বানজের স্বর মদ হয়ে এলো। এলি হাসপাতালে। তেমন কিছুই হয়নি। তার, শুধু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেই হবে। সে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বলল, লডস্টোনের ওঠা-নামার সাথে সাথে তার স্বাস্থ্যও ওঠানামা করছে। ক্লডিয়া কর্কশভাবে বলল, তার বয়স এখন আশির ওপরে। তাকে এখন অনেক কিছুই আক্রমণ করবে।
না, না বানজ বলল, আমরা প্রতিদিনই তাকে নিয়ে হাসপাতালে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছি। সে কিছুটা ভালো, তোমার কথা বলতে পারো। আমি যখন পরিদর্শনে যাব তখন তাকে তোমার গল্প বলো।
না, মলি ব্যঙ্গাত্মক ভাবে বলল
কিন্তু আর্নেস্ট ভেইল বলল, চলো আমরা ববির সঙ্গে কথাবার্তা বলি।
তারা তাদের ব্যাপারটা উপস্থাপন করল। বানজ তা সহজেই উপলব্ধি করল। কিন্তু তত বেশি মনোযোগ দিল না। সে বলল, আমি সব কিছুই শুনেছি। আমার ভালো লেগেছে। আমি আমার আইনজীবীকে ব্যাপারটা অবগত করেছিলাম, কিন্তু সে আমাকে বলল ভেইল সে ব্যাপারে তাকে তেমন ইঙ্গিত দেয়নি। যদিও ব্যাপারটা পুরোপুরি লিগ্যাল। তোমার লোজন দ্বারা এটাকে আরো প্রচার করো। ক্লডিয়া বলল, যদি আর্নেস্ট এটা করে তাহলে লডস্টোনের সবাই এটাকে সুন্দর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে। এলি হয়তো পছন্দ করবে না। তার চিন্তা-চেতনা আরও বেশি নৈতিক।
তারপর আমি ব্যাপারটা দেখব। ববি বানজ বলল, কেন লোকজন বুঝতে পারে না। এলির অনুমোদনকৃত সবকিছুই আমি করি। সে আর্নেস্টের দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কিভাবে নিজের প্রতি বিশ্বাস রেখে কাজটি করলে?
আমরা কেউই ব্যাপারটা সম্পর্কে পুরোপুরিভাবে অবগত না। মলি বলল, আমরা কেন এলিকে দেখার জন্য হাসপাতালে যাই না।
ভেইল বলল, আমি টাকার অভাবে রোগী দেখতে হাসপাতালে যেতে পারি না। তারা সবাই তার দিকে সহানুভূতির দৃষ্টিকোণ দিয়ে তাকাল। অবশ্যই এটা একটা হৃদয়বিদারক ঘটনা।
মলি ঠাণ্ডাভাবে বলল, তুমি তোমার মুখ বন্ধ রাখো। মি. আর্নেস্ট; তুমি যদি আমার লোক থেকে বিরত থাকতে চাও পারো। মলি বলল, ম্যারিয়নকে হাসপাতালে দেখতে যেতে পারি। কিন্তু ববি তার ব্যবসা তাকে করতে দাও। তুমি অবশ্যই লডস্টোন থেকে একটা লভ্যাংশ পাবে। তুমি প্রয়োজনবোধে ইস্যুরেন্স করতে পারো। বানজ কিছুটা ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করল। লভ্যাংশ কখনো না।
তা ঠিক আছে। মলি বলল, কিভাবে সে পাঁচ শতাংশ লভ্যাংশ পেতে পারে। বিজ্ঞাপন বিল নেই। কোনো সুদ নেই। তাহলে সে কিভাবে এমন অংকের টাকা পেতে পারে!
