.
সান্তাডিও ফ্যামিলির ড্যানি ফিউবার্টা। নিজের উপার্জনের ওপর লোন নিয়ে নিউইয়র্ক ট্রাভেল এজেন্সি নামে একটি পরিবহন সংস্থা চালাচ্ছে সে আপন মালিকানায়। লুপ্তপ্রায় সান্তাডিও ফ্যামিলির এই সদস্যটির আয়ের বেশিরভাগ অর্থই আসে ভেগাসে অভ্যাগত অতিথিদের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করে। অফিসিয়াল পদবিতে যাকে বলা হয় জাঙ্কেট মাস্টার। ড্যানি ফিউবার্টার পদবি এটি।
বিভিন্ন শহরের গ্যাম্বলারদের জন্য ভেগাসে অবকাশ যাপনের সুবন্দবস্ত করে থাকে একজন জাঙ্কেট মাস্টার। ফিউবার্টার কাজটিও তেমনই–গ্যাম্বলারদের ধরে রাখতে সে তার পরিবহন সংস্থার ব্যবহার তো করেই, ভেগাসের হোটেলগুলোর সাথেও তার রয়েছে চুক্তি। ফিউবার্টার রয়েছে নিজস্ব একটি ৭৪৭ জেট। প্রতি মাসে এতে সে বহন করে দুই শতাধিক যাত্রী, যারা কেবল ভেগাসের জানাদু হোটেলে আসে শৌখিন গ্যাম্বলার হয়ে।
ফিউবার্টার দেয়া এই বিশেষ প্যাকেজ সুবিধায় গ্রাহককে দিতে হয় কেবল হোটেল রেন্ট। একটি ফ্ল্যাটের ভাড়া মোটে এক হাজার ডলার। আর এর বিনিময়ে ফিউবার্টার গ্রাহকরা পায় নিউইয়র্ক থেকে ভেগাসে বিমানের ফ্রি রাউন্ড ট্রিপ, যাতায়াতকালে বিমানের ফ্রি খাওয়া-দাওয়া, হোটেলে ফ্রি কক্ষ এবং খাদ্য ও পানীয়। ফিউবার্টা সবসময় তার গ্রাহকদের খুশি করতে সচেষ্ট গ্যাম্বলিংয়ে উচ্চতর পর্যায়ে খেলার সুবিধাসহ প্রতিদিন ক্যাসিনোয় গ্রাহকরা পায় নিশ্চিতভাবে চার ঘণ্টা করে সময়। ফিউবার্টার গ্রাহকরা হোটেল জানাদুর ক্যাশে ক্রেডিট কার্ডের সুবিধাও পেয়ে থাকে।
ফিউবার্টার সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সমাজের ভয়ানক অপরাধীদের সথে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। এদের মধ্যে রয়েছে ব্যাংক ডাকাত, মাদক ব্যবসায়ী, সিগারেট চোরাচালানিসহ নিউইয়র্কের নিকৃষ্ট পেশাজীবীর লোক। আর এই লোকগুলোই ফিউবার্টার সবচেয়ে ভালো গ্রাহক। আসলে এই পেশাজীবীর লোকজন তাদের কর্মকাণ্ডের জন্যই সবসময় মারাত্মক মানসিক চাপের মধ্যে দিন অতিবাহিত করে। এই একঘেয়ে জীবন থেকে কিছুটা সময়ের জন্য মানসিক পরিতৃপ্তি পেতে তারা জানাদু হোটেলে তাদের অবকাশ যাপনের জন্য ছুটে আসে। কালো পথে উপার্জিত তাদের প্রচুর কালো টাকা জুয়ায় উড়িয়ে দেয়, কিংবা আয়ও করে এ থেকে— গ্যাম্বল যেন তাদের মানসিক তৃপ্তির এক অসাধারণ উপায়।
জানাদু হোটেলে প্রতিদিন দুশ যাত্রী সরবরাহ করতে পারলে ড্যানি ফিউবার্টা তার কমিশন হিসেবে পায় কুড়ি হাজার ডলার। অনেক সময় জানাদু হোটেলের তরফ থেকে কিছু বোনাস অর্থও পেয়ে থাকে সে। যদি ফিউবার্টার কাস্টমাররা গ্যাম্বলিংয়ে প্রচুর পরিমাণ অর্থ হেরে যায় তাহলে এই অর্থের একটা ভাগও সে পায় বোনাস হিসেবে। অর্থাৎ প্রতিদিন ফিউবার্টা তার প্যাকেজ থেকে পায় বিশাল পরিমাণের একটা অংক। তবে দুর্ভাগ্যবশত ফিউবার্টাও গ্যাম্বলিংয়ে মারাত্মক রকমের আসক্ত। আর এর ফলে তার আয়ের অধিকাংশই তাকে খোয়াতে হয় জুয়ায় অনেক সময় তার আয়ের অতিরিক্তও চলে যায়
