ফিউবার্টা ছবিগুলো দেখে বলল, আমি অবশ্য এই ছবির চার ব্যক্তি সম্পর্কে জানি। কিন্তু এরা হচ্ছে প্রচণ্ড রকমের কঠিন লোক তারা কখনোই এমন কথা বলবে না।
পিপি এবার বলল, যে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন, তিনি স্বয়ং ক্লেরিকুজিও।
হায় কপাল! ড্যানির কণ্ঠে উৎকণ্ঠা। সরাসরি অস্বীকার করে সে বলল, আমি তখন জানতামই না যে সেই চার ব্যক্তি হোটেলে আছে।
এখন তো জানলে, সাড়াশির মতো চেপে ধরেছে যেন পিপি। বলল, তারা যদি তাদের টাকাগুলো ফেরত না দিত তবে তুমি আরো বিপদে পড়তে।
তোমার সামনে থেকে আমার উঠে যাওয়াটাই ভালো, অপ্রস্তুত হলো ফিউবার্টা।
উঁহু, পিপির শান্ত অথচ কঠিন স্বরে দমানোর চেষ্টা। পিপি বলল, লাভ করতে পারবে না। চারদিকে লাঠি, তাছাড়া পিকিংয়ের হাঁসগুলো কিন্তু বেশ! দেখো, আমি খুব বড় কোনো চুক্তির প্রস্তাব করছি না। সবারই জীবনে এরকম কিছু ভুল হয়ে থাকে, ঠিক? তোমারও হয়েছে। তুমি শুধু টাকাগুলো ফিরিয়ে দাও।
আ-আমার কাছে তার কোনো অবশিষ্টই নেই। আমতা, আমতা করে বলল ফিউবার্টা।
আকস্মিক উত্তেজিত হলো পিপি এতক্ষণ সময়ের কথোপকথনে এটাই তার প্রথম ক্ষুব্ধ আচরণ। পিপি বলল, তোমার অন্তত এতটুকু শ্রদ্ধা দেখানো উচিত ছিল। ঠিক আছে, তুমি এক লাখ দাও আপাতত, বাকি তিন লাখের জন্য আমরা তোমাকে সময় ও ব্যবস্থা দুটোই করে দেব।
অক্টোপাসের আকরে আটকা পড়েছে ফিউবার্টা– পালাতে পারবে না। চিন্তার রেখা কপালে স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হয়ে উঠছে। মুখ শুকিয়ে যেন ছোট গোল পিঠের মতো হয়ে গেছে। বেশ কিছুটা সময় নীরব থেকে আকস্মিক বলে উঠল, আমি পঞ্চাশ হাজার ফিরিয়ে দিতে পারি।
এই তো, দারুণ, চমৎকার। উল্লসিত হলো পিপি। তবে বাকি অংশের জন্য তুমি তোমার চলমান জাঙ্কেট থেকে প্রাপ্য অর্থ ছেড়ে দেবে। ঠিক আছে?
আমি রাজি। ফিউবার্টা প্রতিউত্তরে বলল।
আর চিন্তা করো না। এবার নাও, সামনের খাবারগুলো উপভোগ করো। একথা বলেই পিপি একটি প্যানকেকের মধ্যে হাঁসের মাংস এবং মিষ্টি সসের মিশ্রণ দিয়ে রোল তৈরি করল। ফিউবার্টার হাতে রোলটি দিয়ে বলল, বিষয়টি খুব ভয়ানক, ড্যানি। ঠিক আছে, আগে খাও তারপর হবে ব্যবসার আলাপ।
তৃপ্তির সাথে খেল পিপি চায়নিজ খাবার। খাওয়ার শেষে চকলেট আইসক্রিমের স্বাদও নিল দুজনে। তারপর পকেট থেকে ডলার বের করে চুকিয়ে দিল বিল। অফিসিয়াল ওয়ার্কিং আওয়ার শেষে ফিউবার্টার ট্রাভেল এজেন্সি থেকে পঞ্চাশ হাজার ডলার পাবার আশায় চায়নিজ ছেড়ে বেরিয়ে গেল তারা দুজনে। পিপি যথাবিহিত সম্মান দেখিয়ে এগিয়ে দিল ফিউবার্টাকে।
ড্যানি ফিউবার্টা তার আটচল্লিশ বছরের জীবনে সহজভাবে কখনোই কিছু করেনি। চরম অবস্থায় না পৌঁছানো অবধি সে সহজে ছাড় দেয়নি কোনো ক্ষেত্রে। পিপির সাথেও তেমনই আচরণ করল ফিউবার্টা। চায়নিজে পিপির কাছ থেকে বিদায় নিয়ে আসার পর সেই যে ডুব দিল আর দেখা মিলল না তার। তবে একটি ম্যাসেজ ঠিকই পাঠিয়েছে পিপিকে। পিপির কাছে পাঠানো বার্তায় সে লিখেছে– জানাদু হোটেলের কাছে সে যে ঋণী হয়ে পড়েছে, সেই ঋণ শোধে অর্থ সংগ্রহের জন্য তাকে এলাকা ছেড়ে যেতে হলো।
