পিপি ডি লিনা ব্রঙ্কস এনক্লেভের মেয়র থেকে লাস ভেগাসে ক্লেরিকুজিও ফ্যামিলির ব্রুগলিওন হিসেবে নিযুক্ত হয়েছে। কিন্তু তারপরও সে ক্লোরিকুজিওর সরাসরি নির্দেশের অনুগত। তাকে এখনো ডনের বিশেষ মেধার ওপর নির্ভর করে থাকতে হয়।
তবে পিপি ব্রুগলিওন হিসেবে অত্যন্ত যোগ্য। তার ক্ষমতা গ্রহণের পর্বটিও শুরু হয়েছে সময়ের চেয়ে একটু আগেই- অর্থাৎ মাত্র সতেরো বছরে। যখন তার শরীরের গঠনও তেমন শক্ত হয়নি তখন থেকেই পিপি ক্লেরিকুজিও’র ক্ষমতার ছোটখাটো ছটা পেতে শুরু করে।
পিপি শারীরিকভাবে বেশ শক্ত-সামর্থ্য, তার উচ্চতা ও গঠন যে কোনো লোকের সমীহ আদায় করার মতো। সেই সাথে অবশ্যই তার এক্সপ্লোসিভ ও আগ্নেয়াস্ত্র চালনায় রয়েছে নিখুঁত দক্ষতা। জীবনকে উপভোগ করার মতো প্রাণশক্তি ও উচ্ছলতা পিপির যেন সহজাত। মানুষ মুগ্ধ হয় তার এই প্রাণময়তায়, তার সাহসিকতায় অভিভূত হয় নারী। এদের মধ্যে সেই সিসিলীয় বংশোদ্ভূত মানুষই হোক কিংবা আমেরিকার মুভি তারকা। কাজের প্রতি পিপি অত্যন্ত একনিষ্ঠ, কিন্তু তা সত্ত্বেও সে বিশ্বাস করে জীবনটা আনন্দের, উপভোগের।
পিপির দুর্বল দিকগুলোর মধ্যে অতিরিক্ত মদপান আর নিয়মিত গ্যাম্বলিং— নারীর প্রতি রয়েছে তার অতিমাত্রায় দুর্বলতা। এসব কারণে ডন যে তাকে সর্বদা প্রশ্রয় দিয়ে থাকেন তা নয়– তবে পিপির এই উচ্ছল জীবনে খুব একটা অন্যায় হয়ে দাঁড়াল না ডন। পিপির এসব দুর্বল দিক তাকে কখনো সমস্যায় ফেলেনি বরং তাকে করেছে আরো শক্তিশালী, আরো বলবান।
তার প্রাণময়তা, উপভোগের জীবন তাকে ক্যরিয়ার গঠনে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে, কারণ সে ডনের ভগ্নীপুত্র। সে হচ্ছে রক্তের এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পিপি ফ্যামিলির ঐতিহ্য ভঙ্গ করে দিয়েছে নতুন দিকের সূচনা।
প্রত্যেক মানুষের জীবনেই থাকে কিছু কিছু ভুল। পিপির জীবনও বাদ যায়নি। তার যখন কুড়ি বছর বয়স সে প্রেমে পড়েছিল বিয়েও করেছিল সেই প্রেমিকাকে। তবে সে মেয়ে ছিল পিপি ডি লিনার মতো একজন যোগ্য ছেলের সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত।
ন্যালিনি জেসাপ ছিল লাস ভেগাসে জানা হোটেলের একজন সামান্য ড্যান্সার। পিপি ন্যালিনি সম্পর্কে প্রায়ই গর্ব করে বলে, সে কোনো শো-গার্লের মতো তার শরীর প্রদর্শন করে না। ভেগাস স্ট্যান্ডার্ডে ন্যালিনি বেশ বুদ্ধিমতী নারী। বইপড়ুয়া মেয়ে, রাজনীতিতে তার রয়েছে আগ্রহ। সবচেয়ে বড় কথা হলো, ন্যালিনি ক্যালিফোর্নিয়া পুরনো দিনের স্যাকরামেন্টো ওয়াসপ সংস্কৃতির একটি মেয়ে তার গোড়াপত্তনও সেখানেই।
