ক্রস ঠিক সূর্য উদিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জেগে উঠল। এই প্রথম তার জীবনে মাথাব্যথা অনুভব করল। বস্ত্রহীন অবস্থায় সে বারান্দায় গিয়ে একটি কাঠের চেয়ারে বসল। সে সাগরের ওপর সূর্যের বিচ্ছুরণ দেখতে লাগল। অ্যাথেনা একজন ভয়ানক নারী। সে তার মেয়ের হত্যাকারী এবং বিছানায় সে একজন দক্ষ নারী, যে তার শেষ দেখতে চেয়েছিল। ঐ মুহূর্তে সে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সে কখনও আর তাকে দেখবে না। যখন ক্রস ফ্রেস হয়ে পুনরায় বারান্দাতে এলো অ্যাথেনা তখন একটি ট্রেতে কেসিনিও, কফি এবং কমলা লেবুর জুস তার সামনে নিয়ে এলো। আমি তোমার জন্য বেকন এবং ডিম নিয়ে আসি, সে বলল।
বেশ, ক্রস বলল।
তুমি আবার কখন আসবে?
অ্যাথেনা জিজ্ঞেস করল।
লাস ভেগাসে আমার অনেক কাজ আছে, ক্রস বলল।
আমি তোমাকে আগামী সপ্তাহে ফোন করব।
অ্যাথেনা তাকে গভীরভাবে দেখল। তার মানে বিদায়, তাই নয় কি?
সে জিজ্ঞেস করল, সত্যিই গত রাতে আমি বেশ উপভোগ করেছি।
ক্রস মাথা ঝাঁকাল। তুমি তোমার চাহিদা পূরণ করেছ।
সে তখন মুগ্ধ করা হাসি দিল এবং বলল, তুমিও কম ছিলে না, তা কি ভেবেছ?
ক্রস হাসল, না।
সে পুনরায় গত রাতের কথা স্মরণ করল। গত রাতে তারা একসঙ্গে ঘুমিয়েছিল। সকালে তার শরীরে কোনো শক্তি নেই। আসলে তার সৌন্দর্য তার সমস্ত শক্তি কেড়ে নিয়েছে। তাই তার সম্পর্কে এক প্রকার ভয় কাজ করল। তাই বারবার গতরাতের দৃশ্যগুলো তার চোখের সামনে ভেসে উঠল তারপর অ্যাথেনা বলল, আমি জানি তুমি ব্যস্ত, কিন্তু তোমাকে কিছু দেখাতে হবে। তুমি কি সকালে থেকে বিকালের প্লেনে যেতে পারো? কারণ এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমি তোমাকে কিছু জায়গা দেখাতে চাই।
ক্রস কখনোই তার চাওয়াকে অপূরণ রাখেনি। আজকেও রাখতে চাইল না। তাই সে বলল, হ্যাঁ।
অ্যাথেনা মারসিডিস SL 300তে তাদের নিয়ে উঠল, তার পর সান্তাডিও’র দিকে ধাবিত হতে লাগল, কিন্তু পৌঁছার আগে তারা একটি শহরে পৌঁছল, তারপর তারা একটি পাতলা রাস্তা অনুসরণ করে পাহাড়ের পাদদেশ অভিমুখের দিকে যাওয়া আরম্ভ করল। পনের মিনিটের মধ্যে তারা বারবেড ওয়ারির কাছে এলো। সেখানে ছিল ছয়টি লাল ইট নির্মিত বাড়ি, যার দেয়ালে অনেক ছবি আঁকা। সেখানে ছিল একটি সবুজ মাঠ। মাঠে বিশ জন ছেলে মেয়ে বল খেলছিল। অন্য সবুজ মাঠটিতে আরো দশজন ঘুড়ি উড়াচ্ছিল। তিন থেকে চার দল যুবক তাদের খেলা দেখছিল। কিন্তু কিছু বিষয় আমার কাছে সন্দেহপ্রবণ মনে হয়। ছেলে-মেয়েরা বলের পেছনে দৌড়াছিল। অন্য দিকে তাদের একটি ঘুড়ি আকাশের নীলমায় হারিয়ে গেল। তারা আর ফিরে পেল না।
জায়গাটির নাম কি? ক্রস জিজ্ঞেস করল।
