তারপরও সে হাসল, আমার সমস্ত কাজ ছিল তোমার দাঁত নিয়ে। আহ কি লজ্জা!
দুদিন পর শনিবার সকালে, আর্নেস্ট খুব সকাল সকাল তার বেভারলি হোটেল থেকে ঘুম থেকে উঠল। সূর্য কেবল উদিত হচ্ছে। সে সকালের কাজ সেরে সেভ করল এবং আরামদায়ক জিন্স এবং টি-শার্ট পরল, জামার ওপর জ্যাকেট পরিধান করল। তার কক্ষটি জামা-কাপড় এবং খরচের কাগজে পরিপূর্ণ ছিল। কিন্তু এটা ছিল সর্বত্রই ছড়ানো-ছিটানো।
ক্যাথনেথ অফিস হোটেল থেকে আধা ঘন্টার পথ ছিল। আর্নেস্টের মধ্যে সেদিন স্বাধীনচেতা ভাব ছিল। লস অ্যাঞ্জেলেসে কেউই হাঁটে না। সে ছিল খুব ক্ষুধার্ত কিন্তু কিছু খেতে ভয় পেল কারণ তার পুরো শরীরে নাইট্রাসের প্রভাব তখন পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল।
ষোল তলা বিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের পনের তলায় তাদের অফিসটি ছিল। সেখানে একজন বেসরকারি নিরাপত্তা প্রহরী ছিল এবং কারো জন্যই কোনো চলন্ত সিঁড়ির ব্যবস্থা ছিল না। আর্নেস্ট চাবি দিয়ে দরজা খুলল এবং ভেতরে প্রবেশ করল। সে পুনরায় দরজাটি তালাবদ্ধ করল এবং চাবিটি তার জ্যাকেটের পকেটে রাখল। কক্ষটি ছিল সম্পূর্ণভাবে নির্জন। অভ্যর্থনা কক্ষটির জানালা দিয়ে রোদ জ্বলজ্বল করছিল এবং তার কমপিউটারটিতে অশুভ ছায়া পড়ছিল।
আর্নেস্ট দরজা খুলল, যাতে কাজের পরিধি দেখা যায়। তাই সে বারান্দা দিয়ে হেঁটে হেঁটে বিখ্যাত তারকাদের ছবি দেখছিল। সেখানে ছয়টি চিকিৎসা কক্ষ ছিল। প্রতিটি রুমের তিন পাশে বারান্দা ছিল। সর্বশেষে ছিল ডা. ক্যাথনেথের সভা কক্ষ যেখানে তারা অনেক সময় ধরে খোশগল্প করেছিল।
ক্যাথনেথ নিজস্ব কক্ষটি মূল কক্ষের সঙ্গে সংলগ্ন ছিল, সেই কক্ষে ছিল হাইড্রোলিক ডেন্টাল চেয়ার। সেখানে সে উচ্চ বিত্ত শ্রেণীর রোগীদের চিকিৎসা করত।
চেয়ারটি ছিল অতিরিক্ত আরামপ্রদ; তার গদি ছিল খুবই মোটা এবং নরম। মোবাইল টেবিলটি চেয়ারটির পাশে রাখা ছিল এবং তার সঙ্গে মিষ্টি বাতাস সেবন করা মুখোশ ছিল। যার সংযোগ ছিল নাইট্রাস এবং অক্সিজেনের সিলিন্ডারের সঙ্গে এবং এর সঙ্গে দুটো নিয়ন্ত্রণকারী বাটুল ছিল।
তারপর সে চেয়ারে বসল এবং তার মুখে মুখোশ পরল। সে কিছুটা বিশ্রাম নিল। সবকিছুর পর। তার সারা দেহ থেকে সমস্ত ব্যথা দূর হলো। তার মাথা পরিষ্কার হলো। সে সুস্থ অনুভব করল। মৃত্যুর যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও সে মুক্তি পেল। এমনই মনে হলো তার।
তারপর আবার মাথায় উপন্যাসের লিসার কথা ফিরে এলো। সে জানল মানুষ তাকে ভালোবাসে। আসলে সে এতদিন ভুলের মধ্যে ছিল। সে আত্মহত্যার কথা ভুলে গেল এবং অনুভব করল পৃথিবীটা কত সুন্দর। কেউই এই সুন্দর ভবন থেকে কেন যেতে চাইল না। তার মধ্যে পুনরায় সব সজীবতা ফিরে এলো। সে আবার নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে পার এমনভাবে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ হলো।
