যিশু এটা আমার জন্য বড় কষ্টের। সে তার প্রতি সমস্ত ক্ষমতা অর্পণ করল। তার মাথা নুয়ে গেল, সে কিছুটা হতবুদ্ধি হলো, আমি ভেবেছিলাম আমি তোমাকে পুনরায় কাজের মাধ্যমে পাব। এটা আমার দুর্বলতা, অ্যাথেনা বলল। তার পর সে তার মাথা ঘুরাল যাতে তাকে সরাসরি দেখা যায়। ক্লডিয়া আমাকে বলল, স্টুডিওর রিজেন্ট তাদেরই ছিল এবং আমার স্বামী নিজে নিজেই আত্মহত্যা করল। তুমি এটাকে চলচ্চিত্রে রূপ দেবে, যার জন্য তুমি একটি লভ্যাংশ পাবে।
ক্রসের চেহারার ছাপ পরিবর্তিত হলো। সে সবকিছু আয়ত্তে আনার আশা করল। সে তাৎক্ষণিক বিষয়গুলো কিছুটা অনুভব করল, আমি মনে করি আমি কোনো স্বনামধন্য ব্যবসায়ী নই। সে বলল, আমি তোমাকে সবকিছুই দিতে চেয়েছিলাম কিন্তু তুমি সে সময় আগ্রহী ছিলে না। ক্লান্ডার তোমার আবেদন লিখেছিল অ্যাথেনা বলল, সে খুবই ভালো, তুমি ইচ্ছে করলে তার সঙ্গে কাজ করতে পারো।
ক্রস মাথা ঝাঁকাল, এটা একটা রাজনীতির বিষয়, আমি এটা চলচ্চিত্রের ব্যবসার মধ্যে পেতে চাই এবং আমি লডস্টোনের স্টুডিওতে শত্রুতা বাড়াতে চাই না।
আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারতাম অ্যাথেনা বলল, আমি পুনরায় ছবির জগতে ফিরে আমাকে পরিত্যাগ করতে পারতাম। ক্রস একটি আতঙ্ক অনুভব করেছিল, যে তার জন্য এটা করতে চাইল। সে তার প্রস্তাবকে প্রস্তাব বিবেচনা করল। কিন্তু সে তা প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য ছিল। যদিও অ্যাথেনা খুব সুন্দরী ছিল কিন্তু তার অর্থ এটা নয় যে, সে চালাক ছিল না।
তুমি কেন এটা করতে চাও? সে জিজ্ঞেস করল। অ্যাথেনা চেয়ার থেকে উঠে জানালার কাছে দাঁড়াল, সমুদ্র সৈকতে বাদামি ছায়া নেমে এসেছিল, সূর্য ডুবে যাচ্ছে। সে অনুমান করল, তারপর সে জানালা দিয়ে নীল, কালো পানি এবং ছোট ছোট ঢেউ দেখছিল।
এতে একজন সুন্দরী মহিলার ভয় করার তেমন কিছু নেই। ক্রস জানত যদি সে সত্য সত্য উত্তর দিত, সে তাকে চিরদিনের জন্য হারাত। হঠাৎ সে তার বাহু তার শরীরের সঙ্গে লেপটে ধরল, তুমি খুবই সুন্দর, কেউ তোমার মতো এত সুন্দর না–আসলে মনে মনে সকলেই সুন্দরের পূজা করে।
না, সে বলল, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি না তুমি যা করিয়েছ। সে তার থেকে একটু দূরে গেল।
তাছাড়া বজের জন্য তোমার কোনো দায়িত্ব নেই ক্রস বলল, সে নিজে নিজেই ইত্যাদি হয়েছিল অ্যাথেনা মনে মনে তাকে অনুমান করে নিল। সে তার হাত ধরল, তুমি কি বিশ্বাস করো আমি বজকে হত্যা করেছি?
