অ্যাথেনা বিস্মিত না, কারণ তুমি অবশ্যই চলচ্চিত্র জগত ছাড়বে না সে বলল, সে মনে করে, স্টুডিও তোমাকে বোঝে না কিন্তু সে বোঝে। আর সে কারণেই সে তোমার সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করতে চাচ্ছে। সে মনে করে যে শুধু তোমারা দুজনই আঘাত করতে পার।
স্কানেটের মুখে মুহূর্তের মধ্যে আনন্দ দেখে সে বুঝল যে, ক্রস সঠিক ছিল। এই অভিনেতা এখনো ভালোবাসায় মগ্ন। সে এখন ছবি বানানোর জন্য গল্প কেনায় ব্যস্ত আছে।
বজ স্কানেট হঠাৎ সতর্ক হলো। এটা অ্যাথেনার স্বরের মতো না। সে আমার পাশে দাঁড়াতে পারে না, আমি তাকে ধিক্কার জানাতে পারি না। সে হাসল। আমার প্রয়োজন এর চেয়ে সুন্দর মুখশ্রী।
পোলার্ড বলল, আমি একটা জমকালো সুযোগ পেতে চাই। যা আমাকে আজীবন আর্থিক যোগান দেবে। আর বাকি জীবনের উপার্জনের একটা অংশ তুমি চাইলে পাবে। কিন্তু আমি তোমার সাথে ব্যক্তিগত ও গোপনভাবে কথা বলতে চাই। অন্য রকম কিছু পেতে চাই।
সে কি চায় আমি জানি, স্কানেট বলল। স্কানেটকে উৎসাহব্যঞ্জক দেখাচ্ছিল।
সাতটা বাজে পোলার্ড বলল, আমার দুজন লোক তোমাকে মিটিংয়ে নিয়ে যাবে। তারা আমার দেহরক্ষী হিসেবে অবস্থান করবে।
স্কানেট হাসল। আমার সম্পর্কে তুমি উদ্বিগ্ন হয়ো না, সে বলল।
সত্য বলে পোলার্ড চলে গেল।
দরজা বন্ধ করে স্কানেট তার ডান হাত উপরের দিকে উঠাল। সে অ্যাথেনাকে শর্টকাট পোশাক পরা অবস্থায় আবারও দেখল। মিটিংয়ের প্রথমে আমার কারণেই সে এমনভাবে অ্যাথেনাকে দেখতে পেল।
বাকি দিনটা সে তাদের পুনরায় একত্র হওয়ার স্বপ্ন দেখল। আরো এটা ভেবেই সে আরো একটু বিস্মিত হলো।
আর এটাও ভাবল, অ্যাথেনা তার দাম বাড়ানোর জন্য শরীর ব্যবহারও করতে পারে। কিভাবে তাকে আবার তার কাছে পাবে এটা কল্পনা করতে করতে বিছানায় সে সাদা তুক, তার অসাধারণ স্তনযুগল, তার চোখ দুটি এতো নীল যে, মনে হয় আলাদা কোনো আলো। তার আকর্ষণীয় মুখশ্রী ঢেউ খেলানো চুল যেন সূর্যের আলোতে ঝলমল, ধোয়ার আঁকা রাতের আকাশ। ভাবতে ভাবতে তার ভেতর পুরনো প্রেম জাগ্রত হলো। ষোল বছর বয়সের সময় অ্যাথেনার প্রতি সে আসক্ত হয়ে যায়। সে সময় সে ছিল সুখী। আর তাকে সেও ভালোবাসত।
এন্ড্রিও পোলার্ড বিস্ময়ের সাথে তাকে অভ্যর্থনা ও কিছু উষ্ণ অভিনন্দন জানাল। স্কানেট তাকে পুনরায় আশ্বস্ত করল।
আমি তোমাকে বলতে চাই, আমার গাড়িতে করে তোমাকে মিটিংয়ে নিয়ে যাব। তোমার লোজনও আমার সাথে যেতে পারে, তারা আমাকে নির্দেশনা দেবে।
পোলার্ড একটু কাঁধ ঝাঁকাল। এটা তার ব্যবসায়ের কাজ নয়। সে যে কাজের নির্দেশনা পেয়েছে সে কাজই সে করেছে। সুন্দর সে বলল, কিন্তু তোমাকে অবশ্যই আমাকে ডাকতে হবে।
