চার ঘণ্টা দেখার পর আতঙ্কিত হয়ে সে রোজ ম্যারিকে বলল, এমন সংসারে কি বাস করা সম্ভব, যেখানে যার মনে যা চায় তাই করবে! ঈশ্বর বা মানুষ কাউকে শান্তি দেবে না এবং জীবন চালানোর জন্য কারো কোনো উপার্জনের অধিকার নেই? এমন কোনো মহিলা আছে যে সব পাগলামি অনুসরণ করে? এমন কোনো দুর্বল পুরুষ কি আছে যে প্রতিটা ছোট আশায় বশীভূত হয়, প্রতিটা ছোট সুখের স্বপ্নে বিভোর হয়? কোথায় সেই স্বামী যে তার খাবারের জন্য পরিশ্রম করে। যে ভাগ্য ও নিষ্ঠুর পৃথিবী ভালো উপায় নিয়ে ভাবে? কোথায় সেই মানুষ যে বুঝে। একটু করা পনির, এক গ্লাস মদ ও দিনের শেষে একটা উষ্ণঘর যথেষ্ট পাওয়া? কারা সেই লোক যারা কিছু রহস্যময় মুখের জন্য আকুলভাবে আকাক্ষা করে থাকে? কি হৈচৈ তাদের জীবনে তৈরি করে নেয়। ডন তার মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে সমর্থন জানালেন। তিনি টিলিভিশনের পর্দায় দুলনী বন্ধ করে দিলেন। তিনি বললেন, তাদের সম্পর্কে সাগরের তল থেকে সাঁতারের অনুমুতি দেয়া হলো। তারপর সে তার প্রজ্ঞার শেষ অংশটুকু দিলেন। প্রতিটা মানুষ যা করে তার জন্য সে নিজেই দায়ী।
ডন সেই রাতে তার শোবার ঘরে একাকী ছিল। সে তার বেলকনিতে বের হলো। ঘরগুলো ছিল উজ্জ্বল আলোয় আলোকিত।
সে টেনিস খেলায় টেনিস বলের শব্দ শুনতে পেল এবং দেখল আলোর কিনারের খেলোয়াড়দের। অনেক দেরিতে বিধায় বাইরের এই খেলায় কোনো শিশু ছিল না। তিনি গেটে ও বাড়ির চারদিকে রক্ষীদের দেখতে পারলেন।
ভবিষ্যতের দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য কি পদক্ষেপ তিনি নিতে পারেন তা নিয়ে তিনি ভাবছিলেন। তার মেয়ে ও নাতির জন্য তার ভালোবাসা তার মধ্যে জেগে উঠল, যা তাকে যথার্থ সময়ে বুড়ো করে দিয়েছিল তাকে। কতটা ভালো করতে পারত সে সাধারণভাবে তাদেরকে রক্ষা করত। পরে তার নিজের সাথে তিনি রাগান্বিত ছিলেন। কেন তিনি সব সময় দুর্ঘটনার খবর অগ্রিম জানছিলেন? তিনি অবশ্যই তার জীবনে সকল সমস্যার সমাধান করবেন এবং এই একটি সমাধানও তিনি করলেন। এখন তার মন পরিকল্পনায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। তিনি সিনেটরের কথা ভাবছিলেন। বৈধতা নিশ্চিত করতে আইন পাসের জন্য লোকটাকে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার দেয়া হয়েছিল বছর বছর। কিন্তু সিনেটর ছিল নীতি বিবর্জিত লোক। এটা খুবই খারাপ। গ্রোনিভেল্ট তখন জীবিত ছিলেন না। ক্রস ও জর্জিও দরকারি দক্ষতা তাকে উৎসাহিত করার অধিকার ছিল না। সম্ভবত জুয়া খেলার বিষয়টা কখনো পাশ কাটায় তারপর তিনি তার পুরনো বন্ধু ডেভিড রেডফেলোর কথা ভাবল। যে এখন রোমে খুব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছে। সম্ভবত এটা ছিল তাকে পরিবারে ফিরিয়ে আনার সময়। তার হলিউডের পার্টনারের প্রত্যাবর্তনের দাবি না করা ক্রসের জন্য সবদিক দিয়ে খুব ভালো ছিল। সে জানত না যে, দুর্বলতার একটা লক্ষণ অবশ্যই ভয়াবহ কিছু হবে। ডন সিদ্ধান্ত নিয়ে বোম থেকে ডেভিড রেডফেলোকে ডেকে পাঠাল ছবির ব্যবসা সম্পর্কে কোনো কিছু করার জন্য।
.