তবে, যার রয়েছে এমন আয়ের সুবিধা, গ্যাম্বলিংয়ে ব্যাপক হারের পরও এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে তার বেগ পেতে হয় না। নতুন ভাবে পুনরায় সচ্ছলতার পথ ফিউবার্টা সফলতার সাথেই বের করে নেয় আবারও সচ্ছল হয়ে ওঠে। তবে ক্যাসিনোর জাঙ্কেট মাস্টারের দায়িত্ব পালনকালে ফিউবার্টা আগেই তার ক্যাসিনো কাস্টমারদের ক্রেডিট কার্ড কিংবা ব্যাংক একাউন্ট পরীক্ষা করে নেয়।
ফিউবার্টার রয়েছে একেবারেই উপযুক্ত একটি সশস্ত্র পাণ্ডা দল। তাদের সাথে সে একবার জানা হোটেলের আট লাখ ডলার চুরির পরিকল্পনা করে। এ প্রেক্ষিতে সে তার চার জন লোককে গার্মেন্টের মালিক সাজিয়ে অত্যন্ত উচ্চ রেটিংয়ের নকল ক্রেডিট কার্ড দিয়ে হোটেলে পাঠায়। আর এদের বিস্তারিত জীবন বৃত্তান্ত ফিউবার্টা তার এজেন্সি থেকে সরবরাহ করে, যাতে অন্তত জানাদু হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে তা গ্রহণযোগ্য বলে মনে হয়। ফিউবার্টা তার এজেন্সির রিপোর্টে জানায়– এই চার ব্যক্তির প্রত্যেকের ক্রেডিট কার্ডের লিমিট দুই লাখ ডলার করে। যার ফলে তারা ক্যাসিনোতে অংশগ্রহণে সক্ষম।
ক্যাসিনোতে এই চারজনের উচ্ছ্বাস-উদ্যম যেন মাতিয়ে রাখে। তাদের এই উৎসবপূর্ণ অবস্থা দেখে গ্রোনিভেল্ট বলেছিলেন– ওহ, এ যেন এক পিকনিকের আমেজ।
ফিউবার্টার এই অর্থ চুরির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে তার লোকজনকে হোটেলে থাকতে হয়েছিল দুদিন। এই দুদিনে ফিউবার্টা ও তার দলের রুম সার্ভিস বিল হয়েছিল প্রচুর। তারা ডিনারে আমন্ত্রণ জানাত সুন্দর সুন্দর মেয়ের দলকে।
গিফট শপগুলোতে নামের সই-স্বাক্ষর করেই সেই রূপসীদের পাঠিয়ে দেয়া হতো। ক্যাসিনো থেকে তারা নিত সব সময় ব্ল্যাক টিপস।
দুটো ভাগে ভাগ করেছিল ফিউবার্টা তার দলকে। ক্যাসিনোয় একটি দল খেলত ডাইসের বিরুদ্ধে, আর অপর দলটি পক্ষে। এ উপায়ে তারা হেরেও যেত। আর তাই হারতে হারতে এক সময় তারা দশ লাখ ডলারের দান বসাত। এটা করার কারণ ছিল, ফিউবার্টা এই দান দেখে এক পর্যায়ে ক্যাশ যাচাইয়ের জন্য যেতে উদ্যত হবে। আসলে এ সবই ছিল অভিনয়। ফিউবার্টার লোকজনের ভাব দেখে মনে হতো তারা যেন মারাত্মকভাবে ডুবে গেছে জুয়ায়। অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তারা এ অভিনয় চালিয়ে যেত- ডাইসের কাছে গিয়ে তারা যেন প্রার্থনা করতে শুরু করত। দান হেরে গেলে মারাত্মক মুষড়ে যেত এবং জিতলে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠত।