বানজ ভেবেচিন্তে বলল, তার লভ্যাংশ সর্বদাই মোট টাকার ওপর হবে। আমরা সকলেই জানি আর্নেস্ট নিজে নিজের সর্বনাশ করল। সে যতটা বোকা তার চেয়েও বেশি চালাক। প্রকৃতপক্ষে তার চাওয়া কি তা আমাদের জানতে হবে।
কে জুয়াখেলার আলোচনায় পুনরায় আসছে? মলি বলল, আমি ইতিমধ্যে তার সীমা অতিক্রম করেছি। তোমার পরিকল্পনা তিনটা বিষয় নিয়ে। তার মধ্যে একটি পরিকল্পনায় টাকা দাঁড়াবে আধ বিলিয়ন ডলার যা বৈদেশিক কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। তার টাকা টিভি, ভিডিওর কাজে ব্যবহার করা হয়নি। যিশু জানে আর কত টাকা সে বিভিন্ন হাত থেকে আত্মসাৎ করেছে।
বানজ এটা পরিপূর্ণভাবে ভাবল। তারপর সে কিছুটা সতেজ হলো। আর্নেস্ট, সে বলল, একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে তুমি জাতীয় সম্পদ।
কিন্তু কেউই তোমাকে আমার চাইতে বেশি সম্মান করে না। এলি তোমার প্রত্যেকটা-বই পড়েছে। সে সত্যিকারে তোমাকে ভালোবাসে। সুতারাং আমরা চাই তুমি আমাদের সঙ্গে কোনো প্রকার বাজে কাজ করো না।
ক্লডিয়া হতবৃদ্ধি হলো, তারা কিভাবে আর্নেস্টকে সামান্য ভুলের জন্য এমনভাবে নিচু করতে পারল। কে সে আর কিছু না হোক, সে আমাদের জাতীয় সম্পদ।
সে উল্লেখ করে বলল, ক্লডিয়া তার জন্য গর্ববোধ করে।
বানজ মলিকে বলল, কিভাবে একজন লেখক সপ্তাহে মাত্র দশ গ্রান্ডের বিনিময়ে স্ক্রিপ্ট লিখতে পারে। তারপরও আবার সেটাকে চিত্রনাট্যে রূপ দিতে পারে। আর অতিরিক্ত লেখার জন্য তাকে প্রতি সপ্তাহে আরো পঞ্চাশ গ্রান্ড বেশি দেওয়া উচিত। সে গত পাঁচ বছর যাবৎ। বাৎসরিক দশ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে কাজ করে আসছে।
দ্বিগুণ টাকা? মলি বলল, তারপর আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে পারি। কেউই মোর মতো ঝুঁকি নেবে না। সে বলল, এটা আমি খুব সাধারণভাবে গ্রহণ করেছি। ববি, তোমার ব্যবসা তুমি তারপরও চালাতে পারো। তুমি কখনোই আমার কাছ থেকে মূল স্ক্রিপ্ট কিনবে না। তাছাড়া আমি নিজেও করব না। তুমি কখনোই আমাকে তোমার লেখা দেবে না। তাহলে তুমি কিভাবে বাকি কাজটুকু করবে। তাহলে তুমি এক বিলিয়ন অর্জন করতে পারো। তারপর ভেইল সত্যিকারের আনন্দ উপভোগ করতে আরম্ভ করল। আড়াই মিলিয়ন ডলার আমাকে সাহায্য করতে পারো।
তুমি-হাসতে পারো? ববি বলল, ভেইল সব সময়ই খামখেয়ালীপনা। আমি কখনোই আমার জীবনে এমন ঘটনা ঘটতে দিতে পারি না। তাছাড়া এক মিলিয়ন ডলার আমাকে সাহায্য করতে পারে না।
ক্লডিয়া ভেইলের রসিকতা সম্পর্কে জানত। সে বলল, এটা তোমাকে সাহায্য করতে পারে না? কারণ আমি এখন পর্যন্ত জীবিত। ভেইল বলল, আমার পরিবারের যেগুলো প্রয়োজন। তারা আমাকে বিশ্বাস করে এবং আমিও তাদেরকে সম্মান করি। তারা সে পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে। তদুপরি বাজে, ভেইল ছাড়া তুমি অবশ্যই বিপদে পড়বে। তারপরেই তুমি ইচ্ছামতো কাজ করতে পারবে।