ফিউবার্টার এ আচরণে পিপি বিস্মিত হয়নি। এমন ক্ষেত্রে সে যে তার পুরনো অভ্যাসের অবতারণা করবে, তা আর নতুন কি? তবে পিপি বুঝতে পারল, ফিউবার্টার কাছে কোনো অর্থ নেই এবং ভিনসেন্ট ও পেটি তাদের নিজ দায়িত্বে ফিউবার্টার চার সঙ্গীর কাছ থেকে ডলার আদয় না করা পর্যন্ত কোনো বোনাস প্রাপ্তিও হবে না।
ফিউবার্টার খোঁজে পিপি ব্রঙ্কস এনক্লেভের কিছু লোক লাগিয়ে দিল। তাকে অপরাধী হিসেবে আখ্যা দিয়ে ঘোষণা করা হলো– ফিউবার্টা ক্লেরিকুজিও’র মোস্ট ওয়ান্টেড লোক। পিপির তৎপরতা তন্নতন্ন করে খুঁজতে লাগল এনক্লেভের লোকজন এ গলি, সে গলি, উপশহর, শহরতলি– সম্ভাব্য সব জায়গায়। কিন্তু লাভ হলো না তেমন।
এভাবেই কেটে গেল একটি সপ্তাহ। দিনের পর দিন, সপ্তাহ পেরিয়ে যেতে লাগল, আরো সেই সাথে বাড়তে লাগল পিপির ক্ষুব্ধতা।
সপ্তাহ পেরিয়ে এলো আরেক সপ্তাহ। কিন্তু কোনো ফল এলো না। তবে পিপি অত্যন্ত অসহিষ্ণু হয়ে উঠল। তার ধৈর্যের সমস্ত বাধ যেন ভাঙল। আগের চেয়ে আরো ভয়ানক হয়ে উঠল তার মানসিকতা।
এদিকে ড্যানি ফিউবার্টা আত্মগোপন করে ছিল আপার ওয়েস্ট সাইডের একটি ছোট হোটেলে। ব্যাপারটি আঁচ করতে পেরেছিল একজন ক্লেরিকুজিও প্রতিনিধি। ফিউবার্টার সম্ভাব্য খোঁজ পেয়ে সৈন্যটি জানাল পিপিকে। পিপি সেখানে এসে পৌঁছল তাৎক্ষণিক। কিন্তু ততক্ষণে ফিউবার্টা হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। ফিউবার্টার খোঁজে পিপি তখন মরিয়া। আকস্মিক শব্দে পিপি বিস্মিত হলো। ফিউবার্টার আসলে আগ্নেয়াস্ত্র চালনায় কোনো অভিজ্ঞতাই নেই। খুব দ্রুত কিছু একটা ঘটিয়ে ফেলতে চেয়েছিল ফিউবার্টা। তাই যখন সে পিপিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়তে লাগল–বুলেটগুলো লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ছড়িয়ে পড়ছিল। অবশ্য ততক্ষণে পিপিও ফিউবার্টাকে লক্ষ্য করে যে কয়টি গুলি ছুঁড়েছিল, তার পাঁচটিই বিদ্ধ করেছিল তাকে।
তবে ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনকভাবে পিপির বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল। কয়েকটি বিষয়ের কারণে পিপি বিপদে পড়ে যায়। বিষয়গুলো হলো– এক. ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তো ছিলই। দুই, ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়ার মুহূর্তেই টহল পুলিশের উপস্থিতি। তিন. পিপি এমন হত্যাকাণ্ডের প্রস্তুতি নিয়ে সেখানে পৌঁছেনি। সে চেয়েছিল, নিরাপদ কোনো স্থানে ফিউবার্টার সাথে আরো এক দফা আলোচনায় বসবে। চার বিষয়টি এড়িয়ে যেতে পারত পিপি। কিন্তু, প্রত্যক্ষদর্শীরা স্পষ্ট সাক্ষী দিয়েছিল প্রথমেই গুলি চালায় পিপি। আর এটাই এখন ঘটনার প্রধান অপরাধের সূত্র যে, প্রথম গুলিটি যাবে যার কাছ থেকে অইনত সেই সবচেয়ে ভয়ানক ও অপরাধী ব্যক্তি। পিপি অবশ্য তর অস্ত্রে সাইলেন্সর সংযুক্ত করেছিল। সে ভেবেছিল, নিরাপদ কোনো স্থানে আলোচনাকালে প্রয়োজনে ফিউবার্টাকে হত্যা করে সরে পড়বে।
