আমি আগামীকাল ফিরে আসব প্রিয়তমা। আমি তোমার জন্য একটি রাইড এবং একটি নতুন পেন্থ বক্স আনব। দেখ, সে কাঁদতে কাঁদতে বলল, তুমি Youre running out of reds বিপদের মধ্যে বাহিরে যাচ্ছ। সে শিশুটিকে একটি সুন্দর কিস দেওয়ার চেষ্টা করল কিন্তু শিশুটি তার সুন্দর দুটো হাত দিয়ে বাধা দিল।
পরিশেষে অ্যাথেনা এবং ক্রস রুম থেকে বের হলো। অ্যাথেনা তাকে গাড়ির চাবি দিল, যাতে সে ম্যালিবুতে যেতে পারে। অ্যাথেনা গাড়িতে চড়ার সময় তার মাথায় হাত রেখে কেঁদে ফেলল। সেই সময় ক্রস গাড়ি ঘোরানোর কাজে ব্যস্ত থাকার জন্য কিছুই বলতে পারল না।
যখন তারা গাড়ি থেকে নামল, অ্যাথেনা কোনো মতে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করল। তারপর সে ক্রসকে বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেল এবং তারা একে অপরের মুখোমুখি হলো। ঐ শিশুটি, আমি বজকে বলেছিলাম, আমি তাকে মরুভূমিতে সমাধিত করেছি। এখন কি তুমি আমাকে বিশ্বাস করছ? এই প্রথম ক্রস বিশ্বাস করল যে অ্যাথেনা তাকে ভালোবাসত।
অ্যাথেনা তাকে রেখে রান্নাঘরে গেল এবং কফি তৈরি করল। তারা সাগর দেখার জন্য বেলকনিতে বসল। তারা কফি খাচ্ছিল, অ্যাথেনা কথা বলা শুরু করল, সে সাধারণ কথাবার্তা বলছিল, তার কণ্ঠে ও চেহারায় কোনো আবেগ ছিল না।
যখন আমি বজের কাছ থেকে পালিয়ে গেলাম, আমি আমার বাচ্চাকে দূর সম্পর্কের এক চাচাতো ভাইয়ের কাছে রাখলাম। তখন তারা সান্তাডিওতে নতুন বিবাহিত কপোত-কপোতী। সে এটাকে খুবই সাধারণভাবে নিল। আমি জানতাম না যে সেও ছিল প্রতিবন্ধী। তারপরও আমি তাকে সেখানে রাখলাম, কারণ আমি একজন বিখ্যাত অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলাম। আমাকে আমাদের সকলের জন্য টাকা উপার্জন করতে হতো। আমি নিশ্চিত ছিলাম আমি বুদ্ধিমতী এবং ঈশ্বর জানে সবাই আমাকে কেন সুন্দরী বলত। যখনই আমি সাফল্য পেতাম, তখন আমি তা ভাবতাম। তারপর আমি আমার বাচ্চা ফেরত পেলাম।
সুতরাং আমি লস অ্যাঞ্জেলেসে কাজ করতাম এবং যখনই সুযোগ পেতাম তখন তাকে দেখার জন্য সান্তাডিও ছুটে যেতাম। তারপর আমি তাকে এক মাস সময় দিতাম। পরিশেষে যখন আমি তাকে বাড়িতে এনে তার তৃতীয় জন্মদিন পালন করার প্রস্তুতি নিলাম ঠিক তখনই ব্যাথেনি তার শারীরিক ভারসাম্য হারাল। আমি নিজেও চরম উত্তেজনার মধ্য দিয়ে সময় কাটাতে লাগলাম। আমি ভাবলাম সম্ভবত তার ব্রেন টিউমার হয়েছে। আমি স্মরণ করলাম একদিন বজ তাকে মেঝের ওপর আছাড় দিয়েছিল, সম্ভবত তখনই সে ব্রেনে আঘাত পেয়েছিল। যার প্রতিফলন ঘটছে এখন। তারপর আমি তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। সে তার সবকিছুই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করল। তারপর আমি একজন বিশেষজ্ঞের কাছে গেলাম। তিনিও সব কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা করলেন। কিন্তু সেখানে তার কোনো চিকিৎসা না হওয়ার জন্য আমি তাকে টেক্সাস শিশু হাসপাতালের একজন বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে গেলাম। সে আমাকে বলল– সে একজন প্রতিবন্ধী।
