রস বিস্মিত হলো তার নিজের মতো করে। অত্যন্ত স্বাভাবিক ছিল তার অভিব্যক্তি। ভয়ের চিহ্নমাত্রও ছিল না তার চেহারায়। স্বাভাবিক কণ্ঠেই বলল, মাত্র পঞ্চাশ গ্রান্ডের জন্য এ অবস্থা? আমার বাবা এটা পছন্দ করবে না।
কে তোমার বাবা? ফ্যালকোর অস্ত্রটি আগের মতোই ক্রসের কণ্ঠ বরাবর ধরে জিজ্ঞেস করল।
পিপি ডি লিনা, প্রতিউত্তরে কৌতুক করে বলল ক্রস। এই ফিফটি গ্রান্ডের সমাধা না হলে বাবা আমাকে গুলি করবে।
ফ্যালকো হেসে ফেলল। তার অস্ত্রটি রেখে দিল যথাস্থানে। বলল, ঠিক আছে, তাকে বলো আমি নিজেই ভেগাসে গিয়ে পরিশোধ করে আসব।
আসার আগে আমাকে জানিও কিন্তু। আমি তোমাকে তোমার প্রচলিত আচরণ মোতাবেক অভ্যর্থনা জানাব। পুনরায় ক্রসের কৌতুকপূর্ণ উত্তর।
পিপিকে চিনতে পারল ফ্যালকো। তবে ক্রসের চেহারায় এমন কিছু একটা ছিল যা ফ্যালকোকে খুব সহজেই নিরস্ত্র করতে বাধ্য করল। ক্রসের মধ্যে ছিল না ভয়ের লেশমাত্র ভাব, অত্যন্ত শীতল তার প্রতিউত্তর এবং ছোটখাটো রসালো কথাবার্তা, ক্রসের এমন সপ্রতিভ আচরণ যেন বন্ধুত্বের আহ্বান। তবে এ ঘটনা থেকে ক্রস শিক্ষা পেল যে ভবিষ্যতে কোনো সংগ্রহে তার সাথে অবশ্যই থাকতে হবে একটি অস্ত্র এবং দেহরক্ষী।
ক্রসের এই সাহসিকতার কাহিনী শুনে খুশি হলো পিপি! এক ছুটির দিনে ক্রসকে উৎসাহ দিতে জানাদু হোটেলে করা হলো ছোট একটি আয়োজন। গ্রোনিভেল্ট বাপ-বেটা দুজনকেই অভিনন্দন জানালেন। উপহার দিল দুজনকেই চমৎকার দুটি সুট। ক্রসকে পৃথকভাবে দিলেন ব্ল্যাক টিপসের একটি পার্স।
গ্রোনিভেল্টের বয়স তখন আশি। মাথার চুলগুলো সব পেকে গেছে। তবে শরীরের সতেজতা হারায়নি তখনও। ক্রসের হাতে পার্সটি তুলে দিয়ে গ্রোনিভেল্ট বলেছিলেন, এভাবে যদি জয় না আসে তবে এটি আমি ফেরত নেব। এবার মন দিয়ে শোনো, তোমার সামনে মাত্র একটি সুযোগ। আমার হোটেলের কয়েকটি ক্ষেত্র আছে। এর মধ্যে একটি বড় গলফ কেস। জুয়াড়িরা সুদূর জাপান থেকে এখানে আসে গলফের ওপর দান ধরতে। আমাদের আছে ভোজন রসিকদের জন্য অত্যাধুনিক রেস্তোরাঁ আর আছে সুন্দরী শো-গার্ল, যারা চলচ্চিত্র এবং সঙ্গীত জগতের তারকা। আমাদের আছে সুন্দর টেনিস কোর্ট, সুইমিং পুল এবং হোটেলের নিজস্ব বিমান। এ বিমান তোমাকে সাত সমুদ্র ঘুরিয়ে আনবে– এ সবই ফ্রি। এর জন্য তোমার ওই পার্সের পাঁচ গ্র্যান্ডও খরচ করতে হবে না। শুধু জুয়াড়ি হবে না।
তিনদিনের ছুটিতে ক্রস সম্পূর্ণরূপে সময় দিল গগ্ৰানিভেল্টকে। কাটাল গ্রোনিভেল্টের উপদেশ অনুসরণ করে। এই তিন দিনের প্রতিটি সকাল ক্রস কখনো গ্রোনিভেল্ট, কখনো তার বাবা কিংবা জানাদু হোটেলের উঁচু দরের বোর্ডারদের সাথে গলফ খেলে কাটাল। গ্রোনিভেল্ট ক্রসের প্রত্যেকটি স্ট্রোক লক্ষ্য করে দেখল, সে যখন উঁচু করে নির্দিষ্ট গর্তের দিকে স্টেক করে তখনই তার লক্ষ্য হয় সুনিপুণ। এটা উপলব্ধি করার সাথে সাথে গ্রোনিভেল্ট বিস্ময় ও আনন্দের সাথে চেঁচিয়ে উঠল, ইস্পাতের মতো স্নায়বিক অবস্থা।
