এভাবেই শেষদিন অর্থাৎ দ্বিতীয় দিন তারা ফিউবার্টার কাছে ক্যাশ করানোর জন্য তাদের পুরনো চিপসগুলো দিয়ে নতুন চিপস সংগ্রহ করল। এই হাস্যকর অবস্থার যখন সমাপ্তি ঘটল তখন দেখা গেল সিন্ডিকেট আট লাখ ডলারের ধনী– যারপরনাই খুশিও হয়েছিল তারা এই আয়ে।
ড্যানি ফিউবার্টা, এই অভিনব কৌশলের পরিকল্পনাকারী। দুদিন শেষে তার ঝোলায় ভরেছিল চার লাখ ডলার আর অবশিষ্ট অংশের অংশীদার সেই চার-ডাকাতও তাদের পাওনা বুঝে পেয়ে খুশি হয়েছিল। বিশেষ করে ফিউবার্টা প্রতিশ্রুতি মোতাবেক যখন তার ডাকাত দলের সদস্যদের ফ্রি খাদ্য, মদপান, সুন্দরী ললনা এসব শর্ত পূরণ করেছিল তখন তাদের বসের ওপর নির্ভরতা বেড়ে গিয়েছিল আরো বেশি।
কিন্তু ফিউবার্টার এই ডাকাতির সব কিছুই ধরা পড়েছিল গ্রোনিভেল্টের কাছে। দুদিনব্যাপী ডাকাতির পরের দিন গ্রোনিভেল্ট সব কিছুই জনসমক্ষে প্রকাশ করে ফেলেন। জনদু হোটেলের সার্ভিলেন্স ক্যামেরায় ধারণ করা হয়েছিল এসব— এই ক্যামেরায় বাদ যায়নি ফিউবার্টার ক্যাসিনো জাঙ্কেটর কর্মকাণ্ডও। সার্ভিলেন্স ক্যামেরাকে তিনি আখ্যা দিয়েছিলেন আকাশের চোখ। অবশ্য গ্রোনিভেল্ট এই সার্ভিলেন্স ক্যামেরাগুলো চালু করে দিয়েছিলেন মূল অপারেশনের দশ মিনিট আগে– ক্যাসিনোর ক্যাশে অস্বাভাবিক অর্থ হ্রাসের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে তিনি তৎপর হয়েছিলেন।
গত কয়েক বছরে জানাদু হোটেলে এমন অনেক ঘটনাই ঘটেছে। গ্রোনিভেল্ট বেশ অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছিলেন। বিশেষ করে ফিউবার্টার ডাকাতি চক্রান্তটি ছিল বিগত বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধরনের ঘটনা। দীর্ঘ দিন ধরে একের পর এক এমন অর্থচুরির ঘটনায় গ্রোনিভেল্ট উপায়ন্তর না দেখে অবশেষে সার্ভিলেন্স ক্যামেরার সাহায্য নিতে বাধ্য হন। গুরুতর অপরাধ ধরা পড়ার পরও তিনি ফিউবার্টার বিরুদ্ধে তেমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি, তাকে ভালোবাসতেন গ্রোনিভেল্ট। এর কারণ মানুষটি জানাদু হোটেলের আয়ের অন্যতম উৎস। তাছাড়া গ্রোনিভেল্টও যে মাঝে মাঝে নকল আইডি প্রদর্শন করেন, তা ফিউবার্টা বেশ ভালোই জানে। বিষয়টি তার কাছ থেকে ফাঁস হয়ে যাওয়ারও ভয় আছে। তবে ফিউবার্টার সেই ডাকাতি পরিকল্পনার সমস্ত তথ্য গ্রোনিভেল্ট প্রথমে পিপি ডি লিনাকে জানান। পিপি ফিউবার্টাকে চেনে কিন্তু সেই চার সদস্য সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না। গ্রোনিভেল্ট পৃথক পৃথক গোপন ক্যামেরা ও স্থির চিত্র ধারণ করে পিপির কাছে ছবি ও ভিডিও ফুটেজগুলো দেন।
গ্লোনিভেন্টের কাছে তথ্য ও প্রমাণগুলো পেয়ে পিপি মাথা নেড়ে বলল, ড্যানি কি করে ভাবল যে এমন এক অপরাধ করে সে পার পেয়ে যাবে? আমি তাকে জানাদু হোটেলের একজন স্মার্ট প্রতিনিধি ভেবেছিলাম।
