এর কোনো উত্তর ছিল না। বাস্তবিকভাবে ইন্ডাস্ট্রির আধিপত্য পরম্পরায়, স্টুডিও প্রধান সবার উপরের রেঙ্কে। প্রযোজক একমাত্র ব্যক্তি যিনি একত্রে সব বিষয়ে দেখাশোনা করতে পারে, বাজেটের বিষয়ে তদারকি করতে পারে এবং স্ক্রিপ্ট বাড়াতে পারে। কিন্তু সত্য হলো যে ছবির শুটিং শুরু হলে পরিচালকের হাতে থাকে সর্বময় ক্ষমতা। বিশেষ করে চলচ্চিত্রে সাফল্যের কীর্তি তার থাকলে তো কথাই নেই।
বানজ মাথা ঝাঁকাল, আমি লোরানজুর সাথে কথা বলতে পারি না। লোরানজু আমাকে স্বয়ং চলে যেতে বলতে পারে আর আমি এই ছবি থেকে বঞ্চিত হব।
আর সে ঠিকই করবে। ডিরি বলল। কী যন্ত্রণা, লোরানজু সবসময় একটা ছবি থেকে পাঁচ মিলিয়ন চুরি করে ফেলে। তারা সবাই এটা করে। এখন শান্ত হও। আমরা নিজেরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় থাকতে পারি।
কিন্তু, বানজ এখন খরচের অন্য দিকগুলি দেখছিল। তোমার ছবিতে, সে ডিরিকে বলল, চায়নিজ খাবার খাওয়ার জন্য খরচ হবে পাঁচ শত হাজার ডলার। কেউ না কেউ, এমনকি আমার স্ত্রীও চায়নিজ খাবারে অধিক মিলিয়ন ডলার ব্যয় না করে পারে না। ফ্রান্স খাবার হতে পারে। কিন্তু চায়নিজ?
স্কিপি ডিরি দ্রুত ভাবল। ববি সেখানে ছিল। একটা জাপানিজ রেস্টুরেন্ট আছে। সেখানে সুশি নামে একটি খাদ্য আছে। ঐটা পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খাবার।
বানজ হঠাৎ করেই শান্ত হলো। লোকজন সবসময় সুশি সম্পর্কে অভিযোগ তোলে। একটা প্রতিদ্বন্দ্বী স্টুডিও-র প্রধান জাপানিজ উদ্যোক্তা তাকে রাতের খাবারের জন্য একটা রেস্টুরেন্টে খাওয়া সম্পর্কে বলেছিল, আর ঐ খাবারের মধ্যে বিশেষভাবে ছিল সুশি। দুইজন মানুষের জন্য বিশটি বাজে মাছের মাথার দাম ছিল এক হাজার মার্কিন ডলার, সে বলেছিল। বানজের মনে ছাপ পড়ল।
ঠিক আছে, বান স্কিপি ডিরিকে বলল। কিন্তু তুমি অবশ্যই কমাতে পারো। তোমার পরবর্তী ছবিতে অধিক সংখ্যক কলেজ পড়ুয়া নবাগতদের পেতে চেষ্টা করো। নবাগতরা ফ্রি কাজ করে।
এলি ম্যারিয়নের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হলিউডের একজন প্রখ্যাত তারকার চেয়েও বেশি মর্যাদায় পালিত হলো। স্টুডিও প্রধান, প্রযোজক, এজেন্টরা তাকে শ্রদ্ধা জানাল। বিখ্যাত তারকা, পরিচালক এমনকি স্ক্রিন প্লে লেখকরাও তাকে সম্মান ও ভালোবাসা জানাল। তার সদাশয় ও ক্ষমতার প্রজ্ঞায় চলচ্চিত্র ব্যবসার অনেক সমস্যার সমাধান হয়েছে বলে তাকে সবাই সম্মান করল। তাছাড়া সে ছিল সুন্দর জীবনের প্রতি উদার।
তার পরের বছরগুলোতে সে ছিল সন্ন্যাসী, ক্ষমতায় মত্ত থাকেনি, সেজুয়াল বিষয়ে কোন আদেশ চাপিয়ে দেননি। তাছাড়া লডস্টোন অন্য স্টুডিওর চেয়ে অধিক ভালো ছবি বানিয়েছিল। কেউ ভালো ছবি বানাতে পারে এরকম লোক সেখানে ছিল না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট তার স্টাফ প্রধানের মাধ্যমে তাকে উচ্চ প্রশংসার বাণী দিয়েছে। হলিউড ছবির প্রতিদ্বন্ধী হাওয়া সত্ত্বেও ফ্রান্স তার সংস্কৃতিমন্ত্রীর মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছে।
