ক্রস অপারেশন করার জন্য তিন জন লোক ঠিক করল। প্রথম জন ছিল এন্ড্রিও পোলার্ড, যে ওশেন পেসিফিকে নিরাপত্তা প্রহরীর কাজ করত–দ্বিতীয়ত ছিল লিয়া ভাজি, যে ক্লেরিকুজিও নেভেদা মাউনটেনের হান্টিং লজের কেয়ারটেকার ছিল আর তৃতীয় জন ছিল লিওনার্ডো সোসা, যে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য ছিল। তারা সবাই ক্রস ডি লিনার আয়ত্তে এসেছিল।
দুদিন পর ক্রস ডি লিনার কাছে প্রথম জন ফোন করল। আমি শুনেছি, তোমার কাজ বেশ কঠিন।
ক্রস বলল, তুমি কিভাবে সামান্য ছুটিতে ভেগাসে আসবে? আমি তোমার জন্য বিশেষ রুশ খাবার ব্যবস্থা করেছি। তুমি ইচ্ছে করলে তোমার বউকে সঙ্গে আনতে পার। তাছাড়া তুমি আমার সঙ্গে গল্প করার জন্য আমার অফিসেও আসতে পারো। ধন্যবাদ পোলার্ড বলল, আমি তোমার প্রতি বেশ খুশি, এবার বলো আগামী সপ্তাহে এলে কেমন হয়?
অবশ্য হ্যাঁ, ক্রস বলল, কিন্তু সেই সময় আমি শহরের বাইরে থাকব। আমি তোমাকে মিস করব।
তাহলে আমি আগামীকাল আসব। পোলার্ড বলল, ঠিক আছে। আসো।
তারপর পোলার্ড কিছুক্ষণ চিন্তাভাবনা করল– পরে সিদ্ধান্ত নিল সে এখানে আসবে।
লিওনার্ডো সোসা মানুষের মৃত্যু খুব বেশি উপভোগ করে। সে সূর্য উপভোগ করে, সে সূর্য ডোবা উপভোগ করে। সে ঘাসের উপর শিশির বিন্দু উপভোগ করে। সে আরো পছন্দ করে সুন্দরী নারী আর চালাক ছেলে-মেয়ে। সে আরো উপভোগ করে মদ, চিস শুকনা রুচি।
আজ থেকে বিশ বছর আগে সান্তাডিও পরিবারের জন্য এফ.বি.আই তাকে আটক করেছিল। তার বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ, রেপ ইত্যাদির অভিযোগ ছিল। যার কারণে তাকে খুব কম বয়সে জেলে যেতে হয়েছিল। তাছাড়া সে অপরাধ করতে বেশ মজা অনুভব করত। সে কোনো কিছু করতে কোনো প্রকার দ্বিধা-দ্বান্তে ভুগত না। আর এই সব কাজে লিওনার্ডো সোসা তার সঙ্গে জড়িত ছিল। লিওনার্ডোর দক্ষতা ছিল তার চেয়ে অনেকাংশে বেশি। তারা সব সময় ক্লেরিকুজিও পরিবারের জন্য হুমকির বার্তা বয়ে এনেছিল।
জানাদু হোটেল ছিল খুবই লাভজনক। জানাদু হোটেলে মূল মালিক মারা যাওয়ার পর সোসা সামান্য টাকার বিনিময়ে হোটেলের মালিক হয়ে যান। যদিও মূল মালিকের কাছ থেকে কোনো প্রকার দলিল করতে পারছিল না। কিছুদিন পর সরকারি ভেটের টাকার অভাবে হোটেলটি তার হাতছাড়া হয়।
তারপরেও সোসা দীর্ঘ বিশ বছর দাপটের সাথে উপভোগ করেছিল এরপরেও ম্যালিবুতে তার একটা সুন্দর বাড়ি ছিল। বাড়ির চারদিকে ফুলের বাগান, সে খুব আনন্দের সাথে ও জীবনের বাকি সময়টা অতিক্রম করছিল। জীবন চরিত্রে সে আসলেই খুব মজা উপভোগ করত।
লিয়া ভাজি আমেরিকায় ক্লেরিকুজিও নাভাদা প্রদেশের হান্টিং লজের কেয়ারটেকার ছিল।