সে একজন জুয়াড়ি গ্রোনিভেল্ট বললেন। তারা মনে করে তাদের কার্ডগুলো সব সময়ই জয়ের কার্ড। একটু থামলেন। তারপর বললেন, ড্যানি হয়তো তোমাকে ফুসলানোর চেষ্টা করবে। সে হয়তো বলবে সে এসবের কিছুই জানে না। তবে মনে রেখো, ফিউবার্টাকে প্রমাণ করতে হবে এ বিষয়ে। সে হয়তো বলবে, সে যে এই বিপুল পরিমাণে অর্থের হেরফের করেছে, তা তাদের আইডির ওপর ভিত্তি করেই। অবশ্য একজন জাঙ্কেট মাস্টারকে যে কোনো অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির সমস্ত তথ্য প্রমাণ করতে হয়।
পিপি গ্রোনিভেল্টের কথায় হাসল। গ্রোনিভেল্টের গায়ে হাত রেখে তাকে আশ্বস্ত করে বলল, চিন্তা করো না, সে আমাকে ফুসলাতে পারবে না।– এ কথায় পিপি ও গ্রোনিভেল্ট উভয়ে হেসে উঠল। ড্যানি ফিউবার্টা যদি অপরাধী হয়েও থাকে, তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়। তাকে দায়ী করা হচ্ছে তার ভুলের জন্য।
কুওগে ক্লেরিকুজিও পরিবারের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য পিপি পরদিনই নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হলো।
.
প্রহরী-সুরক্ষিত প্রধান ফটক পেরিয়ে ইট বিছানো রাস্তার ওপর দিয়ে নিজেই। গাড়ি ড্রাইভ করে এগিয়ে যাচ্ছিল পিপি। রাস্তার দুধারে হেঁটে দেয়া ঘাসের মসৃণ সবুজ খোলা মাঠ। চারপাশের দেয়ালগুলোয় কাঁটাতারের বেড়া, তাতে রয়েছে বৈদ্যুতিক সংযোগ এবং স্বয়ংক্রিয় কিছু আগ্নেয়াস্ত্র।
ম্যানসন পর্যন্ত পৌঁছেই পিপি দেখতে পেল একেবারে ফটক বরাবর দাঁড়িয়ে আছে একজন গার্ড, এর অর্থ এখন এখানে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে।
ম্যানশনের কাছে পৌঁছতেই বেরিয়ে এলো জর্জিও। পিপিকে অভিনন্দন জানাল সে। তারপর পিপিকে নিয়ে হেঁটে এলো পাশের একটি বাগানে। বাগান ভরা টমেটো ও শসার গাছ, সুন্দরভাবে বিন্যস্ত লেটুস ও তরমুজের পৃথক পৃথক ক্ষেত। তবে এত বড় এই বাগানে নেই কোনো ফুলের গাছ। ফুলের জন্য এখানে কোনো জায়গাই রাখেননি ক্লেরিকুজিও।
বাগানেরই এক পাশে মনোরম পরিবেশে পেতে রাখা কাঠের টেবিল। টেবিল ঘিরে বসে রয়েছে ক্লেরিকুজিও ফ্যামিলির সদস্যরা। দিনের প্রথমার্ধের লাঞ্চের সময়। ভন স্বয়ং উপস্থিত রয়েছেন নির্ধারিত আসনে। সত্তর বছরের বার্ধক্য তাকে ছোয়নি– উজ্জ্বল, সতেজ এবং সকালের রক্তিম আভা ঘিরে ছিল। তার পূর্ণ অবয়বে। দূর থেকে ভেসে আসছিল ডুমুর জাতীয় ফল দিয়ে তৈরি পানীয়ের মিষ্টি সুবাস।
ডন তার দশ বছরের নাতি ডেন্টিকে কিছু একটা খাওয়াচ্ছিলেন স্নেহের সাথে। ক্রসের সমবয়সি ডেন্টি। বয়স অনুপাতে সুস্বাস্থ্যেরও অধিকারী, তবে সবেমাত্র বালক হিসেবে দাম্ভিকতাই যেন তার প্রধান ভূষণ। ডন নিজ হাতে তাকে খাইয়ে দিচ্ছিলেন, আর আলোড়িত ডেন্টি বিভিন্ন মুখভঙ্গিমা আর আহাদি বিলাপ বকে যাচ্ছিল। দাদু-নাতির এ তামাশা দেখে বিব্রত বোধ করছিল ভিনসেন্ট এবং পেটি।
