পিপি মুগ্ধ হয়ে স্থানটির আনাচে-কানাচে হাঁটছিল। মিক হেলির বাড়ি ছিল এর পেছনে, যার একটি সুন্দর বেলকনি, তাছাড়া এক পাশে সুইমিংপুল আছে যার চারপাশে ছিল অনেক বসার বেঞ্চ।
পিপি সেখান থেকে একটু দূরে পথে যাওয়া গাড়ির আওয়াজ শুনছিল। এটা তাকে সচেতন করল। সে সব সময়ই সজাগ থাকত। ঠিক একই সময় একজন লোককে অন্য একটি বেঞ্চ উঠতে দেখল। সে আশ্চর্যান্বিত হয়ে বলল, তুমি সেখানে কি কর ছিলে?
লোকটি কুশল বিনিময় করার জন্য তার কাছে এলো না। যার কারণে সবকিছু পিপির কাছে পরিষ্কার হয়ে গেল। সে বুঝল কি ঘটতে যাচ্ছে। তার মাথা ছিল খুব ভালো যার কারণে সে সবকিছু আগে থেকেই আন্দাজ করতে পারল। সে তার কাছে ছোট বন্দুক দেখল, তার চোখে-মুখে হত্যাকারীর ছায়া পরিলক্ষিত করল। যা সে প্রথমেই তাকে দেখে আন্দাজ করতে পেরেছিল। সে তার শেষ জীবনের পরিণতি দেখে কিছুটা আশ্চর্য হলো। সে আরো লক্ষ্য করল যে, হত্যাকারীটির জীবন যেন কেমন অগোছাল। তাকে দেখে তার মনে হলো, তার জীবনের প্রতি কোনো মায়া নেই। জীবনভর খারাপ কাজ করার জন্য সে কিছুটা ক্লান্ত।
সে তাকে জানার জন্য বারবার চেষ্টা করল, কিন্তু তার প্রতি কোনো করুণ দেখাল না। সে তার বন্দুক বহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য তাকে শপিং ব্যাগটি দিতে চাইল। লোকটি তৎক্ষণাৎ তা নেওয়ার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ল। পিপিও তার আহ্বানে সাড়া দিল। লোকটি সর্বদা ছয়টি গুলিসহ বন্দুক, বালিশ এবং কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস সব সময় তার নিজের সঙ্গে রাখত। সে লোকটির দিকে কিছুক্ষণ তাকানোর পর বলল, তুমি সান্তাডিওতে কোনো ঘটনা ঘটেছে। তারপর শেষ বুলেটটি তার মাথায় বিদ্ধ হলো। পিপি ডি লিনা পৃথিবী থেকে বিদায় নিল।
১৬. দিনের প্রথম প্রহরে
১৬.
পিপি ডি লিনা দিনের প্রথম প্রহরে মুমূর্ষ হয়ে পড়ল। ক্রস অ্যাথেনাকে তার Tম্যালিবুর বাড়িতে নিয়ে গেল। তারা অ্যাথেনার মেয়ে ব্যাথেনির কাছে যাওয়ার জন্য সান্তাডিও’র উদ্দেশ্যে গাড়ি নিয়ে রওনা হলো।
ব্যাথেনি বাইরে যাবার জন্য সাজগোজ করছিল। ক্রস দেখল, সে তার মায়ের বেশি বয়স ও চিন্তায় বিকল অবস্থার জন্য চিন্তিত। তার মুখ-চোখ শূন্যতায় ভরা। আর তার শরীরও খুব নির্জীব। তার মুখের আদলে মনে হয় আসল সুস্পষ্টতা বিরাজমান আছে। যেন সাবান ব্যবহারের ফলে পানশালার মতো আংশিকভাবে মুছে গিয়েছিল। সে এখনো আঁকার সময় পরনের কাপড় রক্ষার জন্য প্লাস্টিকের অ্যাপ্রোন পরে আছে। সকালের প্রথম দিক থেকেই সে দেয়ালে আঁকাআঁকি করে। সে তাদের দেখছিল না। আর সে তার মায়ের আলিঙ্গন গ্রহণ করল এবং আঁকড়ে ধরল। তার শরীর ও মুখ চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দিল। এমনকি অ্যাথেনা এটা আগ্রহ করে তাকে অধিকতর শক্তভাবে আলিঙ্গন করল।
এই দিনটি বনময় সরোবরের পাশে বনভোজনের মতো হয়েছিল। অ্যাথেনা দুপুরের খাবার বাস্কেটে প্যাকেট করেছিল।
কিছুক্ষণের যাত্রায় ব্যাথেনি তাদের মাঝে বসে গাড়ি চালিয়েছিল। অ্যাথেনা বারবার ব্যাথেনির চুল পিছনের দিকে আঁচড়ে দিয়েছিল। ব্যাথেনি যখন সোজা সামনের দিকে তাকিয়েছিল তখন অ্যাথেনা সোহাগভরে তার গালে হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। ক্রস ভাবছিল কিভাবে এবং কখন দিনটি শেষ হবে এবং অ্যাথেনা ম্যালিবুতে ফিরে গিয়ে ভালোবাসা দেবে তাকে। সে কল্পনা করছিল বিছানায় তার উলঙ্গ শরীর এবং অন্য কিছু।
হঠাৎ ব্যাথেনি কথা বলল তার সাথে। সে কখনো আগে তাকে দেখেনি। সে তার দিকে বিষণ্ণ বড় সবুজ চোখে তাকিয়ে বলল, তুমি কে?