স্কানেট হাসল, অবশ্যই কিন্তু আমি তোমার অফিস চেক করতে চাই। তাছাড়া আমি অ্যাথেনাকে কাজে যোগদানের নিশ্চয়তার জন্য তাকে ডাকতে চাই। আমার জন্য তুমি তাকে ফোনে পেতে পারো। কিন্তু আমার কল সে ধরবে না।
অবশ্যই পোলার্ড আগ্রহভরে বলল। সে রিসিভার তুলে নিল। সে জানাল অ্যাথেনা তার সাথে সরাসরি কথা বলবে না।
সে ডায়াল করে অ্যাথেনাকে চাইল। স্কানেট যাতে শুনতে পায় সেজন্য লাউডস্পিকার অন করল। অ্যাথেনার সেক্রেটারি তাকে বলল যে, মিস অ্যাকুইটেন বাইরে আছে, এক সপ্তাহের মধ্যে তার ফেরার সম্ভাবনা নেই। রিসিভার রেখে সে স্কানেটের দিকে তাকাল। তখন স্কানেটকে বেশ সুখী দেখাচ্ছিল।
ভাজি তাকে নিয়ে দরজা খুলল। সেই সময় স্কানেট দেখল অনেকগুলি গাড়ি ভেতরে প্রবেশ করছে। সে ভাবল, অ্যাথেনা এলো হয়তো। সে দেখল গাড়িগুলো পার্কিং হচ্ছে। আর দুজন করে লোক প্রত্যেক গাড়ি থেকে বের হচ্ছে। লিয়া ভাজি তাকে বড় ফায়ার প্লেসের দিকে বড় কামরায় নিয়ে গেল। সেখানে বড় সোফায় একজন লোক তার জন্য অপেক্ষা করছিল, সে তাকে কখনো দেখেনি। লোকটি ছিল ক্রস ডি লিনা।
পরের ঘটনা খুব তাড়াতাড়ি ঘটল। স্কানেট রাগান্বিতভাবে বলল, অ্যাথেনা কোথায়? পরে দুজন লোক তার বাহু আঁকড়ে ধরল, অন্য দুজন লোক মাথায় আঘাত করল। লিয়া ভাজি তার পা দুটি ধরে টানল যাতে ফ্লোরে পড়ে যায়।
ভাজি বলল, যেমন তুমি বলেছিলে, তেমন যথাযথভাবে না করতে পারলে তুমি এখন মরে যেতে পারো। যুদ্ধ করো না, শুয়ে থাকো।
একজন লোক স্কানেটের পা একত্রে করে শিকল দিয়ে বেঁধে দিল। পরে তাকে টেনে তাদের পায়ের কাছে আনল। যাতে সে ক্রসের মুখোমুখি হতে পারে। তার বাহু ছেড়ে দেবার পরও সে কত অসহায়। তাকে বাধার ফলে তার শারীরিক শক্তি লোপ পেয়েছিল।
ভাজি বলল, আমরা জানি তুমি একজন বিদ্রোহী লোক। কিন্তু এখন শুধু তুমি তোমার মানসিক কাজটুকু সম্পন্ন করতে পারবে। শারীরিক শক্তি এখন তুমি ব্যবহার করতে পারবে না।…
স্কানেট তার উপদেশ দিয়ে যাচ্ছিল। সে কঠিন কিছু ভাবছিল। তারা তাকে হত্যা করতে চাইলে তারা তা অবশ্যই পারবে। অ্যাথেনাকে বাঁচতে হলে তাকে অবশ্যই কিছু করতে হবে। এই বিষয়ে সে নিশ্চিত ছিল। অ্যাথেনা এই কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়। সে ভাজির প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে সোফায় বসা অন্য লোকদের দিকে ঘুরে বসল।
তোমরা কে? সে বলল।
ক্রস বলল, আমার কিছু বিষয় আছে, আমি চাই তুমি তা করবে। আর তার পরেই তুমি বাড়িতে যাবার অনুমতি পাবে।
