শোবার ঘরে ফোন বাজছিল, অ্যাথেনা এটা উত্তর দেবার জন্য ক্রসের সামনে এলো। সে রিসিভার তুলে আস্তে আস্তে বলল, এটা তোমার জন্য। জর্জিও নামের এক লোক। সে আগে কখনো তার বাড়িতে ফোন কল রিসিভ করেনি।
অ্যাথেনা ফোনে বলল, সে এখানে নেই… হ্যাঁ, তারপর সে ফোন রেখে বলল, জর্জিও কে?
একজন আত্মীয়।
ক্রস বলল, যা দ্বারা যে কাজ করে, যা দ্বারা সে চৈতন্য হারিয়ে ফেলে।
কেন?
কারণ সে অ্যাথেনাকে ছাড়া একটা রাতও থাকতে পারে না। আর তা একটা কষ্টদায়ক অপরাধ।
পরে সে বিস্মিত হলো। জর্জিও কিভাবে জানল সে এখানে থাকতে পারে এবং জর্জিও কি চেয়েছিল। এটা অবশ্যই কিছুটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, সে ভাবল। কিন্তু এটার জন্য সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে, যে কোনো বিষয়ের চেয়ে বেপরোয়া অ্যাথেনার সাথে ভালোবাসার মুহূর্ত তৈরি করা।
এটা সেই সময়, যে সময়ের জন্য দিন, সমস্ত সপ্তাহ ধরে তারা অপেক্ষা করছে। ঝরনার সামনে তারা একত্রে তাদের কাপড় খুলে ফেলল। কিন্তু ক্রস অ্যাথেনাকে জড়িয়ে না ধরে পারল না। বনভোজন থেকে এ পর্যন্ত তাদের শরীর ঘর্মাক্ত। পরে অ্যাথেনা ক্রসের হাত ধরে ঝরে পড়া পানির নিচে নিয়ে গেল।
তারা দুজনেই বড় কমলা রঙের তোয়ালে দিয়ে নিজেদের আবৃত করল। বেলকনিতে দাঁড়িয়ে দিগন্তের পেছন দিয়ে সূর্য ডুবে যাওয়া দেখল। পরে তারা ভেতরে গিয়ে বিছানায় শুয়ে পড়ল।
যখন ক্রস তাকে ভালোবাসায় উদ্দীপ্ত করেছিল তখন তার মনে হলো তার মস্তিষ্কের সব কোষ ও শরীর উড়ে যাচ্ছে। কিছু উত্তেজিত স্বপ্নের ভেতর সে সব ত্যাগ করছিল। যেন সে এক প্রেতাত্মা, যার অনুভূতি পরমানন্দে পূর্ণ আর একটা প্রেতাত্মা তার শরীরে ঢুকছে। সে তার সমস্ত নিষেধাজ্ঞা, তার সমস্ত কার্যকারণ হারিয়ে ফেলল। এমনকি সে তার সাথে অভিনয় করছে। সে তাকে আসলে ভালোবাসে কি-না তা ভাবারও তার সময় নেই। যতক্ষণ না তারা তাদের একে-অপরের হাতের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে ততক্ষণ এরকম চলতে থাকে। যখন তারা জেগে আড়মোড়া ভাঙল, তখন বাইরে চাঁদের আলোয় পূর্ণ, সে আলো মনে হয় রৌদ্রের চেয়েও উজ্জ্বল। অ্যাথেনা তাকে চুমু দিয়ে বলল, তুমি আসলেই ব্যাথেনিকে পছন্দ করেছিলে।
হ্যাঁ, ক্রস বলল। সে তোমার অংশ।
তুমি কি ভাব সে আর ভালো হতে পারে?
অ্যাথেনা জিজ্ঞেস করল, তুমি কি ভাব, তার আরো ভালোর জন্য আমি সাহায্য করতে পারি?