আমি কখনো বিশ্বাস করিনি যে তার এমন কিছু হতে পারে। আমি ভেবেছিলাম হয়তো খুব তাড়াতাড়ি সুস্থ হওয়া সম্ভব। না ডাক্তার বলল আসলে ঘটনা তেমন না। সে তার নিজের মতো পৃথিবীতে বাস করতে পারবে। সে অন্য মানুষের প্রতি কোনো আকর্ষণ খুঁজে পাবে না, সে কারও প্রতি কোনো প্রকার অনুভূতির বিচরণ ঘটাতে পারবে না। মোট কথা হলো, সে সবকিছুই তার নিজ মনের মতো করতে পারবে। তার ওপর কোনো জোর করা যাবে না। তারপরও আপনি তার জন্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেখতে পারেন।
ক্রস কোনো কারণ ছাড়াই বলল, কিন্তু তখন অ্যাথেনা প্রতিনিয়ত কথা বলছিল। প্রতিবন্ধী অর্থ সে কখনই আমাকে ভালোবাসতে পারবে না। কিন্তু ডাক্তার আমাকে বলেছেন কিছু কিছু প্রতিবন্ধী খুব বুদ্ধিমান হয়, অর্থাৎ তারা সবকিছুই বুঝতে পারে কিন্তু প্রকাশ করতে পারে সেই অনুযায়ী কম। আমি মনে করি ব্যাথেনি বুদ্ধিমতী। সে বুঝল ছবি আঁকতেই পারদর্শী না অন্য ক্ষেত্রেও তার বেশ দক্ষতা আছে বলে আমি মনে করি। ডাক্তার আমাকে বলেছিল কঠিন প্রশিক্ষণের পর কিছু কিছু লোকের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে। তখন দেখা গেছে তারা তাদের দেরিতে হলেও মানুষকে বুঝতে সক্ষম হয়। যা আমরা আমাদের বিগত জীবনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বুঝতে পেরেছি।
সে আমাকে মেনে নিতে পারে না কিন্তু এর জন্য আমি তার প্রতি বিরক্তও নই। আমি মনে করি তাকে একা রাখার জন্য এটা আমার শাস্তি। কারণ আমি সাফল্য চেয়েছিলাম। বিশেষজ্ঞ আমাকে বলেছিল তার ব্যবহারে আপনি সময় সময় বিরক্ত বোধ করতে পারেন, কিন্তু তার পরেও তাকে মেনে নিতে হবে। ডাক্তার আমাকে আরো বলেছিল, তার এমন ব্যবহারকে গুরুত্ব দিলে চলবে না। সবকিছুর মধ্য দিয়েই তাকে অর্জন করার চেষ্টা করতে হবে। তাই আমি সর্বদা তাকে আমার সঙ্গেই রাখতে চাইতাম। আমি তাকে আমার সাথে মেসিলিয়াতে রাখার জন্য মনে মনে চিন্তা করলাম।
কেন? ক্রস জিজ্ঞেস করল, তুমি কি করতে চাচ্ছ?
সেখানে অনেক দামি ক্লিনিক আছে, আছে অনেক ভালো ডাক্তার, অ্যাথেনা ব্যাখ্যা করল। আমি ছবি শেষ হওয়ার পর তাকে নিয়ে সেখানে যাওয়ার কথা ভাবছি। বজ আমাকে খুন করতে চায়– যাতে ব্যাথেনি একা হয়ে যায়। কিন্তু আমি এমন সুযোগ দেব না। আমি তার জন্য যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। আমি থাকতে ব্যাথেনির জীবনে আর কোনো প্রকার আঘাত আমি মেনে নেব না। তারপর অ্যাথেনা কিছুক্ষণ বিরতি নিয়ে ক্রসের দিকে তাকিয়ে হাসল। এটা কি তোমার জন্য ভালো হবে বলে তুমি মনে করছ? ক্রস বলল।