অ্যাথেনা তার দিকে আবেদনময়ী হয়ে তাকিয়ে থাকল। এখন তুমি শুধু আমার সঙ্গে থাকো। পরে তোমার প্রশ্ন শুনব। অ্যাথেনা প্রবেশ গেটে পৌঁছল এবং একটি সোনার আইডি ব্যাজ পরা নিরাপত্তা প্রহরী সে দেখল। গেটের মধ্য দিয়ে পার হয়ে তারা একটি বড় বিল্ডিংয়ের কাছে গাড়িটি পার্ক করল। যার এক পাশে ছিল অভ্যর্থনা টেবিল। অ্যাথেনা অভ্যর্থনাকারীকে মৃদু কণ্ঠে কিছু জিজ্ঞেস করল। ক্রস তার পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল কিন্তু সে গভীরভাবে তার উত্তর শুনল। সে খুব মুডে ছিল, তাই সে আর কোনো আগ্রহ দেখাল না।
ঘটনাটা কি? ক্রস জিজ্ঞেস করল।
কিন্তু অ্যাথেনা কোনো উত্তর করল না।
সে তার হাত ধরল এবং তাকে নিয়ে একটি বড় বিল্ডিংয়ের মধ্যে প্রবেশ করল।
প্রবেশপথে একজন সেবিকা তাদের নাম জিজ্ঞেস করল। যখন সে তা নোট করল। অ্যাথেনা ক্রসকে অন্য একটি বড় হলরুমে নিয়ে গেল দরজার পাশ দিয়ে। পরিশেষে সে একটি দরজা খুলল। তারা একটি সুন্দর বেড রুমে দাঁড়াল, যেটা লাইটে পরিপূর্ণ ছিল। সেখানেও অ্যাথেনার বাড়ির ওয়ালের মতো অদ্ভুত একই রকম ছবি আঁকানো ছিল। কিন্তু একটু ভিন্নতা ছিল, তা হলো মেঝেতেও বিভিন্ন প্রকার ছবি আঁকানো। ওয়ালের সঙ্গে একটি ট্রাক, ট্রাকে পুতুলের অনেক পোশাক।
একটি ছোট বেড যা বেগুনি রঙের কম্বল দ্বারা আবৃত। একটি সাদা বালিশ যার চারদিকে লাল কাপড়ের কাজ করা। কিন্তু বেড়ে কোনো শিশু নেই।
অ্যাথেনা হেঁটে একটি বড় বাক্সের দিকে গেল এবং বাক্সটির ঢাকনা উপরের দিকে তুলল। যখন ক্রস পাশ থেকে তাকাল, দেখল একটি শিশু শুয়ে আছে। সে তাদের দিকে লক্ষ্য করল না।
সে একটা দশ বছরের ছোট বালিকা, অ্যাথেনার যেন বিকল্প ছোট ছবি, কিন্তু তার মধ্যে কোনো অনুভূতি নেই এবং তার সবুজ চোখগুলো দেখতে পুতুলের মতো। ক্রস কিছুই বুঝতে পারল না। তাছাড়া সেই মুহূর্তে অ্যাথেনার তাদের দিকে কোনো প্রকার নজর দিল না।
অ্যাথেনা কাঠের তৈরি বাক্সের দিকে গেল। সে সুইচ নিয়ন্ত্রণ করল যাতে সে শিশুটিকে বাহিরে আনতে সক্ষম হলো। শিশুটির ওজন আছে বলে মনে হলো না।
অ্যাথেনা শিশুকে বুকে জড়িয়ে নিল এবং শিশুটির গালে চুমু খেল কিন্তু শিশুটির মধ্যে কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া দেখা গেল না।
অ্যাথেনা বলল, আমি তোমার মাম্মি। তুমি কি আমাকে আদর করতে পারবে না?
তার গলার স্বর ক্রসের হৃদয়ে গুলির মতো বিদ্ধ হলো। এটা ছিল এক প্রকার শোচনীয় অপরাধ স্বীকার। পরিশেষে অ্যাথেনা আস্তে করে শিশুটিকে মেঝেতে রাখল। শিশুটি কনুইয়ের ওপর ভর করে হামাগুড়ি দিয়ে একটি ছবি আঁকার বাক্স হাত নিল। সে ছবি আঁকতে নিমগ্ন হলো। ক্রস স্থির দাঁড়িয়ে থেকে অ্যাথেনা এবং শিশুটির সকল কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করল। সে শিশুটিকে আঁকতে সাহায্য করতে চাইল কিন্তু শিশুটির মধ্যে কোনো প্রকার সাড়া পেল না। অ্যাথেনা নিজেও একটি ব্রাশ নিল এবং তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করল, কিন্তু যখন শিশুটি দেখল, তখন সে অ্যাথেনার কাছ থেকে বাটি কেড়ে নিল। কিন্তু সে কোনো কথাই বলল না। পরিশেষে অ্যাথেনা পরিত্যাগ করল।