অ্যাথেনা উত্তর দিল, তার স্বর ছিল যথার্থ। যেন ব্যাথেনির জবাবে এটা বিশ্বের খুব বড় প্রাকৃতিক বিষয় মনে হলো তার। সে বলল, তার নাম ক্রস। আমার খুব ভালো বন্ধু। ব্যাথেনির ভাবটা ছিল এমন। যেন সে শুনেও শোনেনি। পুনরায় সে তার জগতে আত্মমগ্ন হলো। অ্যাথেনা বনের চোখ ধাঁধানো সরোবরের কয়েক গজ দূরে গাড়ি পার্ক করল! একটা ছোট নীল খচিত একটা বড় সবুজ কাপড় বিছানো হলো। ক্রস খাবারের বাস্কেট আনল। অ্যাথেনা ঘাসের ওপর বিছানো লাল কাপড়ের ওপর খুলল। সে সবুজ ন্যাপকিন, কাঁটা চামচ এবং মচমচে কিছু খাবার কাপড়ের ওপর বিছালো। কাপড়টি ছিল সংগীতের সামগ্রী দিয়ে নকশাকাটা। ব্যাথেনিকে আকর্ষণ করল। তারপর অ্যাথেনা বিভিন্ন স্যান্ডউইচের অংশ, পটেটোর সালাদের বাটি এবং ফলের ফালি বিতরণ করল। পরে এক প্লেট মিষ্টি কেক ধীরে ধীরে শেষ হয়ে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই তেলে ভাজা অংশও ফুরিয়ে গেল। সে ব্যবসায়ীর মতো খুব যত্নের সাথে খাবার পরিবেশন করল। কারণ ব্যাথেনি খাদ্য ভালোবাসত।
ক্রস গাড়ির কাছে ফিরে গিয়ে মদের বক্স আনল। বাস্কেটে অনেকগুলো গ্লাস ছিল। এগুলোতে সোডা ঢেলে দিল সে নিজেই। অ্যাথেনা তার গ্লাস ব্যাথেনিকে দিতে বলল কিন্তু ব্যাথেনি তার হাত দিয়ে পাশে আঘাত করল, সে ক্রসকে দেখছিল।
ক্রস তার চোখের দিকে তাকল। তার মুখ এত রাগান্বিত ছিল যে, তাকে মনো হলো মাংস ছাড়া একটি মুখোশ। কিন্তু তার চোখ এখন খুব সতর্ক। এটা এমন ছিল যেন সে গোপন কোনো গুহায় আটকা পড়ে গেছে। যেখানে সে শ্বাস ক্রিয়ায় মারা যাচ্ছে, কিন্তু কাউকে সাহায্যের কথা বলতে পারছে না। যেখানে তার মাংসে ফোস্কা পড়ে যাচ্ছে কিন্তু সে তা ছুঁতে পারছে না এমন। তারা খেলো। অ্যাথেনা অযথা বকবক করে ব্যাথেনিকে হাসতে চেষ্টা করল। সে কেবল দক্ষতাসম্পন্ন কৃত্রিমভাবে বিরক্তি ও একঘেয়েমি প্রকাশ করল। ক্রস তা ভেবে রীতিমতো আশ্চর্য হলো। যেন তা আত্মসংবৃত্ত শিশুসুলভ আচরণ যা যথাযথ প্রাকৃতিক। ব্যাথেনি মজার গল্প করছে যদিও বালিকা কোনো উত্তর করছিল না। এটা ছিল অনুপ্রাণিত সদোক্তি যা দ্বারা সে তার নিজের যন্ত্রণা কমানোর চেষ্টা করছিল।