যখন তার বয়স ত্রিশ বছর এবং সে ভালো ইংরেজি বলতে পারত, তখন থেকেই সে হান্টিং লজের কেয়ারটেকারের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিল। মূলত সে ছিল প্রভাবশালী ঘরের আয়ারল্যান্ডের অধিবাসী।
তারপর সে রোমে কিছুকাল সরকারি অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিল। পথিমধ্যে তার সঙ্গে একদিন ডনের সাক্ষাৎ হয়, ডন তাকে তার সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিলে সে কিছুদিন চিন্তা-ভাবনার পর তার সঙ্গে হাত মিলায়। পরে ডন তাকে হান্টিং লজের কেয়ারটেকারের দায়িত্ব পালন করার জন্য তাকে আদেশ দেয়। ঠিক তখন থেকেই আজ পর্যন্ত সে কেয়ারটেকারের দায়িত্বে আছে।
লিয়া ক্রসের দিকে তাকাল তারপর পিপিকে বলল, তোমার একটা পুত্র সন্তান আছে। তাকে তুমি কিভাবে সেভ করবে? আমি আমার স্ত্রী এবং সকল ছেলেমেয়েকে ভালোভাবে নিরাপদে রেখেছি। তাই আমি সব কাজ চিন্তামুক্তভাবে করতে পারি। আমাদের সবার বিপদ আছে। পিপি বলল, তোমাকেই বুঝতে হবে। আমি আমার নিজেকে নিরাপদে রেখেই সব কিছু করতে পারি। লিয়া মাথা ঝাঁকাল। আমি তোমার ব্যাপারে অবগত। পিপি বলল, তুমি যদি তোমার নিজের জন্য আসো তাহলে এটা করা সহজ হবে।
না, লিয়া ভাজি বলল, আমার পরিবার বাঁচতে হলে বাঁচবে, মরতে হলে মরবে, তবে অবশ্যই একসঙ্গে।
আস্তে আস্তে রোম আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে আসছে। তাই আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তা ত্যাগ করতে হবে। সমস্যা শুধু তোমার একার না, তোমার পরিবারেরও। ভাজি মাথা ঝাঁকাল, আমেরিকা অনেক বড়। সে বলল, ক্রস বললে আমরা তাড়াতাড়ি স্থানটি ত্যাগ করতে পারি।
না, ক্রস বলল, আমি সব কিছু বুঝেশুনেই করতে চাই। তোমরা এত ব্যস্ত হইও না, আমি তোমাদের অবশ্যই সময়মতো অবগত করব।
সরকার রোমে কিছু ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করল, এবং তাদের কিছু অতিরিক্ত ক্ষমতা প্রদান করল, যাতে তারা সিসিলির সমস্ত মাফিয়া চক্রকে শাস্তি প্রদান করতে পারে। ম্যাজিস্ট্রেট তার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে পারারমোতে এলো নিরাপত্তার জন্য, সঙ্গে অত্যাধুনিক অস্ত্র এবং পুলিশ নিয়ে এলো। সে সিসিলির আইন ভঙ্গকারীদের জোর হুঁশিয়ারি সংকেত দিত। এতে করে ইতালি সিসিলিতে বসবাসকারী প্রত্যেকেই হুমকির মুখে পড়ে গেল, এমনকি লিয়া ভাজিও ব্যক্তিগতভাবে বিপদের সম্মুখীন হলো।
ম্যাজিস্ট্রেট সারা দিনরাত্রি চারিদিকে কড়া পাহারার ব্যবস্থা করল। সে অপরাধী পাওয়ামাত্র বন্দি করার আদেশ দিল। তার নিজ বাড়িতে আর্মির দ্বারা কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করল। লিয়া ভাজি অনেক আগে থেকেই তার সম্পর্কে অবগত ছিল। তাই সে কোনোভাবেই তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারল না।
