অ্যাথেনা হাসল। ক্রস সাগরের দিকে তাকিয়ে ছিল। তখন সূর্যের তীব্র আলো সাগরের ওপর পড়ে এক সোনালি আবরণ ছড়াচ্ছিল। ক্রস ভাবল তার মতো অনেক মানুষই এই সব সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত।
বাক্সটি কিসের? সে জিজ্ঞেস করল। অ্যাথেনা হাসল। এটা আমার আশা পূরণ করবে। দুঃখিত, তাই নয় কি? এটা একটি হাগ বক্স। প্রতিবন্ধি ছেলে মেয়েরা এটা ব্যবহার করে। যখন তারা হতাশা অনুভব করে, তখন তারা এটাকে একজন মানুষ হিসেবে গ্রহণ করে কিন্তু তারা কোনো দিনও মানব জাতিকে এমন মনে করতে পারে না। অ্যাথেনা গভীর দীর্ঘশ্বাস নিয়ে বলল, ক্রস কিছু দিন আমি আমার সঙ্গে বাক্সটি রাখতে চাই। এখন এটাই আমার জীবনের বড় উদ্দেশ্য। এটা ছাড়া জীবনে আর কোনো চাওয়া পাওয়া নাই। এটা কি শুধুই কৌতুক? স্টুডিওর লোকজন আমাকে বলেছে, আমি মানুষের কাছ থেকে ভালোবাসার হাজার হাজার পত্র পাই। মানুষ আমাকে পেতে চায়। তারা আমাকে ভালোবাসে। প্রত্যেকেই আমাকে চাই কিন্তু আমি শুধু আমার ব্যাথেনিকে চাই।
ক্রস বলল, আমি তোমাকে যে কোনো ক্ষেত্রে সাহায্য করব, যতটুকু পারি। তাই তুমি আগামী সপ্তাহে ফোন দেবে।
ম্যাসেলিনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলল আমরা একসঙ্গে থাকি।
আমি তোমাকে ফোন করব, ক্রস বলল। আমি আমার নিষ্পপতা প্রমাণ করতে পারেনি, কিন্তু আমার জীবনের যে কোনো কিছুর চাইতে তোমাকে বেশি ভালোবাসি।
তুমি কি আসলেই নিষ্পাপ? অ্যাথেনা জিজ্ঞেস করল।
হ্যা, ক্রস বলল, তুমি কি তার প্রমাণ চাও?
আমার তা প্রমাণ করতে ভয় নেই।
ক্রস ব্যাথেনিকে নিয়ে ভাবল।
তার চেহারা আনন্দে ভরে উঠল। তার মনে হলো সে আসলেই পাপমুক্ত। প্রকৃতপক্ষে প্রতিটি মানব জাতির এমন পাপমুক্ত হওয়া উচিত। এক বড় ধরনের আঘাত তার জীবনে নেমে এলো, যখন সে দেখল সে যথেষ্ট সুন্দরী, বুদ্ধিমতী হওয়া সত্ত্বেও সবাই তার সঙ্গে প্রতারণা করল। সে ভাবল, তাহলে আমার ভদ্রতা, বুদ্ধিমত্তা, মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসার মূল্য কোথায়।
যখন বজ তাকে প্রহসন করল এবং যদিও বজকে কেউই জারজ বলে আখ্যায়িত করল না। তাই সে সকলকেই সন্তুষ্টের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখল। প্রথমে সে এমন কল্পনা করেছিল যে তা যথেষ্ট আবেগপ্রবণ। যখন বজ তাকে দ্বিতীয় বারের মতো প্রহসন করল তখন সে তার দিকে পুনরায় ফিরে তাকাল, তাতে সে খুব আঘাত পেল এবং সেই সময় সবকিছুই পুরোপুরি বুঝতে পারল।
অবশ্য তারা তাকে ভালবাসত, তার এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ ছিল না। এটাকে সে অশুভ বিরোধিতাপূর্ণ মনে করল না। মহৎ যে কোনো হিংসাকে প্রতিরোধ করতে পারে।
