অ্যাথেনা বলল, হ্যাঁ আমাকে আগামী মঙ্গলবার সকালে শুটিং করতে হবে।
ক্রস বলল, সত্যিই তাই?
অ্যাথেনা বলল, তারপর আমি বিশ্রাম নেব এবং আমার কন্যার যত্ন নেব। তাছাড়া আমি তার গোপন বিষয়টি বেশিদিন ধরে রাখতে চাই না। ক্রস জিজ্ঞেসা করল, প্যারিসের ডাক্তারের কি এটাই শেষ কথা? অ্যাথেনা বলল, কারোরই শেষ কথা নয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা একটি বিশেষ প্লেনে প্যারিসে গেল। অ্যাথেনা ভুল ভাবে নিজের কঠোর ভর্ৎসনা করল, তার মেকআপ তার সৌন্দর্যকে প্রকাশ করল। তাকে সেই মুহূর্তে বাড়ির কাজের মেয়ের মতো দেখাচ্ছিল। সে ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করেছিল, যাতে তার ফিগার সম্পূর্ণভাবে ঢেকে গেল, তাকে গৃহিণীর মতো দেখাল। ক্রস ধারণা করেছিল। তাছাড়া সেই মুহূর্তে সে এলোমেলোভাবে হাঁটছিল। প্লেনে ব্যাথেনি বাইরের প্রকৃতি দেখে মুগ্ধ হলো। সে বাইরের প্রকৃতি দেখার জন্য বিভিন্ন জানালায় একের পর এক উঁকি মারছিল। সেই সময় অনুভূতি ছিল খুবই স্বাভাবিক।
তারা প্লেন থেকে নেমে মেনডেল এভিনিউয়ের ছোট হোটেল জিওরজেলে গেল। তারা দুটো কক্ষ ভাড়া নিল, একটি ক্রসের জন্য এবং আরেকটি অ্যাথেনা ও ব্যাথেনির জন্য। অ্যাথেনা নতুন করে মেকআপ নিল। পোশাক পরিবর্তন করল। তখন তাকে মোটেই কাজের মেয়ের মতো মনে হলো না।
বিকেলে তারা তিনজনই ডাক্তারের কাছে গেল। প্রবেশ পথে একজন দারোয়ান তাদের তল্লাশি করার পর তাদের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দিল।
তারা দরজার কাছে একজন দলপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করল, সে তাদের একটি অপেক্ষমাণ কক্ষে নিয়ে গেল, যা ছিল কোলাহলপূর্ণ একটি কক্ষ।
সেখানে আরো অনেকেই ডাক্তারের জন্য অপেক্ষা করছিল।
ডাক্তার ওয়েল গিয়াড অন্য রকম প্রকৃতির মানুষ। তার পরনে সাদা শার্ট এবং তার গলায় ছিল একটি কালো ধূসর টাই, তার চেহারা গোল আকৃতির। তার ঠোঁট ছিল হালকা লাল বর্ণের। সে নিজ থেকেই ক্রস ও অ্যাথেনার সঙ্গে পরিচিত হলো কিন্তু সে ব্যাথেনিকে ঘৃণার চোখে দেখল।
ক্রস এবং অ্যাথেনা উভয়েই খুব কম সময়ের মধ্যে ডাক্তার সম্পর্কে বিরূপ মনোভাব পোষণ করল কারণ তাকে একজন পেশাদার ডাক্তারের মতো মনে হলো না তাদের।
সেখানে একটি টি-টেবিল ছিল। একজন দলপতি তাদের কাছে উপস্থিত হলো। তারা দুজন সেবিকার সঙ্গে মিলিত হলো। তারা নিজ পেশায় খুবই দক্ষ। তাদের মাথায় ছিল সাদা টুপি এবং পরনে আইভরি রঙের ব্লাউজ এবং স্কাট। সেবিকা দুজন দেখল ব্যাথেনি সব সময় খেতে মনোযোগী।