সে এলি ম্যারিয়নের কথা ভাবল, যে তার মর্যাদা অনুসরণ করেছিল, অর্জন করেছিল প্রচুর ক্ষমতা, যে তার জীবনতরীতে তা পূর্ণাঙ্গভাবে ব্যবহার করেছিল। আর্নেস্টের ভালো বই প্রকাশিত হয়েছিল এবং এলিই বইটি প্রকাশ করার জন্য সবার আগে এগিয়ে এসেছিল।
এলি বলল, তুমি একজন ভালো লেখক, তোমার সঙ্গে আমি আছি, থাকব। তুমি তোমার কাজ ভালভাবে করে যাও। কোনো সমস্যা হলে আমাকে জানাবে। তোমার উপন্যাস হলিউডের ছবি পাড়ায় একদিন ঝড় তুলবে, তুমি খুব সম্মান পাবে এটাই আমার চাওয়া, কোনো সমস্যা নেই। আমার মৃত্যুর পর বানজ তোমাকে দেখবে। তাছাড়া বানজ কোনো খারাপ প্রকৃতির লোক নয়। আমি জানি সেও তোমার মতো পরিশ্রমী। আমার অবর্তমানে সে তোমাকে অবশ্যই সাহায্য করতে পারবে। তবে তুমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ধরে রাখার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। তাছাড়া তোমার উপন্যাসের ওপর ভিত্তি করে ছবি করে যদি লভ্যাংশ পাওয়া যায় তাহলে একদিন তোমার প্রতি সবাই আস্থাবান হবে। পরিচালক, তারকা, প্রযোজক প্রত্যেকেই তোমাকে সন্ধান করবে। কখন কোনো কাজ করতে গিয়ে শুধু তার বিপরীতটাই চিন্তা-ভাবনা করো না। কিছুটা সমার্থক চিন্তা-ভাবনাও করবে।
তারপর আর্নেস্টের মন পরিষ্কার হলো এবং মিষ্টি বাতাস সেবন করার জন্য সে কিছুটা উদগ্রীব হলো। কিছুক্ষণ বিরতি নেওয়ার পর সে ক্যাথনেথের অফিসে গেল এবং চেয়ারে বসল।
তার অনুভূতি ফিরে এলো। সে ক্যাথনেথের চেয়ারে সোজা হয়ে বসল এবং বিভারলি পাহাড়ের উপর সূর্য উদয় দেখতে লাগল। সে মনে মনে রাগান্বিত হলো কারণ বেশ কিছুদিন সে কোনোভাবেই আনন্দ উপভোগ করতে পারছে না। তাই রাতে ভালো ঘুম হওয়ার জন্য ঘুমের বড়ি খেল এবং গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হল।
এখন আর তার পড়ার প্রতি বেশি ইচ্ছে হয় না, তখন আর সে পড়ে বা লিখেও মজা পায় না। তাই সে ভাবল আর বেশি লেখালেখি করবে না।
প্রতিটি সকালই সে খুব তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে ওঠে। তারপর সেভ করে নাস্তা খায় কিন্তু আজ তার ব্যতিক্রম। কোনো এক সময় মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আয় করত এবং তা জুয়া, নারী, মদের পেছনে ব্যয় করত অথবা কাউকে সাহায্য করত। সেই সময় টাকা তার কাছে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল না।
গত দুই মাস সে তার ছেলেমেয়ে এবং স্ত্রীর জন্য কোনো টাকা-পয়সা পাঠাতে পারেনি। গত পাঁচ বছরে তার কোনো বইও প্রকাশিত হয়নি ফলে তার ব্যক্তিত্ব দিনের পর দিন হারিয়ে যাচ্ছে। সে সব সময় তার ভাগ্য নিয়ে চিন্তিত। সে সরু মসৃণ দাঁত পছন্দ করত। আজ তার সবকিছু দিনের পর দিন হারিয়ে যাচ্ছে।