আর এমন একটি কারণেই সে ক্লডিয়াকে ভালোবাসত, কারণ ক্লডিয়া তার সঙ্গে কখনোই বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করেনি। এই কারণেই সে ব্যাথেনিকে দিনের পর দিন গোপন করে লালন-পালন করত। সে ঐ ধারণাকে ঘৃণা করত। মানুষ তার সৌন্দর্যের মোহে তাকে ভালোবাসত, কারণ সে এই সৌন্দর্যের কারণে অনেক বেশি শান্তি পেয়েছিল। সে বুঝল তার সকল ক্ষমতাই তার সৌন্দর্যকে ঘিরে। সে হতাশ হলো, যতদিন তার সৌন্দর্যময় চেহারা থাকবে, বুদ্ধিমত্তা থাকবে ততদিন মানুষ তাকে ভালোবাসবে। মানুষ তার প্রশংসা গাইবে। কিন্তু মানুষ চিরদিন তার সৌন্দর্যকে ধরে রাখতে পারে না। আমিও একদিন আমার দাঁতগুলো পড়ে যাবে তখন হাসলে আমাকে বিশ্রী দেখাবে, আমার হাসি মানুষ আর পছন্দ করবে না। একদিন যে আমি শরীরের মাধ্যমে মানুষ অর্জন করেছিলাম তা আমি হারাব। এই ভাবনা তাকে ক্লান্ত করে ফেলল। সুতরাং সে ক্রস ডি লিনার ওপর সতর্ক মনোভাব ব্যক্ত করল। যখন সে ব্যাথেনির সঙ্গে সাক্ষা করল, প্রথমে তার হালকা প্রতিক্রিয়া দেখাল, কিন্তু কিছুই বলল না। সে জানত তার প্রতি ভালোবাসার কারণেই তার এই অসহায়তা এবং সে দেখল তার মধ্যে নিশ্চিত কোনো সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া নেই যখন সে জানল দুর্ভাগ্যবশত সে ব্যাথেনির আছে।
.
১২.
ক্লডিয়া এলি ম্যারিয়নের সাথে তার যৌন আকর্ষণের সুযোগ নিতে চেয়েছিল। সে আর্নেস্ট ভেইলকে লজ্জা দেবার বিষয়টা তার উপন্যাসে বর্ণনা করতে চেয়েছিল। এটা ছিল বড় শট; কিন্তু সে তার নীতিতে অবিচল ছিল। ববি বানজ পুরো বিষয়ের ওপর নাখোশ ছিল। কিন্তু এলি ম্যারিয়ন তার কোনো শট নেয়ায় কোনো অনুমতি দিল না। অন্যদিকে চলচ্চিত্র ব্যবসায় যৌনতা প্রদর্শনটা সম্মানজনক প্রথায় পরিণত হয়েছে। বলার প্রয়োজন নেই ভদ্র সমাজে এটার চাহিদা আছে।
ভেইলের আত্মহত্যার হুমকি দিয়েই মিটিংয়ের আলোচনা শুরু হলো। তার উপন্যাসে তার সাবেক স্ত্রী ও তার বাচ্চাদের আনা হলে মলি ক্লান্ডার খুব ঝগড়া করবে। কেউ তার হুমকিতে বিশ্বাস করে না, এমনকি ক্লডিয়াও নয়। কিন্তু যা করে তারা অর্থ উপার্জন করে সে বিষয়ে ববি বানজ ও এলি ম্যারিয়ন সবসময় উদ্বিগ্ন থাকে।
যখন ক্লডিয়া, আর্নেস্ট ও মলি লডস্টোনে এলো তখন তারা শুধু ববি বানজকে নির্বাহী হিসেবে সেখানে দেখল। তাকে মলিন দেখল। যদিও সে বিশেষ করে ভেইলকে উষ্ণ অভ্যর্থনার মাধ্যমে এটা গোপন করতে চেষ্টা করল। আমাদের সুখ। আর্নেস্টকে ভালোবাসায় জড়িয়ে ধরে সে বলল।
মলি তৎক্ষণাৎ সতর্ক হলো। এলি কোথায়, সে বলল। সে-ই একমাত্র ব্যক্তি যে এটার ব্যাপারে ফাইনাল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