ডাক্তার গ্রিয়ার্ড অ্যাথেনাকে অভিনন্দন জানাল। ম্যাডাম একজন প্রতিবন্ধী বাচ্চার প্রতি আপনার দয়া দেখানোর জন্য মেডিকেল ইন্সটিটিউটের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমি আপনার অনুরোধ আস্থার সাথে পর্যবেক্ষণ করেছি এবং যার কারণে আমি তার সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনা করছি। এখন আমাকে বলুন, আপনি আমার কাছ থেকে কি আশা করছেন? তার কণ্ঠ ছিল মিষ্টি, তা ছিল রীতিমতো চুম্বকের মতো। যা ব্যাথেনির মনোযোগ আকর্ষণ করল এবং সে তার দিকে তাকাল, কিন্তু ডাক্তার অবজ্ঞা করল।
অ্যাথেনা কিছুটা হতাশ হলো, সে কোনোভাবেই ডাক্তারকে মেনে নিল না।
আমি তার এক প্রকার স্বাভাবিক জীবনযাপন চাই, যদি তা সম্ভব হয় এবং আমি এটা অর্জনের জন্য সবকিছুই দেব। আমি নিজ ইচ্ছায় ফ্রান্সে বাস করছি। এবং তাকে বিদ্যালয়ে প্রাপ্ত শিক্ষা অর্জন করাচ্ছি।
সে বেশ বড় আশা নিয়ে এ কথা বলল। এটা করতে পারা তার জন্য একটা ভাগ্যের ব্যাপার। সে তা মনে করে। দুজন সেবিকা খুব মনোযোগ দিয়ে তার কথা শুনছিল। ক্রস বুঝল যে সবকিছুই করছে ডাক্তারকে আয়ত্তে আনার জন্য, যাতে করে এই ইন্সটিটিউটে ব্যাথেনি ভর্তি হতে পারে।
শুধু ডাক্তার গ্রিয়ার্ডকে অমনোযোগী মনে হলো তার। সে মোটেই বেথানির দিকে তাকাল না। সে নিজেই তার কথা অ্যাথেনার নিকট প্রকাশ করল। সে বলল, আপনি নিজের সাথে প্রতারণা করবেন না। আপনার সব ভালোবাসাও তাকে সাহায্য করতে পারবে না। আমি তার সব কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছি সে প্রকৃতপক্ষে প্রতিবন্ধী না, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সে আপনার ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে পারবে না। সে আমাদের পৃথিবীতে বাঁচবে না। তাকে অন্য নক্ষত্রে বাস করতে হবে এবং সম্পূর্ণ একাকী, সে বলেই বসল আপনার আদৌ কোনো দোষ নেই এবং এও বিশ্বাস করি না তার পিতার কোনো দোষ আছে। এটা হলো মানবজাতির একপ্রকার রহস্যময় জটিল অবস্থান।
এখানে আমি কি করতে পারি। তারপরও আমি তাকে সম্পূর্ণভাবে আবার পরীক্ষা-নিরীক্ষা করব। তারপর আমি বলব আমার প্রতিষ্ঠান কি করতে পারবে। যদি আমি সাহায্য করতে না পারি, আপনি তাকে অবশ্যই বাড়ি নিয়ে যাবেন। আর যদি আমরা পারি, তাহলে আপনি তাকে ফ্রান্সে আমার কাছে চার বছরের জন্য রেখে যাবেন।
সে ফ্রান্স ভাষায় একজন সেবিকাকে কি যেন বলল এবং সেবিকাটি বেরিয়ে গেলেন এবং কিছুক্ষণ পর সে অনেক ছবিওয়ালা একটি বই নিয়ে ফিরে এলো। সে বইটি ব্যাথেনিকে দিল। কিন্তু এটা এতই বড় ছিল যে তার জন্য উপযুক্ত হলো না। এই প্রথম ডাক্তার গ্রিয়ার্ড ব্যাথেনিকের সঙ্গে ফ্রান্স ভাষায় কথা বলল। সে তাড়াতাড়ি পাঠ্যবইটি টেবিলের ওপর রাখল এবং পাতাগুলো ছিঁড়তে আরম্ভ করল। শিগগিরই সে বইয়ের সব ছবিসহ পাতাগুলো আলাদা করে ফেলল।