জাপানের ব্যবসায়িক কর্মকর্তা হঠাৎ করেই এখানে উপস্থিত হয়েছে। নেদারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালি ও সুইডেনের চলচ্চিত্র জগতের বড় কর্মকর্তারা এলি ম্যারিয়নকে সম্মান জানিয়েছে।
উচ্চ প্রশংসা শুরু করলে প্রথমে একজন বিখ্যাত পুরুষ তারকা। তারপর একজন মহিলা তারকা, তারপর একজন পরিচালক, এমনকি একজন লেখক বেনি স্লাই ম্যারিয়নকে সম্মান জানাল। তারপর প্রেসিডেন্টের স্টাফের প্রধান। ঠিক এরকমভাবে সবাই সম্মান জানাল। এলি ম্যারিয়নের শক্তি ও ব্যবসায়িক দক্ষতার ওপর দুটি বিখ্যাত ছবির অংশবিশেষ দেখানো হলো। পরিশেষে এলির পুত্র কেভিন এবং তার মেয়ে ডোরা ও ববি বানজ শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করল।
কেভিন ম্যারিয়ন বলল একজন যত্নশীল বাবা হিসেবে শুধু তার নিজের সন্তানদের জন্য নয়; লডস্টোনে যারা কাজ করেছিল তাদের সবার প্রতি এলি ম্যারিয়ন যত্নবান ছিল বলে ভূয়সী প্রশংসা করল। সে ছিল চলচ্চিত্রে প্রকৃত শিল্পী আনয়নকারী ব্যক্তি, একটি উজ্জ্বল আলো। কেভিন শোকাহতদের আশ্বস্ত করল। সে আজ ঝরে গেল।
এলি ম্যারিয়নের কন্যা ডোরা বেনি স্লাই লিখিত কবির ভাষায় তার বক্তব্য দিল। প্রশংসাযোগ্য আত্মিক, উল্লেখযোগ্য ছিল এলি ম্যারিয়নের গুণাবলি, আমি এ পর্যন্ত যত লোককে চিনি সবার চেয়ে আমার বাবাকে আমি বেশি ভালোবাসি সে বলল, কিন্তু আমি আনন্দিত যে, আমাকে তার সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসতে হতো না। আমার শুধু মেলামেশা ছিল ববি বানজের সাথে। আমি বুদ্ধিতে তাকে ছাড়িয়ে গিয়েছিলাম।
ববি বানজের দিকে ঘুরে সে হাসল। গোপনভাবে সে ডোরার কৌতুকে রাগান্বিত হলো। আমি ত্রিশ বছর লডস্টোন স্টুডিওর বিল্ডিংয়ে এলি ম্যারিয়নের সাথে কাটিয়েছি, সে বলল। আমি যতদূর জানি সে ছিল প্রতিভাধর ও অত্যধিক দয়ালু ব্যক্তি আর অধীনে ত্রিশ বছরের আমার চাকরি আমার জীবনের জন্য খুবই আনন্দের ছিল। আমি তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের কাজ চালিয়ে যাব। পরবর্তী পাঁচ বছর আমার ওপর স্টুডিও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দিয়ে সে আমার প্রতি তার বিশ্বাস দেখিয়েছিল। আমি তাকে ব্যর্থ করব না। এলির প্রাপ্তি এলি আশা করতে পারে না। সে সমগ্র পৃথিবীর বিলিয়ন বিলিয়ন মানুষকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। তার সম্পদ ও ভালোবাসা তার পরিবার ও আমেরিকার সব লোকের সাথে সে ভাগ করে নিয়েছিল। সে বাস্তবিক একটা চুম্বক ছিল।