পিপি ও ন্যালিনির মধ্যে পার্থক্য ছিল বিস্তর– দুজন যেন দুই মেরুর। পিপির পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ ছিল না তেমন। কদাচিৎ সে বইয়ে চোখ বুলাত। গান-বাজনা, নাটক-থিয়েটারের প্রতিও তার খুব এটা আগ্রহ নেই। পিপি যেন একটা ঝাড়ের মতো, অপরদিকে ন্যালিনি একটি ফুল। পিপি উচ্ছল, প্রাণবন্ত, কখনো ভয়ঙ্করও, বিপরীতে ন্যালিনি স্বভাবগত নম্র, ভদ্র। ন্যালিনির সাথে কখনোই তার সহকর্মী শোগার্ল কিংবা ড্যান্সারদের বিবাদ হয়নি। বরং সহকর্মীদের সাথে তার রয়েছে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অবসর সময়ে তারাই ন্যালিনির ভালো সঙ্গী।
একটি বিষয়ে ন্যালিনির সাথে পিপির মিল রয়েছে বেশ। সেটি হলো ড্যান্স। পিপি ডি লিনার ক্ষেত্রে ড্যান্সেও রয়েছে ডন ক্লেরিকুজিও’র নেতিবাচক মনোভাব। তবে পিপি যখন বলরুমে ড্যান্সের উদ্দেশ্যে নেমে পড়ে, তখন ভুলে যায় সব। এই একটি মাত্র ক্ষেত্রে পিপি নিজেকেও ঠিক বুঝতে পারে না। ড্যান্স যেন তাকে টানে এক অদৃশ্য ভালোলাগায়। অথচ কবিতা, গান, সাহসিকতা, স্নেহশীলতা, যৌনাচারে সূক্ষ্ম বিশুদ্ধতা– এমন যে কোনো বিষয়েই পিপি নিজেকে অনায়াসেই সংযত রাখতে পারে।
ন্যালিনি জেসাপের ক্ষেত্রে এই ড্যান্স তার অন্তরতম আত্মায় আলোর ঝলক ফেলে। অভাবনীয় সুখ পায় ন্যালিনি যখন পিপির সাথে ঘনিষ্ঠ হয়ে ঘণ্টাব্যাপী নাচতে থাকে। এই ঘনিষ্ঠতা তাদের মধ্যে তৈরি করে ভালোবাসার আবেগ উভয়ের যৌন সম্পর্কে তৈরি হয় স্বর্গীয় সেতুবন্ধন দুজনের মাঝে সহানুভূতির আত্মিক সম্পর্কের যোগাযোগ শুরু হয়। এই স্বর্গীয় সুখের সময়টুকুতে তারা চোখে চোখে, কথার মাধুরীতে মেতে ওঠে। এই সময়টি আসে কখনো ন্যালিনির অ্যাপার্টমেন্টে অথবা ভেগাসে হোটেলের কোনো ড্যান্স ফ্লোরে।
খুব গুছিয়ে গল্প করতে পারে পিপি এবং তার ভাণ্ডারও বেশ সমৃদ্ধ। ন্যালিনির প্রতি তার আবেগ ব্যক্ত করতে, ন্যালিনির ভক্তি কুড়াতে পিপি মাঝে মাঝেই হয়ে ওঠে একজন তোষামোদকারী হয়ে ওঠে একজন রসিক প্রেমিক। ন্যালিনি যখন কিছু বলে পিপি মুগ্ধ হয়ে শোনে। ন্যালিনির কোলে মাথা রেখে পিপির চোখ দুটো নিবদ্ধ হয় তার চোখে আগ্রহ নিয়ে শুনতে থাকে। যখন ন্যালিনি তাকে বইয়ের কোনো কথা শোনায়, থিয়েটারের গল্প বলে, রাজনীতির কথা বলে, বলে গণতন্ত্রের উত্থানের কথা, কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আদায়ের কথা, দক্ষিণ আফ্রিকার চলমান যুদ্ধের কথা, এমনকি তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোর অভাবপীড়িত, দুর্গত মানুষের কথা পিপি তখন মনে মনে গর্ববোধ করে স্ত্রীর অসীম জ্ঞান ও বুদ্ধির জন্য। পিপি ন্যালিনির কথায় রোমাঞ্চ বোধ করে, যা এতদিন অবধি পিপির জন্য ছিল কেবল বাইরের বিষয়।