সেই সময় ক্রস আবেগপ্রবণ হলো, মেয়েটির ভালো করতে তার জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। কোনো নারীর ভালবাসার প্রতি এরকম আত্মেসর্গের কথা অনেকে বললেও বালিকাটির প্রতি তার ভালোবাসার আগে এরকম চিন্তার সাথে অপরিচিত ছিল।
আমরা উভয়ে সাহায্যের চেষ্টা করতে পারি।
ক্রস বলল, না। অ্যাথেনা আমি অবশ্যই এটা করব।
তারা আবার ঘুমিয়ে পড়ল। আর যখন আবার ফোনটা বেজে উঠল তখন রহস্যময় নতুন সকাল হচ্ছে। অ্যাথেনা ফোন তুলে শুনল, তারপর ক্রসকে বলল, গেটের গার্ডের কল এটা। সে বলল, একটা গাড়িতে চার জন লোক এসেছে এবং তারা তোমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চায়।
ক্রস ভয় পেল। সে ফোন হাতে নিয়ে গার্ডকে বলল, তাদের একজনের কাছে ফোনটা দাও।
সে ভিনসেন্টের গলার স্বর শুনতে পেল। ক্রস, আমার সাথে পেটি আছে। আমরা কিছু খারাপ খবর পেয়েছি।
ঠিক আছে, গার্ডের কাছে দাও ক্রস বলল।
পরে, গার্ডকে বলল, তারা ভেতরে আসতে পারে।
জর্জিও’র কল সম্পর্কে সে বেমালুম ভুলে গিয়েছিল। ভালোবাসা যা করে তা-ই, সে উদ্ধতভাবে ভাবল। যদি আমি একে উপরে তুলি, তাহলে আমি এক বছরও বাঁচব না। সে তাড়াতাড়ি কাপড় পরে নিয়ে নিচের সিঁড়িতে দৌড়াল। গাড়িটি বাড়ির সামনে দিয়ে উপরে উঠছিল। সূর্য তখন অর্ধেক অস্তমিত। দিগন্তের ওপরে এটার আলো ছড়িয়ে পড়েছে। ভিনসেন্ট ও পেটি বিলাসবহুল লিমুজিন থেকে বাইরে বেরিয়ে এলো। ড্রাইভার ও অন্য একজন মানুষকে পেটি সামনে দেখতে পেল। পেটি ও ভিনসেন্ট দরজার দিকে লম্বা বাগানের পথে হাঁটল। আর ক্রস তাদের জন্য এটা খুলে দিল।
হঠাৎ অ্যাথেনা তার পাশে এসে দাঁড়াল। পেটি এবং ভিনসেন্ট তার দিকে তাকাল। তাকে খুব সুন্দর দেখাচ্ছিল না।
অ্যাথেনা তাদের সবাইকে রান্নাঘরে নিয়ে গিয়ে কফি বানানো শুরু করল। আর ক্রস তাদেরকে তার কাজিন হিসেবে পরিচিত করে দিল।
কিভাবে এখানে আমার লোক গেল?
ক্রস জিজ্ঞেস করল। গত রাতে তোমরা নিউইয়র্কে ছিল।
জর্জিও একটা উড়ো জাহাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল, পেটি বলল।
অ্যাথেনা তাদের জন্য কফি বানানোর চেষ্টা করছিল। তাদের কেউ কোনো আবেগের কথা বলল না। তাদেরকে ভাইয়ের মতো দেখাল। তারা দুজনই বড় মানুষ কিন্তু ভিনসেন্ট ছিল ম্লান। পেটির কৃশ মুখে রোদে পুড়ে তামাটে লাল হয়েছে।
আর হ্যাঁ, খারাপ খবরটা কি? ক্রস বলল। সে আশা করছিল যে, সে শুনবে ডন মারা গেছে, বোজ ম্যারি আসলেই দিশেহারা হয়ে গেছে। অথবা ডেন্টি এমন কোনো ভয়ানক কাজ করেছে যাতে পরিবারটি সমস্যার মধ্যে আছে।
ভিনসেন্ট তার স্বাভাবিক ভদ্রতার সাথে বলল, আমরা তোমার সাথে একা কিছু বলতে চাই।
অ্যাথেনা তাদেরকে কফি ঢেলে দিল।
আমি তোমাকে আমার সব খারাপ খবরগুলো বলি, সে ক্রসকে বলল।
তোমারটা আমি শুনব।
আমি ঠিক তাদের সাথে যাব, ক্রস বলল।
