ম্যাজিস্ট্রেট সিসিলির বড় শহরে সর্বদা তার আনাগোনো অব্যাহত রাখল। প্রত্যেক অপরাধীর হুকুমনামা সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি শুরু করল। লিয়া ভাজি যে মাফিয়া চক্রের সদস্য। সে সরকারিভাবেই পূর্ব থেকে জ্ঞাত ছিল। তাই তাকে ধরামাত্র গুলি করার আদেশ ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর দেওয়া হলো। কারণ সরকার যে কোন কিছুর বিনিময়ে সিসিলিকে অপরাধমুক্ত করতে চায়।
তারপর ক্লেরিকুজিও পিপি ডি লিনাকে সিসিলিতে পাঠাল। ডনের বিশ্বাস ছিল আমার দলভুক্ত কোনো লোক এমন অপরাধ করতে পারে না, যাতে করে তারা পুলিশি হয়রানির স্বিকার হতে পারে। তাই সে ব্যাপারে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য, পিপি ডি লিনাকে ডন বলে দিল। ইতিমধ্যে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে অনেককে জেলখানায় পাঠানো হলো।
সিসিলির সব মাফিয়া চক্র ভয়ে আত্মগোপন করার জন্য উঠে পড়ে লাগল। তাদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় মেয়রের সাহায্য কামনা করল। প্রকৃতপক্ষে মেয়র কম-বেশি মাফিয়া চক্রের সঙ্গে জড়িত ছিল। পিপি মেয়রের সঙ্গে তাড়াতাড়ি কিছু করার জন্য জোর তাগিদ করল। মেয়র পিপিকে বলল, তুমি তোমার লোকজনের নামের তালিকা আমার কাছে পাঠাও, দেখি কি করা যায়।
যদি তারা বিয়ে করত, আজ তাদের কমপক্ষে একটা সন্তান থাকত। তাহলে তারা মেয়র কর্তৃক অনেক কিছু করার সুযোগ পেত। সে তা নিজেই। ব্যাখ্যা করল। যদিও লোকটি যথেষ্ট ইয়াং। কিন্তু সে আমেরিকার কালচারের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি অনেকে বৃদ্ধ হওয়ার পরও আমেরিকার কালচারের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেনি। যদি তাদের কমপক্ষে একজন সন্তান থাকত, তাহলে তারা আরো বেশি সুযোগ-সুবিধা পেত।
অনেকেই আছে যারা নিজেকে না মানাতে পারার কারণে আমেরিকার ত্যাগ করে সিসিলিতে চলে গেছে। অনেকেই শত সমস্যার মধ্যেও আমেরিকাতেই আছে। চালাক প্রকৃতির কিছু লোক ক্লেরিকুজিও’র সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে শত সমস্যার মধ্যেও সেখানে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।
সপ্তাহ শেষে পিপি কুওগুতে বসবাস করে এমন বিশ জনের নামের তালিকা মেয়রের কাছে পেশ করল। সে তাদের অনুমোদন করল, ইমিগ্রেশনের যাবতীয় ব্যবস্থা করল। নামগুলোর মধ্য থেকে মেয়র একজনের নাম কেটে দিল।
পিপি বলল, আমি মনে করি সে আমাদের জন্য পারফেক্ট। আমি কোনো ভুল করেছি?
না, না, মেয়র বলল, তুমি সব সময় যে কোনো কাজে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দাও।
পিপি কিছুটা খুশি হলো, তার দেওয়া সব তথ্যই ভালোভাবে গ্রহণ করা হলো। তার মধ্যে একজন মানুষ এপার্টমেন্ট পেল, বিবাহ করা লোকটি একটি ছোট বাড়ি পেল। বাকি সবাই চাকরি পেল। তারা সবাই ব্রঙ্কস এনক্লেভে বাস করত। তাছাড়া সবাই ক্লেরিকুজিও পরিবারের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত ছিল। যে মানুষটির নাম মেয়র কেটে দিল, সে মানুষটি আসলেই খারাপ প্রকৃতির ছিল। যা ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে পরিষ্কারভাবে বোঝ গিয়েছিল। মেয়র তাকে বুঝতে পেরেছিল। তার মনের কথা খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করেছিল।
তুমি আসলেই সিসিলিয়ান, মেয়র বলেছিল। যে মানুষটির নাম আমি কাটলাম তার সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ের কথা ছিল। আমি আমার মেয়ের সুখের জন্য তার সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি হয়েছিলাম। আর এই কারণেই আমি তার নাম কাটলেও তার ইন্টারভিউ প্রত্যাখ্যান করেছিলাম না। আরেকটি কারণ হলো আমি যা মনে করি, তারই প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করি। তাতে তোমরা আমাকে কি মনে করো, তা আমার ব্যাপার না।
অবশ্যই, পিপি বলল।
মেয়র বলল, আমি তোমার খারাপ কিছু করতে চাইনি। কিন্তু এটা বিশেষ কেউ, তাকে অবশ্যই তাড়াতাড়ি স্থানটি ত্যাগ করতে বলল।
তুমি জানো, আমি সবকিছুতেই খুব সাবধানতা অবলম্বন করি। যা আমি ক্লেরিকুজিও’র কাছ থেকেই শিখেছি।
এটা তোমার ব্যাপার, মেয়র বলল, কিন্তু এটা একটু বিপজ্জনক। তারপর সে লিয়া ভাজির ব্যাপারটা লক্ষ্য করল। ব্যাপারটাকে আমি মূল্যায়ন করলে ক্রস ও তুমি সমস্যার সম্মুখীন হবে। যদিও ব্যাপারটাকেও প্রমাণিত করতে পারবে না। তারপরও ভাজির ওপর অর্পিত হতো? ক্রস বলল।
মেয়ের বলল, ইয়াং ম্যান, এই হলো সিসিলি। তাছাড়া পুলিশগুলো ছিল সিসিলিয়ান। এমনকি ম্যাজিস্ট্রেট ও সিসিলিয়ান। সবাই জানে এটা ছিল লিয়া ভাজি। কিছু মনে নিও না, এটা হলো আসল কথা।
যদি সে তাদের হাতে ধরা পড়ত। সে মারা যেত। পিপি বলল, তুমি তাকে দেশের বাইরে আমেরিকাতে পাঠাতে পারো।
হ্যাঁ, পারি মেয়র বলল, কিন্তু আমেরিকাতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে
পিপি বলল, তার মানে বোঝা যাচ্ছে তার আর অনেক সমস্যা আছে।
মেয়র মাথা ঝাঁকাল, সে আমার বন্ধু আমি স্বীকার করি। কিন্তু আমি তাকে একটু দূরে সরিয়ে রাখি। সে যথেষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ, সে যথেষ্ট চালু, সে সর্বদাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসা করতে পারে। সে সব কিছুই বোঝে, তাছাড়া সে সবকিছুইতে দক্ষ। তার ছুরি আর বন্দুকই হলো তাঁর একমাত্র অভিশাপ। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সে যথেষ্ট বুদ্ধিমান। সে কথা কম বলে আর বেশি শুনে। এখন বলল, তুমি কি কোনোভাবেই তার কাজটি করতে পারো না?
আমার কথার উত্তর দাও, পিপি বলল, কেন একজন মানুষ এভাবে জীবনযাপন করবে?
কারণ তার গুণের চাইতে দোষ বেশি।
মেয়র বলল, সে বিজ্ঞ, সে ভাগ্য বিশ্বাস করে না, এটাই তার আসল ঘটনা।