১১.
বজ স্কানেটের মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর ক্রস অ্যাথেনা একই ট্রেনে ম্যালিবু বাসাতে দাওয়াতে ক্লডিয়াকে কাছে পেল।
ক্রস ভেগাস থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসে এ পাড়ি জমাল। তার পর তারা গাড়ি ভাড়া নিয়ে ম্যালিবু কলোনিতে পৌঁছল। সেখানে বিশেষ কোনো নিরাপত্তা প্রহরী ছিল না। যদিও সেখানে অতিথি হাউজে নিরাপত্তা প্রহরী ছিল, তারা তাকে পরীক্ষা করে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দিল। সে লংজিটিভ ডিনাল বাগানের মধ্য দিয়ে হেঁটে সমুদ্র সৈকতের উপরের বাড়িতে পৌঁছল। সেখানে একজন দক্ষিণ আমেরিকান কুমারী পরিচালিকা ছিল, তাকে সুন্দর শয়ন কক্ষটি দেখাল। যা তার কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের ঢেউয়ের মতো মনোরম মনে হলো।
অ্যাথেনা তার জন্য অপেক্ষা করছিল এবং তাকে অন্য দিনের তুলনায় খুবই সুন্দর দেখাচ্ছিল। সে সবুজ ব্লাউজ ও স্নেক পরেছিল, তার সৌন্দর্যের কাছে সাগরের সৌন্দর্য যেন কুয়াশার মতো বিলীন হয়ে যাচ্ছে, সে তার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল, তারপর হাত মিলিয়ে স্বাগত জানাল কিন্তু হলিউডের মতো তার গালে চুম্বন করল না।
সে পানীয় প্রস্তুত করে তার হাতে দিল। এটা ছিল এক প্রকার লেবু মিশ্রিত ইডার্ন পানীয়। তারপর তারা সবুজ টাকশাল গদিসম্পন্ন চেয়ারে বসল। তখন হেলে যাওয়া সূর্য সোনার মুদ্রার মতো রুমের মধ্যে আলো ছড়িয়ে দিচ্ছিল।
ক্রস তার সৌন্দর্যের প্রতি এতই সতর্ক ছিল যার কারণে সে তার মাথা সরিয়ে নিল যাতে তাকে দেখা যায়।
সোনালি চুল আর দুধের সরের মতো ত্বক, চেয়ারে ছড়ানো তার লম্বা দেহ– সব কিছুই ক্রসের রঙিন চোখে আরো রঙিন হয়ে উঠল। তাকে কিছুটা মালবাহী জাহাজের ছায়ার মতো দেখাল। অ্যাথেন কোনো কিছুর প্রতি মোটেই সতর্ক ছিল না। সে একটি উদ্দেশ্যের দিকে ধাবিত হচ্ছিল। সে একটু একটু করে পান করল এবং শান্তভাবে বলল, আমি তোমাকে ধন্যবাদ দিতে চেয়েছিলাম, আমাকে চলচ্চিত্র ব্যবসায় আনার জন্য। তার গলার স্বরে পুনরায় ক্রস তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হলো। তার কথায় আহ্বান ছিল না। কথাগুলো ছিল আত্মবিশ্বাস পূর্ণ, যা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গরম করে ফেলল। যাতে সে তার সঙ্গে কথা বলতে না চায়।