সে জিজ্ঞেস করল।
তারা হাসল। তারা দুজনেই নিজেদের নিষ্পপতা ঘোষণা করল। সে তার হাত ধরল এবং বলল, আমি তোমার জন্য রাতের খাবার তৈরি করছি এবং তারপর আমরা বিছানায় যাব। তারপর অ্যাথেনা খাবার তৈরি করিতে রান্নাঘরে গেল।
সে আর কতটা সময় রান্নাঘরে থাকবে? ক্রসের যেন আর দেরি সহ্য হচ্ছিল না। এই সুন্দরী রাণী গৃহিনীর কাজ করছে! তাও আবার একজন নারীর মতো। সে তার রান্না করা দেখল। সে রান্না করার সময় এক্সট্রা কোনো কাপড় পরিধান করেনি। তাছাড়া সে বেশ মনোযোগ দিয়েই রান্না করছে। অ্যাথেনা তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে কাজ করছিল। সে একা একা রান্না করে টেবিলের ওপর রাখল। সে তাকে একটি মদের বোতল দিল ঢাকনা খোলার জন্য। তারপর তারা আধা ঘণ্টা ধরে খাবার খেল। সে বলল, আমি ছোট খাটো সব কাজই কম-বেশি করতে পারি। কারণ একজন মেয়ে হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব। যখন অ্যাথেনা অভিনয় করে তখন সে অভিনেত্রী অ্যাথেনা একজন তারকা কিন্তু সে একজন সাধারণ গৃহিণী।
খাবারগুলো ছিল খুবই মজার। সবজি সঙ্গে গরুর মাংস, সালাদ আর তার সঙ্গে রুটি। তাছাড়া সেই সময় ঘরের মধ্যে সবুজ যেমন আলো ছড়াচ্ছিল, তেমনি সব মিলে তারা খুব দারুণ উপভোগ করল।
এই মুহূর্তে তোমার জন্য কোক দরকার। ক্রস বলল, আমার চাচাতো ভাই ভিনসেন্ট তার হোটেলে তোমাকে দাওয়াত করতে পারে। আহ! তাহলে বেশ মজা হবে। অ্যাথেনা বেশ রসিকতার সঙ্গে বলল।
রাতের খাবার খেতে খেতেই তারা একে-অপরকে স্পর্শ করে আসছিল। যার কারণে উভয়ের মধ্যেই যৌনতার আবেশ ছড়িয়ে পড়ল। তারা দুজনেই উন্মত্ততার চরম শিখরে অবস্থান করছিল।
বড় শোবার ঘরটি ছিল বাড়িটির এক পাশে এবং তার সঙ্গে ছিল এক বিশাল বারান্দা। যেখান থেকে সাগর দেখা যায়। তাছাড়া ঘরের প্রতিটি দেয়াল ছিল ছবিতে পরিপূর্ণ। তাই সবুজ আলোর ঝলকানিতে ঘরটিকে আরও বেশি মনোরম মনে হচ্ছিল। তখন কিছুক্ষণ পর তারা দুজনেই বারান্দাতে এসে দাঁড়াল। তারা বাইরের সবুজ প্রকৃতি উপভোগ করল, দেখল ম্যালিবুর বাড়িগুলো যেন সবুজ বৃক্ষের মতো দাঁড়িয়ে আছে। ছোট ছোট পাখিরা গান গাচ্ছিল, বৃষ্টি টপটপ করে করে ওয়াল ছেয়ে মাটিতে পড়ছিল।
অ্যাথেনা ক্রসকে জড়িয়ে ধরে, তার মুখে মুখ রাখল। তারা একে-অপরকে দীর্ঘক্ষণ ধরে আদর করল। তারা উভয়েই গরম শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া শুরু করল। তার পর অ্যাথেনা তাকে পুনরায় শোবার ঘরে নিয়ে গেল। সে খুব তাড়াতাড়ি পোশাক খুলে ফেলল, শরীর থেকে সবুজ ব্লাউজ, ব্ল্যাক আলাদা করে ফেলল। তার সাদা শরীর অন্ধকার রাতে জোছনা ছড়াল। সে এমনই সুন্দী ছিল ক্রস যেমন অনুমান করেছিল। তার শরীরের গন্ধ যেন বাতাসে ছড়িয়ে পড়ল, তার আহ্বানে যেন প্রকৃতিও পাগল। তারপর তারা দুজনেই উন্মত্ততার জোয়ারে ঘুড়ির মতো উড়তে লাগল। ক্রস নতুন করে ভালোবাসা গড়ল। কখনো এমন ভালোবাসা তার জীবনে আসেনি। সে তার শরীরের সমস্ত শক্তি হারিয়ে ফেলল। তারা পাশাপাশি শুয়ে এবং পুনরায় আরম্ভ করল। অ্যাথেনা ছিল পূর্বের চেয়েও বেশি সক্রিয়, আরো বেশি আবেগময়ী। তাদের মধ্যে যেন প্রতিযোগিতার ছন্দ বয়ে যাচ্ছে। পরিশেষে তারা অবসন্ন হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল।
